Templates by BIGtheme NET
১২ ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং , ২৯ জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিজ্ঞান- প্রযুক্তি » দেহের ক্ষত সারাতে ও রোগ প্রতিরোধে সক্ষম !
জীবিত রোবট ‘জেনোবট’

দেহের ক্ষত সারাতে ও রোগ প্রতিরোধে সক্ষম !
জীবিত রোবট ‘জেনোবট’

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ১৬, ২০২০, ১:৩৩ অপরাহ্ণ

বিশ্বের প্রথম জীবিত রোবট তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। নাম দিয়েছেন জেনোবট। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্ট ও টাফটস ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক রোবটটি তৈরী করেছেন।

এ গবেষণা প্রতিবেদনটি সম্প্রতি প্রোসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসে প্রকাশিত হয়েছে। এই রোবটকে জীবিত বলার কারণ, এটি তৈরী হয়েছে একটি জীবিত প্রাণীকোষের সঙ্গে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে।

আফ্রিকান এক প্রজাতির ব্যাঙের ভ্রূণ থেকে জীবিত স্টেম সেল সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের প্রথম এই রোবট

জেনোবট কোনো গতানুগতিক রোবট নয়, আবার কোনো সাধারণ প্রাণিও নয়। এরা হলো ‘জীবন্ত যন্তু’। এরা একই সঙ্গে জীবন্ত এবং যন্ত্রের মতো প্রোগ্রামযোগ্য।

জীবন্ত এ রোবটগুলো হাঁটতে পারে, সাঁতার কাটতে পারে। বাড়তি খাবার সরবরাহ ছাড়াই টানা কয়েক সপ্তাহ দিব্যি টিকে থাকতে পারে। এরা কাজ করে দলবদ্ধভাবে।

এ রোবটের প্রস্থ ১ মিলিমিটারেরও কম। আর এদের পরিচালনা করতে ব্যবহার করা হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। তাছাড়া গাঠনিক দিক থেকেও জেনোবটগুলো প্রচলিত রোবটের মতো নয়। এদের কোনো চকচকে গিয়ার বা রোবটিক বাহু নেই। দেখতে গোলাপী রঙের চলন্ত ক্ষুদ্র মাংসপিণ্ডের মতো

যেভাবে কাজ করে এ রোবট

স্টেম সেলকে বলা হয় শরীরের আদি কোষ। কোন রোগ বাসা বাঁধে এই কোষের ভেতরেই আবার রোগ প্রতিরোধের ওষুধও কাজ শুরু করে কোষের ভেতর থেকেই। এ পদ্ধতিকে বলে স্টেম সেল থেরাপি।

জীবন্ত এই রোবটগুলো যে কোনো অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ক্ষত দ্রুত সারাতে ও কোষের ভেতরে গিয়ে রোগ প্রতিরোধ করতে এই রোবট ব্যবহার করা সম্ভব।

উনিভার্সিটি অব ভারমন্টের গবেষক জশুয়া বনগার্ড বলেন, এ রোবট এমন কিছু কাজ করতে সক্ষম যা স্টিল বা প্লাস্টিকের রোবট দিয়ে সম্ভব নয়। জেনোবট একটি জৈবিক মেশিন বলে পরিবেশবান্ধব ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ

কি কি কাজ করা সম্ভব?

তেজস্ক্রিয় বর্জ্য অপসারণ, সমুদ্র থেকে আনুবীক্ষণিক আবর্জনা (মাইক্রোপ্লাস্টিক) পরিষ্কার, মানবশরীরের ভেতরে ওষুধ পরিবহণ, এমনকি ধমনীতে সাঁতরে রক্তের অনাকাঙ্ক্ষিত বস্তু অপসারণেও জেনোবট ব্যবহার করা যাবে।

জলীয় পরিবেশের মধ্যে জেনোবটগুলো বাড়তি খাদ্য সরবরাহ ছাড়াই কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ বেঁচে থাকতে পারে। ফলে শরীরের ভেতরে নির্দিষ্ট প্রত্যঙ্গে ওষুধ পৌঁছে দেয়ার কাজটি নিশ্চিন্তে করা যাবে।

জেনোবটগুলো গবেষকদের কোষ জীববিজ্ঞান সম্পর্কে আরো জানতে সহায়তা করবে বলে আশাবাদী উদ্ভাবকরা। তাছাড়া ভবিষ্যতে মানুষের স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুতে অগ্রগতি আনতে নতুন দ্বার উন্মোচন করবে জেনোবট উদ্ভাবন।

গবেষকরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী ত্রিমাত্রিক জৈবিক কাঠামো তৈরি করতে পারলে মানুষের অনেক জিনগত ত্রুটি ভ্রণাবস্থাতেই সারিয়ে তোলা যাবে।

শরীরের অস্বাভাবিক কোষগুলোকে ( টিউমার) পুনরায় স্বাভাবিক কোষে রূপান্তর করা যাবে। আঘাতজনিত বা ক্ষয়জনিত রোগের নিরাময় এমনকি বার্ধক্যকেও পরাজিত করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

16 + 14 =