Templates by BIGtheme NET
২৮ আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১২ জুলাই, ২০২০ ইং , ২০ জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী
Home » অর্থনীতি » যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রথম ধাপের বাণিজ্য চুক্তি
আশাবাদী না হওয়ায় নতুন বাজার খুঁজছে চীন

যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রথম ধাপের বাণিজ্য চুক্তি
আশাবাদী না হওয়ায় নতুন বাজার খুঁজছে চীন

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ১৩, ২০২০, ২:০৭ অপরাহ্ণ

প্রায় দুই বছর ধরে চলা বাণিজ্য বিরোধ শেষে ১৫ জানুয়ারি প্রথম ধাপের বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ১৩ ডিসেম্বর ঘোষিত বাণিজ্য চুক্তির বিষয় নিয়ে এ আয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কর্মকর্তারা বলছেন, চুক্তিতে মেধাস্বত্ব, খাদ্য ও কৃষিপণ্য, আর্থিক সেবা ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, বিরোধ নিষ্পত্তির উপায় নির্ধারণ থাকছে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইটহাইজার বলেন, এ চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, উভয়পক্ষ যেন বিরোধ নিষ্পত্তির একটি দ্রুত ও কার্যকর উপায় বের করতে পারে, সে বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো।

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে কৃষি। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য রফতানিতে চীন ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। তবে বিরোধ শুরু হওয়ার পর চীনের অবস্থান পঞ্চম স্থানে চলে এসেছে।

ওয়াশিংটন বলছে, প্রাথমিক পর্যায়ের চুক্তিতে আগামী দুই বছরে ২০১৭ সালের তুলনায় ২০ হাজার কোটি ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন পণ্য আমদানিতে রাজি হয়েছে বেইজিং। এতে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার কোটি ডলারের কৃষিপণ্য থাকছে। চীনা কর্তৃপক্ষ চুক্তির এ শর্তগুলোর কোনোটিই নিশ্চিত করেনি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

বাণিজ্য বিরোধ শুরুর আগে ২০১৭ সালে চীনে ১ হাজার ৯৫০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য আমদানি করেছিলেন আমেরিকান কৃষকরা। মার্কিন শুল্কের বিপরীতে চীনের শাস্তিমূলক শুল্কে ২০১৮ সালে কৃষিপণ্য রফতানি ৯০০ কোটি ডলারেরও বেশি হ্রাস পায়।

চীনের উপকৃষিমন্ত্রী হান জুন বলেন, আংশিক এ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রেও চীনের কৃষিপণ্য রফতানি বাড়বে, বিশেষ করে কুকড পোলট্রি, নাশপাতি ও খেজুর।চুক্তির বিভিন্ন শর্ত যে বেইজিংয়ের জন্যও ইতিবাচক। গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এই প্রথম উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হলো।

প্রাথমিক পর্যায়ের চুক্তির অংশ হিসেবে ১৬ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে ১২ জানুয়ারি যে ১৫ শতাংশ শুল্কারোপের কথা ছিল, তা বাতিল করছেন ট্রাম্প। সেলফোন ও কম্পিউটারের মতো ইলেকট্রনিকস পণ্যে ওই অতিরিক্ত শুল্কারোপ হলে মার্কিন ভোক্তাদের জন্যই কষ্টকর হতো।

চীনা কর্মকর্তারা যদিও বলছেন, ধাপে ধাপে অন্যান্য শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে; তবে ওয়াশিংটন বলছে, প্রথম দফায় আরোপিত ২৫ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানিতে বহাল শুল্ক প্রত্যাহার করবে কিনা, তা স্পষ্ট করে বলেননি চীনের উপ-অর্থমন্ত্রী লিয়াও মিন। ১৬ ক্যাটাগরির মার্কিন পণ্যে গত সেপ্টেম্বরে শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিল বেইজিং।

বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতি প্রাথমিক পর্যায়ের বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হলেও চীনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো ততটা আশাবাদী নয় বলে জানা যায়।

ফের বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কায় তারা আপত্কালীন পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছেন। স্বাক্ষরের পরও চুক্তিটি ভেস্তে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে চীনের ম্যানুফ্যাকচারার ও সাপ্লায়ারদের মধ্যে। এজন্য তারা চুক্তির ইতিবাচক দিকের ভরসায় না থেকে সম্ভাব্য খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিদেশে নতুন বাজার খুঁজছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

one × one =