Templates by BIGtheme NET
২৬ আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১০ জুলাই, ২০২০ ইং , ১৮ জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী
Home » অর্থনীতি » যেভাবে বদলে গেলো বাংলাদেশের অর্থনীতি

যেভাবে বদলে গেলো বাংলাদেশের অর্থনীতি

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ৬, ২০২০, ৯:১৭ অপরাহ্ণ

বিশ্ববাসির কাছে বর্তমানে বাংলাদেশ একটি অন্যতম দৃষ্টান্তের নাম। প্রতিনিয়তই বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি। চার যুগ আগে বাংলাদেশকে শাসন করেছে যে, পাকিস্তান তারাও এখন বাংলাদেশকে উন্নয়নের অনুকরণীয় মডেল হিসেবে স্বীকার করছে। স্বাধীনতার চার যুগে শিল্পায়নের সিঁড়িতে উঠেই বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ অর্থনীতি।

তলাবিহীন ঝুঁড়ি আখ্যায়িত রাষ্ট্র এখন তৈরি পোষাক উৎপাদনে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ। জাহাজ, সিমেন্ট থেকে কাগজ, ঔষধ ও জুতাসহ নানা শিল্পে সম্পূর্ণতা অর্জন করছে বাংলাদেশ। হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে শিল্পখাতে। ৭০ দশকের কুটির শিল্প আর ৮০ দশকের ক্ষুদ্রু ও মাঝারি শিল্পের বাংলাদেশে স্থাপন হচ্ছে নতুন নতুন শিল্প-কারখানা এবং শিল্প-পার্ক। যার ধারাবাহিতকতায় অর্থনীতি প্রতিনিয়তই উঠছে নতুন উচ্চতায়।

একসময় কম মূল্যের তৈরি পোষক ছিলো বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস। এখন গড়ে উঠেছে পরিবেশ বান্ধব গ্রীণ ফেক্টরি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীণ বিল্ডিং কাউন্সিল, তৈরি পোষাক খাতে বিশ্বের সেরা ১০ গ্রীণ ফেক্টরির যে, স্বীকৃতি দিয়েছে এর মধ্যে ১ম, ২য়, ৩য়সহ মোট ৭টি ফেক্টরি বাংলাদেশেই অবস্থিত। এসব ফেক্টরিতে উৎপাদন হচ্ছে উচ্চ মানের পোষাক। বর্তমানে চীনকে হটিয়ে ইউরোপের বাজারে শীর্ষ স্থান দখলে নিয়েছে বাংলাদেশে তৈরি ড্যানিং পোষাক।

একদশক আগেও দেশের বিদ্যুৎ ও জালানি খাতের বড় বড় প্রকল্পগুলোতে বিদেশি কোম্পানির আধিপত্য ছিলো একচ্ছত্র। কিন্তু বর্তমানে এগিয়ে আসছে দেশিয় শিল্পগ্রুপ। চট্টগ্রামে সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের জালানি চাহিদার ৮০ শতাংশ পুরণ করা সম্ভব হবে। প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে দেশের স্পাত শিল্পে। জাহাজ নির্মাণ শিল্পেও এগিয়ে গেছে বেসরকারি খাত। স্পেন, ফ্রান্স, ইতালির মতো শিল্প উন্নত দেশগুলোও এখন বৃহৎ আকারে জাহাজ তৈরির জন্য বাংলাদেশে আসছে।

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের পর্যটন শিল্প। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় গড়ে উঠছে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র। আন্তর্জাতিক হোটেল ও স্পট নির্মাণ হচ্ছে কক্সবাজার পর্যটন কেন্দ্রে। এছাড়া বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে কয়েকটি দেশ কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে।

নিজেদের অর্থায়নে নির্মাণ হচ্ছে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। দেশে নতুন করে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ হচ্ছে। এই বন্দরকে ব্যবহার করে প্রতিবেশি দেশগুলো আমদানি-রপ্তানির কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। এতে দেশের আয় হবে প্রচুর পরিমাণের বৈদেশিক মুদ্রা।

দেশের বিদ্যুৎ খাতে অকল্পনীয় পরিবর্তন ঘটেছে। পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে শুরু করে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প এমনকি সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বৃহৎ বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিতে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে বেসরকারি কোম্পানিগুলো ও সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

eleven − 5 =