Templates by BIGtheme NET
৩০ শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৪ আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ২৩ জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি
Home » জাতীয় » মহান বিজয় দিবস: বাঙালি জাতির গৌরবের দিন

মহান বিজয় দিবস: বাঙালি জাতির গৌরবের দিন

প্রকাশের সময়: ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯, ১:০০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব খবর: আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখন্ডের নাম জানান দেয়ার দিন। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। অফুরন্ত আত্মত্যাগ এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই মহান বিজয়ের ৪৯ বছর পূর্ণ হল আজ।

১৯৭১ সালের এই দিনে দখলদার পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়েছিল।

বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত আর দু’লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় এই বিজয়। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয় দিবস পালিত হয়ে আসছে।

জিন্নাহের দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামক একটি অসম রাষ্ট্রকে বাঙালির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। শুরু হয় পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণ, নির্যাতন। দিনের পর দিন বাঙালির ওপর অত্যাচার নির্যাতন ও শোষণ চালাতে থাকে পাকিস্তানি বর্বর শাসক গোষ্ঠী।

এই শাসন-শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি একে একে গড়ে তোলে আন্দোলন-সংগ্রাম। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন,৬৬ এর ৬ দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ৭০ এর নির্বাচনে বিজয় লাভের মধ্য দিয়ে বাঙালি চূড়ান্ত বিজয়ের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে থাকে।

এসব আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলে, যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালি বীর পুলিশ সদস্যরা ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধের বুলেটটি ছুড়ে। তারপর একে একে অস্ত্র হাতে বাঙালিরা পাক বাহিনীদের বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। বাঙালি জাতির মরণপণ যুদ্ধ এবং দুর্বার প্রতিরোধের মুখে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পরাজয়ের চূড়ান্ত পর্যায় বুঝতে পেরে বিজয়ের দুই দিন আগে জাতির সূর্য সন্তান বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যা করে।

এই মুক্তিযুদ্ধে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, ভুটান, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সাহায্য-সহযোগিতা করে।অবশেষে বাঙালি দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে বুকের উষ্ণ রক্তে রাঙিয়ে রাত্রির বৃন্ত থেকে ছিনিয়ে আনে ফুটন্ত সকাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

9 − 6 =