Templates by BIGtheme NET
৮ মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২১ জানুয়ারি, ২০২০ ইং , ২৪ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » জাতীয় » "বীর প্রতীক" খেতাবপ্রাপ্ত অস্ট্রেলীয় নাগরিক
যেভাবে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন উইলিয়াম

"বীর প্রতীক" খেতাবপ্রাপ্ত অস্ট্রেলীয় নাগরিক
যেভাবে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন উইলিয়াম

প্রকাশের সময়: ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

লাখো শহীদদের রক্তে কেনা স্বাধীনতা, যেটা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীদের কাছ থেকে ছিনিয়ে এনেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। ১৬ ডিসেম্বর সেই বিজয়ের দিন। কারণ একাত্তরের এদিনে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেছিল পাকবাহিনী। তাইতো দিনটি আসলেই বাঙালি জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে এসব মুক্তিযোদ্ধাদের।

তাদের মধ্যে অন্যতম একজন বীর সৈনিক হলেন “উইলিয়াম এ এস ঔডারল্যান্ড”, যিনি একজন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক। তিনিই একমাত্র বিদেশী বাংলাদেশী যিনি মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য “বীর প্রতীক” খেতাব পান।

জানা গেছে, ১৯৭০ সালে তিনি প্রথম ঢাকায় আসেন। বাটা স্যু কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৭১ সালের প্রথম দিকে বাটা জুতার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে টঙ্গীর কারখানায় নিয়োগ পান।

২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের নামে গণহত্যা চালায়। সে সময় তিনি সেই রাতের ভয়াবহতার কিছু ছবি তুলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পাঠান। যা পাকিস্তানিদের মনোবল ভেঙে দিতে অনেকটাই সহায়ক ছিল।

বাটা স্যু কোম্পানীর মত বহুজাতিক একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়াতে অবাধ চলাচল ছিল সর্বত্র। সেই সুযোগে তিনি কৌশল অবলম্বন করে সম্পর্ক গড়ে তোলেন টিক্কা খান, রাও ফারমান আলী, নিয়াজিদের সাথে। আর অন্য দিকে প্রধান সেনাপতি কর্নেল এমএজি ওসমানীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তারপর সব তথ্য ফাঁস করে দিতেন।

তারপর নিজেই বাটার শ্রমিকদের সংঘবদ্ধ করে টংগীসহ সেক্টর ১ এবং ২ নম্বরে গড়ে তোলা গেরিলা বাহিনীকে নিজ দায়িত্বে প্রশিক্ষণ দেন। তারপর নিজেই জীবন বিপন্ন করে বাংলাদেশের যুদ্ধে নেমে পড়েন। তিনি বাঙ্গালী যোদ্ধাদের নিয়ে টঙ্গী-ভৈরব রেললাইনের ব্রীজ, কালভার্ট ধ্বংস করে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করতে থাকেন।

সে সময় তিনি ঢাকার অস্ট্রেলিয়ান ডেপুটি হাইকমিশনের গোপন সহযোগিতা পেতেন। রক্তক্ষয়ী নয়মাস মুক্তিযুদ্ধের শেষে টঙ্গীতে ফিরে আসেন বিজয়ীর বেশে।

জানা গেছে, ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশেই ছিলেন,তারপর নিজ দেশ অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান। ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ার পার্থের হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাইতো ৪৮ তম বিজয় দিবসে বাঙালি জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে এই মহান বীর সৈনিককে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

eleven + seventeen =