Templates by BIGtheme NET
২৪ শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৮ আগস্ট, ২০২০ ইং , ১৭ জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী
Home » জাতীয় » পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণ
যে কারণে বুদ্ধিজীবীদের উপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিল হানাদাররা

পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণ
যে কারণে বুদ্ধিজীবীদের উপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিল হানাদাররা

প্রকাশের সময়: ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯, ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রথম টার্গেট ছিল বাংলার তরুণরা। উদ্দেশ্য ছিল আর যাই হোক তরুণরা যেন যুদ্ধে তাদের বিরুদ্ধে জ্বলে না ওঠে। তবে তাদের সেই উদ্দেশ্য সফল হতে দেয়নি বুদ্ধিজীবীরা।

পাক সেনাদের অত্যাচারে বাংলার অসহায় মানুষ যখন কাতরাচ্ছিলেন তখন তাদের সাহস দিয়ে শক্তি যুগিয়েছিলেন বুদ্ধিজীবীরা। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন সৎ পরামর্শ ও তাদের ঐক্যবদ্ধ করে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলেন এবং বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।

আর এটা হানাদার বাহিনীরা বুঝতে পারে যুদ্ধের একেবারে শেষের দিকে এসে। তখন তারা বুঝতে পারলো মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে আর পেরে ওঠা সম্ভব নয়। পরাজয় আসন্ন। তাই রাতের অন্ধকারে ভয়ঙ্কর এক পরিকল্পনা করলো তারা। এই পরিকল্পনা বাস্তবয়নে মাঠে নামলো আল বদর বাহিনী। রাতের অন্ধকারে বুদ্ধিজীবীদের তালিকা ধরে চোখ বেঁধে ঘর থেকে তুলে এনে হত্যা করলো ঘাতকরা। উদ্দেশ্য ছিল এই জাতি যেন বহুদিন মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে।

হানাদাররা ডিসেম্বরের ১২ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে। বিশেষ করে ১৪ ডিসেম্বর অধিকাংশ বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে তারা। তবে ১৬ ডিসেম্বর পাক বাহিনী আত্মসমর্পণ করলেও বুদ্ধিজীবীদের উপর তখনও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ জ্বলছিল ঘাতকদের।

ইতিহাস ঘেটে দেখা যায়, আত্মসমর্পণ করলেও এ দেশে দোসরদের সহায়তায় বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড তখনও অব্যাহত রেখেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। জানা গেছে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর খোদ ঢাকা শহরেই কিছু এলাকা হানাদার ও তাদের দোসরদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এর প্রমাণ পাওয়া যায় চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের অপহৃত ভাই শহীদুল্লা কায়সারের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে। সালটি ছিল ১৯৭২ সালের জানুয়ারি।

ওই সময় পাকবাহিনী তাকে হত্যা করেছিল বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করে। মিরপুরে বিহারি ও পাকবাহিনীর দোসরদের ক্যাম্পে তাকে শেষ দেখা গিয়েছিল বলেও সংবাদে উল্লেখ করে। পরে তার সম্পর্কে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

two × 3 =