Templates by BIGtheme NET
২৫ শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৯ আগস্ট, ২০২০ ইং , ১৮ জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী
Home » ব্রেকিং নিউজ » হেগে চলছে শুনানি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দোয়া

হেগে চলছে শুনানি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দোয়া

প্রকাশের সময়: ডিসেম্বর ১০, ২০১৯, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজার প্রতিনিধি: রোহিঙ্গাদের গণহত্যা মামলার শুনানি নেদারল্যান্ডসের হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) শুরু হতে যাচ্ছে মঙ্গলবার। তারই সুত্রে ধরে সোমবার (৯ ডিসম্বের) কক্সবাজারের আশ্রিত রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে মিছিল-সমাবেশের অনুমতি চেয়ে সরকারের কাছে আবদেন করেছিল আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) নামে রোহিঙ্গা সংগঠন।

তবে ওই প্রতিষ্ঠানটিকে বড় ধরণের সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি সংশ্লিষ্টরা। তাই ক্যাম্পগুলোতে ছোট পরিসরে মসজিদ ও মাদ্রাসায় দোয়া মাহফিল চলছে।

অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে অং সান সু চির সমর্থনে মিয়ানমারে বিভিন্ন স্থানে মিছিল-সমাবেশ করেছে বৌদ্ধরা এমনটি জানিয়েছেন একাধিক আন্তাজার্তিক সংবাদ মাধ্যম।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়, জেলা পুলিশ ও রোহিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এআরএসপিএইচ এর নেতারা।

রোহিঙ্গা নেতারা জানায়, সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যা সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে উখিয়ার কতুপালং, লম্বাশিয়া, সীমান্তের শূন্য রেখা, টেকনাফের শালবন, নয়াপাড়া, জামিদুরা, লেদাসহ বেশ কিছু ক্যাম্পের মসজিদ, স্কুল ও মাদ্রসায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত শত রোহিঙ্গা ও শিশুরা অংশ নেয়।

নাম না বলার শর্তে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) এক নেতা বলেন, আন্তর্জাতিক আদালত (আইসিজে) রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারের শুরু হতে যাচ্ছে। এই বিচার যথাযথ প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের পক্ষে রায় পাওয়ার জন্য এখানে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কর্মসূচি পালনে কতৃপক্ষের অনুমতি না পেয়ে মোনাজাত ও দোয়া মাহফিল করছি। আল্লাহ যেন রোহিঙ্গাদের বিচার পেতে সহতায় করেন।

এদিকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমরা গণহত্যার বিচার সঠিক ভাবে পায় তার জন্য বিচার চলাকালীন সময়ে প্রতিদিন বিশেষ দোয়া মাহফিল পরিচালনার জন্য আহ্বান জানিয়েছে রোহিঙ্গাদের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএস) আরসার প্রধান নেতা আতাউল্লাহ আবু আম্মা জুনুনি। তিনি ৮ ডিসেম্বর এক অডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান।

এ ছাড়া বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন অব ইউকে চেয়ারম্যান মি. টুং কি এক ভিডিও বার্তায় অনুরূপ আহ্বান জানান দেশ বিদেশে অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রতি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের এটি একটি বড় অর্জন, যে গণহত্যার মত জঘন্য অপরাধের বিচারে মিয়ানমার স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচিকে কাঠগড়ায় বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তুমব্রু শূন্যরেখা রোহিঙ্গা শিবিরের নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে আইসিজে আদালতে বিচার শুরু হতে যাচ্ছে। রোহিঙ্গারা যাতে সুবিচার পায়, এজন্য এখন মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল চলছে। আল্লাহর কাছে দোয়া করছি যেন আত্মীস্বজনদের হত্যার সু-বিচার পায়।

বাংলাদেশ শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে মিছিল-সমাবেশের অনুমতি চেয়েছেন। তবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখছেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইবাল হোসেন বলেন, রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে মিছিল-সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিল কিন্তু দেওয়া হয়নি। এ বিচার নিয়ে যাতে ক্যাম্পে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর অবস্থা সৃষ্টি না হয়, সে-জন্য সংশ্লিষ্টরা সর্তক রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১১ নভেম্বর ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সমর্থনে গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে মামলাটি করে। গাম্বিয়াও গণহত্যা সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ। এদিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর অল্প সময়ের মধ্যে রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে আসেন প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। এর আগে থেকে এ দেশে অবস্থান করছিলেন আরও চার লাখ রোহিঙ্গা। সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজারের প্রায় ৩৪টি শিবিরে বর্তমানে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

13 − 4 =