Templates by BIGtheme NET
১০ মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ইং , ২৬ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » জাতীয় » সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে অসংক্রামক রোগ : বিশেষজ্ঞ অভিমত

সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে অসংক্রামক রোগ : বিশেষজ্ঞ অভিমত

প্রকাশের সময়: ডিসেম্বর ৬, ২০১৯, ৮:৪৩ অপরাহ্ণ

দেশে দিন দিন অসংক্রামক রোগ বাড়ছে। অতিরিক্ত তেল-চর্বি, চিনিযুক্ত খাবার, ধূমপান, দূষণ ও মানসিক চাপ এর অন্যতম কারণ। এছাড়া, কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম না করা, সঠিক সময়ে খাবার না খাওয়াও এই রোগের বড় কারণ। ফলে অজান্তেই আমাদের শরীরে বাসা বাঁধছে ক্যানসার, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, লিভার সিরোসিসসহ নানা অসংক্রামক রোগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে সুষ্ঠু পরিকল্পনা দরকার।

পরিসংখ্যান বলছে, অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রতি দুই সেকেন্ডে একজন মারা যাচ্ছে। কেবল হৃদরোগেই মারা যাচ্ছে প্রতি তিন জনে একজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারকে যেমন বহুমাত্রিক পরিকল্পনা নিতে হবে, তেমনি প্রতিটি মানুষকে সচেতন হতে হবে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর-বি) করা ২০১৬ সালের এক গবেষণা দেখা যায়, প্রতি চার জনের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন এবং তা অনিয়ন্ত্রিত। প্রতি চার জনের একজন ভুগছেন ডায়াবেটিসে এবং প্রতি পাঁচ জনের একজন স্ট্রোকের শিকার হয়েছেন। এছাড়া, প্রতি ছয় জনের মধ্যে একজন হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০২৫ সালের মধ্যে ৩০ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের অসংক্রামক রোগের কারণে অকালমৃত্যু ২৫ শতাংশে কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করেছে। আর এজন্য অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধের দিকেও নজর দিতে হবে।

আইসিডিডিআর’বি এর ইনিশিয়েটিভ ফর নন-কমিউনিকেবল ডিজিজেস-এর প্রধান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. আলিয়া নাহিদ বলেন, ‘অসংক্রামক রোগ বাংলাদেশে দ্রুততম হারে বাড়ছে, যা এতদিন মূলত ধনী দেশের অবস্থাপন্ন মানুষের রোগ হিসেবে বিবেচিত হতো। এ কারণে বাংলাদেশের অতি দরিদ্র, অপুষ্টিতে ভোগা, সংক্রামক রোগে জর্জরিত এই বিশাল জনগোষ্ঠী কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি এই অসুখে ব্যাপকহারে আক্রান্ত হচ্ছে, এর কারণ দেখাসহ প্রতিকারের উপায় খুঁজে বের করা জরুরি।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. রিজওয়ানুল করিম বলেন, ‘১০ বছর আগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক জরিপে দেখা যায়, উচ্চ রক্তচাপের রোগী ছিল ১৯ দশমিক ৯, আর ১০ বছর পরের জরিপে সেটা হয়েছে ২৫ দশমিক ২। একইসঙ্গে, ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের হার এখন ৮ দশমিক ৪। কিন্তু এটি এখন কয়েকগুণে বেড়েছে। যার জন্য আমাদের অসচেতনতাই দায়ী।

এদিকে, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান বলেন, হৃদরোগ-ডায়াবেটিস-ক্যানসার ও শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগের জন্য ধূমপানসহ যেকোনও ধরনের তামাক ও চুইং টোব্যাকো, কায়িক পরিশ্রম না করা, অ্যালকোহল এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্য— প্রধান এই চারটির মধ্যে কোনটাতেই আমাদের দেশের অবস্থা ভালো না। এসবের জন্য নিজেদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

6 + 14 =