Templates by BIGtheme NET
৩০ শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৪ আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ২৩ জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি
Home » জাতীয় » আসছে আমনের মৌসুম
যে সুযোগটি সহজেই নিতে পারেন কৃষক (ভিডিও)

আসছে আমনের মৌসুম
যে সুযোগটি সহজেই নিতে পারেন কৃষক (ভিডিও)

প্রকাশের সময়: ডিসেম্বর ৫, ২০১৯, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ

ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে দেশে ধানের বাম্পার ফলন হচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধান কাটার মৌসুমে নতুন এক সমস্যায় পড়েছে দেশের কৃষকরা। একজন কৃষক এক মৌসুমে যে পরিমান জমিতে ধান আবাদ করেন  সেই পরিমাণ ধান কেটে আনতে অনেক বেশি লোকের প্রয়োজন হয়। ধান কাটার মৌসুমে সেই বাড়তি লোক পাচ্ছেন না কৃষকরা।

জানা গেছে, আগের মৌসুমে শত শত একর জমির ধান জমিতেই রয়ে গিয়েছিলো। এমনকি ধান কাটতে না পেরে কৃষক ফসলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন বলেও শোনা গেছে। অনেক ফসল পরবর্তী বর্ষায় তলিয়ে যেতে দিয়েছেন কৃষক।

কেন এ সংকট?

একটা সময় ছিলো যখন একজন দিনমজুর সারাদিন কাজ করে যে পারিশ্রমিক পেতেন তা দিয়ে তার খাদ্যের যোগান দেয়া কঠিন হতো। কিন্তু বিগত এক দশকে বাংলাদেশে এই চিত্র অনেক বদলে গেছে। টিআর, কাবিখা, সামাজিক বণায়ন, একটি বাড়ি একটি খামার, ক্ষুদ্র ঋণ, উদ্যোক্তা ঋণসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত হচ্ছেন শ্রমিকরা। এছাড়া বৈদেশিক কর্মসংস্থান, গার্মেন্টস শিল্পা ও বিভিন্ন কারিগড়ি শিক্ষায় যুক্ত হয়ে প্রান্তিক জনগনও নানা ভাবে আয় করতে পারছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগের মৌসুমে চাষীরা দৈনিক ৫শ বা ৬শ টাকা মজুরি দিয়েও লোক পাননি। কারণ এই মজুররা বর্তমানে অন্য কাজে এর চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। ফলে ধান কাটার কাজে তারা আর আসতে চান না।

এদিকে কৃষক ধান উৎপাদনের পেছনে যত টাকা খরচ করেছেন ধান বিক্রি করে সেটি পোষাতে হলে শ্রমিককে এর ৫/৬ শ টাকার বেশি মজুরী দিতে পারবেন না। এর চেয়ে বেশি মজুরী দিলে ধান বিক্রির লাভ তিনি ঘরে আনতে পারবেন না। ফলে কৃষকরা বাড়তি ধান মাঠেই ফেলে দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে কৃষি বিভাগ দাবি করেছে আগামীতে পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে দক্ষিণ অঞ্চলের মধ্যে ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মিল কারখানা গড়ে উঠবে। তখন কৃষি শ্রমিক সংকট আরও বড় আকার ধারন করবে।

তাই এই সমস্যা টি উত্তোরণের জন্য এখনই কাজ শুরু করা উচিত বলে মনে করেন তারা।

এই সমস্যা সমাধানে কৃষি বিভাগ ধান কাটাসহ চাষাবাদের বিভিন্ন পরযায়ে যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে চাইছেন। তবে এ ক্ষেত্রে মূল সমস্যা হলো যন্ত্রের দাম। একজন কৃষকের পক্ষে একটি দামী যন্ত্র কেনা সম্ভব নয়। ফলে কৃষি বিভাগ এখন চেষ্টা করছে সমবায়ের মতো কৃষকদের দলবদ্ধ করতে।

এ প্রক্রিয়ায় দলবদ্ধ কৃষক সম্মিলিতভাবে কৃষি যন্ত্র কিনবে এবং সবাই এই যন্ত্র ব্যবহার করবে। এতে কারো ওপরই আর্থিক চাপ পড়বে না কিন্তু সবাই যান্ত্রিক সুবিধার আওতায় আসবে।

কৃষি বিভাগের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই কৃষকদের উপস্থিতিতে কম্বাইন্ড হারবেষ্টার, ডিপার মেশিন- এই যন্ত্রগুলি দিয়ে কৃষকের মাঠের ধান কর্তন করে ‘মাঠ দিবস’ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যন্ত্রের উপকারিতা ও অর্থ নৈতিক সাশ্রয়ের বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে।

একজন কৃষক উপজেলা কৃষি বিভাগে আবেদন করে সরকারী অনুদানের অনেক কম দামে এসব মেশিন কিনতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ৭০ হাজার টাকা দামের একটি হারভেস্টার মেশিন মাত্র ১৯ হাজার টাকায় কেনা সম্ভব।  প্রয়োজনে কয়েকজন কৃষক যৌথভাবে যন্ত্রটি কিনতে পারেন এবং পর্যায়ক্রমে সবাই ব্যবহার করতে পারেন। কারণ খুব কম সময়েই অনেক জমির খান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন।

উল্লেখ্য এক বিঘা জমির ধান কাটতে ৫ থেকে ৬ জন শ্রমিকের সময় লাগে এক দিন। সেখানে মেশিনে এই জমির ধান কাটতে সময় লাগে মাত্র ৪০ মিনিট। এতে সর্বোচ্চ ৯০ টাকার জ্বালানি খরচ হয়।

একজন কৃষক চাইলেই এই সুযোগটি গ্রহণ করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

15 − two =