Templates by BIGtheme NET
২৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ১৩ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী
Home » জাতীয় » শান্তি চুক্তির যতোটা বাস্তবায়ন করেছে সরকার

শান্তি চুক্তির যতোটা বাস্তবায়ন করেছে সরকার

প্রকাশের সময়: ডিসেম্বর ২, ২০১৯, ৬:০৩ অপরাহ্ণ

পৃথিবীতে রাষ্ট্রের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের যতগুলো শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে তাদের মধ্যে পার্বত্য শান্তি চুক্তি অন্যতম। এই চুক্তির পর পাহাড়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির শীর্ষ নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা শান্তিচুক্তির সব ধারা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন।

তবে সরকারী বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, সন্তু লারমাও চুক্তি অনুযায়ী সকল অস্ত্র জমা দেয়নি। তবুও চুক্তির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বাস্তবায়ন হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, এই চুক্তির সুবাদেই সন্তু লারমা পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বিগত ২১ বছর ধরে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করছেন। অথচ তিনি রাষ্ট্রীয় কোনও দিবসে অংশ নেন না। এমনকি ভোটারও হননি।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে। ১৫টি ধারার আংশিক বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ৯টি ধারা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য জেলাগুলোর প্রশাসনিক ৩৩ বিভাগের মধ্যে ১৭টি বিভাগ জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করেছে সরকার।
চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন গঠন করা হয়েছে।

পার্বত্যাঞ্চলের লোক সরকারী চাকরি পেতে পারে, এ ক্ষেত্রে তাদের জন্য বিভিন্ন নীতি ও আইন শিথিল করা হয়েছে।

ইউএনডিপি, ইউনিসেফ, এডিবি, ড্যানিডা, ইইউ, সিডা ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীর সহায়তায় পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন মেয়াদী উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

বর্তমান সরকারের সময় পার্বত্য অঞ্চলে সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের মধ্য দিয়ে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

সন্তু লারমা অভিযোগ করেছেন, পাহাড়ে এখনও অস্ত্রবাজি, খুন, অপহরণ ও চাঁদাবাজি হচ্ছে। আর এর প্রধান শিকার হচ্ছে পাহাড়ের সাধারণ অধিবাসীরা।

অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-এম এন লারমা), ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এবং ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)— এই চারটি আঞ্চলিক সংগঠনের স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত তাদের ৭২ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

five × three =