Templates by BIGtheme NET
২৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ১৩ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী
Home » জাতীয় » পার্বত্য আন্দোলনের শুরু যেখান থেকে

পার্বত্য আন্দোলনের শুরু যেখান থেকে

প্রকাশের সময়: ডিসেম্বর ২, ২০১৯, ৫:৫১ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এখন পর্যন্ত যতগুলো কঠিন সমস্যার সম্মুখিন হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন তাদের মধ্যে একটি এবং ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তির মাধ্যমে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে এই সমস্যার সমাধান করেছিলেন তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত নিরসনে এই চুক্তিটি এখনও বিশ্বে উদাহরণ হয়ে আছে।

পাহাড়ি ক্ষুদ্র ণৃগোষ্টীগুলো দীর্ঘদিন ধরেই তাদের তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য আন্দোলন করে আসছিলো। তবে এর শুরুটা হয়েছিলো এই শতকের প্রথমে।

রাজমোহন দেওয়ানের নেতৃত্বে ১৯১৫ সালে সর্বপ্রথম চাকমা যুবক সমিতি গঠিত হয়। ১৯১৯ সালে ঘনশ্যাম দেওয়ানের নেতৃত্বে গঠিত হয় চাকমা যুবক সংঘ। ১৯২০ সালে কামিনী মোহন দেওয়ান গঠন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসমিতি।

প্রায় দু’দশক ধরে এ সংগঠনগুলো বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এতে তাদের মধ্যে এক ধরণের জাতীয়তাবাদ তৈরী হয়।

১৯৩৯ সালে যামিনী রঞ্জন দেওয়ান ও স্নেহকুমার চাকমা এ সংগঠনের যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন। তখন থেকেই জনসমিতির রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির প্রাক্কালে জনসমিতি পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত করার চেষ্টা করে।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের প্রাক্কালে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে পাহাড়ি জনগণের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত পরিচিতির স্বীকৃতিসহ কিছু দাবি পেশ করেন।

১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে। কিছুকাল পর থেকে জনসংহতি সমিতির সামরিক শাখা শান্তি বাহিনী তৎপরতা শুরু করে। তখন থেকে ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও শান্তি বাহিনী দীর্ঘকাল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় আসেন। এরপর অত্যন্ত দক্ষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে সরকার এই চুক্তিটি করতে সমর্থ হয়। এই চুক্তির পর পার্বত্য বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাদের অস্ত্র জমা দেন। এই চুক্তির ফলে দেশের সার্বভৌমত্ব অনেকটা সুরক্ষিত হয় এবং বাংলাদেশের সেনাবাহিনীও দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধথেকে মুক্তি পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

13 − 13 =