Templates by BIGtheme NET
২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী
Home » অর্থনীতি » জানুয়ারি থেকেই সুদহার এক অঙ্কে , কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

জানুয়ারি থেকেই সুদহার এক অঙ্কে , কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

প্রকাশের সময়: ডিসেম্বর ২, ২০১৯, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট :

উৎপাদনশীল খাতে যে কোনও উপায়ে ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে চায় সরকার। ১ জানুয়ারি থেকেই তা কার্যকর করা হবে।

এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গর্ভনরের নেতৃত্বে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে। সুদ হার কীভাবে কমানো যায়, সে বিষয়ে কাজ করবে এ কমিটি। আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে কমিটি। কমিটির সুপরিশের আলোকে সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এতদিন সবখাতের জন্য এক অঙ্কের সুদ হার নির্ধারণের কথা বলা হলেও রোববার সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন অর্থমন্ত্রী। এর কারণও ব্যাখ্যা করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি জানান, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বেশি ভূমিকা রাখে উৎপাদনমূখী শিল্প। তবে সুদের উচ্চ হারের ফলে শিল্প স্থাপন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিল্পায়ন বিকাশের জন্য সুদ হার কমানোর বিকল্প নেই। ফলে এ খাতের জন্য যে কানো উপায়ে সুদহার কমিয়ে আনতে হবে। বৈঠকে সবাই এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন বলে জানান তিনি।

ঋণে বাংলাদেশের মতো এত বেশি সুদ হার দুনিয়ার কোথাও নেই বলে দাবি করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বেশি সুদে টাকা নিয়ে ব্যবসায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে দেশীয় পণ্য প্রতিযোগিতায় মার খাচ্ছে। কিভাবে সুদ হার কমিয়ে আনা যায় তা খুঁজে বের করতে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বসা হয়েছে। ব্যাংকের চেয়ারম্যার ও এমডিরা সবাই বলেছেন, সুদ হার কমিয়ে আনার বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। এ বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

পরে রাতে অর্থমন্ত্রণালয় থকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির মূল কারণ সুদহার। সুদ কমলে খেলাপি ঋণ কমবে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ সুদহার হলে ঋণগ্রহীতা কুলাতে পারবে না। তাই সুদহার ৯ শতাংশে নিয়ে আসা জরুরি। সরকার সেই চেষ্টা করছে। সুদহার ৯ শতাংশ হলে খেলাপিঋণ বাড়বে না বলে উল্লেখ করা হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

অন্য খাতের সুদ হার কমানো হবে কি-না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, কৃষি, রফতানিসহ অনেক খাতে সুদ হার এক অঙ্কের নীচে রয়েছে। এসব খাতের জন্য দরকার নেই। তবে যখন যে খাতের প্রয়োজন হবে সে অনুযায়ী সুদহার নির্ধারণ করা হবে।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ফজলে কবির, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক গর্ভনর সাংবাদিকদের বলেন, সুদহার কী ভাবে কমিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে কাজ করবে কমিটি। আজ-কালের মধ্যে এটি গঠন করা হবে।

অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, খেলাপি ঋণ বেড়েছে এ কথা অস্বীকার করছি না। কেন বেড়েছে তা বলা হয় না। তিনি বলেন, এতদিন আদালতে রিটের কারণে সরকারের দেওয়া বিশেষ সুবিধা কার্যকর করা যায়নি। ভালো ঋণগ্রহীতাও ঋণ পরিশোধ বন্ধ করে দেয়। এ কারণে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। এ সংক্রান্ত রায় এখন সরকারের পক্ষে এসেছে। সবাই এ সুযোগ নেবে। ফলে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে খেলাপি ঋণ কমে আসবে বলে আশা করছি।

গণমাধ্যমের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, পত্রিকায় খুললেই হেডলাইন দেখি এনপিএল (নন-পারপমিং লোন বা খেলাপি ঋণ) বেড়েছে। কিন্তু কেন বেড়েছে -এ কথা লেখা হয় না। যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর অনেক দেশে খেলাপি ঋণ রয়েছে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ইতিবাচক খবর লিখুন যাতে জনগণ উৎসাহিত হয়। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দ্রুত শিল্পায়নের জন্য খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেটকে কোনো সুবিধা দেওয়া হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

one × three =