Templates by BIGtheme NET
২৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ১৩ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিনোদন » সাফল্যের ৫৫ বছরে রুনা লায়লার এক ঝলক

সাফল্যের ৫৫ বছরে রুনা লায়লার এক ঝলক

প্রকাশের সময়: নভেম্বর ৩০, ২০১৯, ৩:৩২ অপরাহ্ণ

মোহাম্মাদ এনামুল হক এনা:  ১৯৬৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সংগীত শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর দেখতে দেখতে ৫৫ বছর পূর্ণ করলেন চিরসবুজ গানের পাখি রুনা লায়লা, যাকে বলা হয় দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী।

সময় গড়িয়ে যায়, কিন্তু রুনা লায়লার যেসব গানগুলোর মুগ্ধ করার ক্ষমতা কমে না, বরং দিন দিন বেড়েই চলে, বন্ধু তিনদিন তোর বাড়িতে গেলাম দেখা পাইলাম না”, “আল্লাহ মেঘ দে”, “একা একা কেন ভালো লাগে না”, “ইস্টিশনে রেলগাড়িটা”, “সাধের লাউ”সহ আরো শ’খানেক নাম বলা যাবে যা আমাদের সকলের মুখেমুখে।

শৈশব ও পারিবারিক জীবন
রুনা লায়লার বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ এমদাদ আলী কলকাতার কাস্টমস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বিভাগের কর্মকর্তা ছিলেন। এবং মা অমিতা সেন বিদ্যাসাগর স্ট্রিটের গায়িকা ছিলেন। ১৯৪৭ সালে অমিতা সেন এমদাদ আলীর সংসারে আমিনা লায়লা হয়ে আসেন। এরপর ১৯৪৮ সালে জন্ম হয় বড় মেয়ে দীনা লায়লার। ১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর এমদাদ-আমিনার ঘর আলো করে জন্ম নেন রুনা লায়লা। পূর্ব পাকিস্তানে তার জন্ম, যেটি বর্তমানে সিলেট অঞ্চলের অন্তর্গত।

প্লেব্যাক জীবনে প্রথম পদক্ষেপ
১৯৬৫ সালে পাকিস্তানি চলচ্চিত্র ‘জুগনু’তে গান গেয়ে জীবনে প্রথম শুরু করেন পেশাদার গায়িকা হিসেবে পথও চলা। ১৯৭০ সালের মধ্যেই তিনি প্রায় ১০০০টি গান রেকর্ড করে ফেলেছিলেন। ১৯৭২ সালে, মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি তার নিজের গানের অনুষ্ঠান ‘বাজমে লায়লা’ শুরু করেন। গানের ক্ষেত্রে গায়কের শরীর ও অঙ্গভঙ্গিরও যে একটি ভূমিকা আছে, তা সর্বপ্রথম শেখান রুনা লায়লা। যাকে আমরা ‘পারফর্ম’ করা বলি, তিনি তা-ই করেছিলেন।

১৯৬৮ সালে এসএসসিতে প্রথম বিভাগ ও ১৯৭০ সালে এইচএসসিতে ২য় বিভাগে উত্তীর্ণ হন রুনা। ১৯৭৪ সালে বাবার পরামর্শে সপরিবারে নিজের দেশ বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। অথচ ততদিনে উর্দু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি রুনা ছাড়া চলে না।

হিন্দি গানেও সমান খ্যাতি
১৯৭৪ সালে এক আমন্ত্রণে ভারত সফর করেন রুনা। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশও করেন। কল্যাণজি-আনন্দজির সুরে হিন্দি ছবি ‘এক সে বারকার এক’- এর টাইটেল সংয়ের প্লেব্যাক ছিল তার প্রথম হিন্দি গান। এছাড়া “দামাদাম মাস্ত কালান্দার” এর কথা আমরা সবাই জানি- যার জন্য ভারতে তার নাম হয়েছিল ‘দামদাম গার্ল’। তার গাওয়া অন্যান্য হিন্দি গানের মধ্যে আছে “দে দে পেয়ার দে”, “আও সুনলো”, “মেরা বাবু ছেল ছাবিলা” ইত্যাদি।

বাংলা-হিন্দি-উর্দু ছাড়াও গুজরাটি, পাঞ্জাবী, সিন্ধি, পশতু, বেলুচি, আরবি, পারসিয়ান, মালয়, নেপালি, জাপানী, ইতালীয়, স্প্যানিশ, ফরাসী ও ইংরেজিসহ ১৭টি ভাষায় তিনি গান গেয়েছেন।

আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও পুরস্কার
একদিনে রেকর্ড করা সবচেয়ে বেশি গানের জন্য গিনিস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম ওঠে রুনা লায়লার। তিনি আজ পর্যন্ত ৩০০টিরও বেশি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে আছে ভারতের স্যায়গাল অ্যাওয়ার্ড, ২ বার জিতেছেন পাকিস্তানের নিগার পুরস্কার, কালাকার পুরস্কার। বাংলাদেশ থেকে ৬ বার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, স্বাধীনতা পুরস্কার। এ বছর জুলাই মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে দেয়া হয় ফিরোজা বেগম স্মারক স্বর্ণপদক।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

5 × one =