Templates by BIGtheme NET
২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী
Home » জাতীয় » যে কারণে জঙ্গীরা আত্মঘাতী হয়

যে কারণে জঙ্গীরা আত্মঘাতী হয়

প্রকাশের সময়: নভেম্বর ৩০, ২০১৯, ৩:১২ অপরাহ্ণ

মোহাম্মাদ এনামুল হক এনা: রাজীব গান্ধী। ২৭ নভেম্বর হলি আর্টিজান মামলার রায় ঘোষণার দিন আদালতে মাথায় আইএস লেখা টুপি পরে আদালতে হাজির হয়ে সারা দুনিয়ায় হৈ চৈ ফেলে দেয়া দুই জঙ্গীর একজন। জঙ্গীদের আত্মঘাতী হওয়া সম্পর্কে প্রকাশ করেছেন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

রাজীব গান্ধী বলেছে, জঙ্গীবাদে জড়ানোর পর কোন জঙ্গী দল থেকে বেরিয়ে গেলে তাদের আবার দলে ফেরার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া হয়। বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে দলছুট জঙ্গীরা না ফিরলে দলের নির্দেশে তাদের হত্যা করা হয়। জঙ্গীদের আত্মঘাতী হওয়ার এটিই অন্যতম কারণ।

আলোচিত জঙ্গী রাজীব গান্ধী ১৫ বছর ধরে জঙ্গীবাদে জড়িত। দলছুট জঙ্গীদের হত্যার জন্য গঠিত কিলিং স্কোয়াডের প্রধান ছিল সে। তার মূল কাজই ছিল দলছুট জঙ্গীদের হত্যা করা। সে এভাবে নিজেও আত্মঘাতী জঙ্গী হয়ে ওঠে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ’১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজানে দুনিয়া কাঁপানো ভয়াবহ জঙ্গী হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড রাজীব গান্ধী। বহু চেষ্টার পর ’১৭ সালের ১৩ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধীকে (৩৫) গ্রেফতার করে। সে সুভাষ, শান্ত, টাইগার, আদিল ও জাহিদ নামেও পরিচিত।

রাজীব গান্ধীর জবানবন্দীর বরাত দিয়ে দায়িত্বশীল এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, দল থেকে বেরিয়ে যাওয়া সদস্যরা দলের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখলে, দলের হয়ে কাজ না করলেই দলের ‘অলিখিত’ নিয়মানুযায়ী তাদের হত্যা করা হয়। দলের জঙ্গীরাই হত্যাকান্ডের দায়িত্ব পালন করে। দলছুটদের কাছ থেকে দলের গুরুত্বপূর্ণ গোপন তথ্য বেরিয়ে যাওয়ার ভয় থেকেই তাদের হত্যা করা হয়। তবে দলচ্যুতদের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মনিটরিং করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দলচ্যুত সদস্য দলে না ফিরলে তাকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে খুবই নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

বিশিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব) আব্দুর রশীদ বলেন, জঙ্গী সংগঠন থেকে বেরিয়ে যাওয়া সদস্যদের হত্যার বিষয়টি লক্ষণীয়। বেরিয়ে যাওয়া সদস্যদের সংগঠনের নির্দেশে ও সিদ্ধান্তেই হত্যা করা হয়। দলের অন্য সদস্যরাই তাদের হত্যা করে। এটি জঙ্গীদের আত্মঘাতী হওয়ার অনেক কারণের একটি। তবে অর্থনৈতিক ও মতাদর্শগত কারণে জঙ্গীদের আত্মঘাতী হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। পেশাদার দুর্ধর্ষ ডাকাত দলের মধ্যেও এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

14 + ten =