Templates by BIGtheme NET
২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিবিধ » যেই জাতী মানুষ খায়!

যেই জাতী মানুষ খায়!

প্রকাশের সময়: নভেম্বর ২৮, ২০১৯, ১০:১৪ অপরাহ্ণ

মানুষ মানুষের মাংস খাচ্ছে- এমন বিবরণ পাওয়া যায় অনেক দেশের উপকথায়ই। প্রশ্ন হচ্ছে, আসলেই কি মানুষ মানুষকে খায়, নাকি এর সবই লেখকদের বানানো গল্প। মানুষ খাওয়ার সত্যিকার প্রমাণ আছে কি না? আর খেলে কারা খায়? কেনইবা খায়?

গল্প কাহিনীতে যেমনই লাগুক আফ্রিকার দেশ পাপুয়া নিউগিনির দক্ষিণে ফোর এলাকার লোকেরা পঞ্চশের দশকেও মানুষের মগজ খেতো। অস্ট্রেলিয়ার সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণার আগ পর্যন্ত ওরা ওদের মৃত আত্মীয়দের মগজ খেতো। অনেক সময় আশপাশের গোষ্ঠির সাথে যুদ্ধে শত্রুপক্ষের যারা মারা যেত বা বন্দি হতো তাদের খাওয়ার প্রথা ছিল।

যদিও নিষিদ্ধ হওয়ার কয়েক বছর পরও ওই এলাকা থেকে মানুষ খাওয়ার অপরাধে ২৯ জনকে আটক করা হয়েছিলো। ইউকে টেলিগ্রাফ পত্রিকার এই খবরে বিশ্ববাসী রীতিমতো হতবাক হয়। কয়েকজন ডাক্তারের অস্বাভাবিক মৃত্যুরহস্য বের করতে গিয়ে পুলিশ তাদের সন্ধান পায়। পুলিশ ধারণা করেন, প্রায় ৭০০ থেকে ১০০০ লোক এই গ্রুপের সদস্য ছিলো। এবং এরা সবাই কম-বেশি মানুষের মাংস ভক্ষণ করেছে।

জানা যায়, ষাটের দশকে পাপুয়া নিউগিনির এসব লোকের মধ্যে ‘কুরু’ নামের একটি রোগ ভীষণভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগ হলে আক্রান্তদের প্রথমে নড়াচড়া ও কথা বলায় সমস্যা হতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা হাঁটা চলার সামর্থও হারিয়ে ফেলে এবং শেষে মারা যায়। রোগটার কারণ ঠিক স্পষ্ট ছিল না। তবে বোঝা যাচ্ছিল, যেসব এলাকায় মানুষ খাওয়ার প্রথা আছে সেসব এলাকায় রোগের প্রকোপ বেশি। তাই সত্তরের দশকে অস্ট্রেলীয় সরকার মানুষ খাওয়া নিষিদ্ধ করে দেয়। এর পরপরই রোগের প্রকোপ বন্ধ হয়ে যায়।

পাপুয়া নিউগিনির এসব জাতি ছাড়াও অস্ট্রেলীয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় নিকট অতীতে মানুষ খাওয়ার প্রবনতা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা, নিউ মেক্সিকো এলাকায় আনাসাজি নেটিভ আমেরিকানরা কিছুকাল আগেও উৎসব ও অন্যান্য উপলক্ষে মানুষ খেতো। যার প্রত্নতাতি্বক প্রমাণ আছে। তবে বিজ্ঞানীরা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এসব উদাহরনকে ইতিহাসের বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উল্লেখ করতে পছন্দ করতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twenty + fifteen =