Templates by BIGtheme NET
২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিবিধ » যখন মানুষ নিজেই নিজের ক্ষতি করে

যখন মানুষ নিজেই নিজের ক্ষতি করে

প্রকাশের সময়: নভেম্বর ২৬, ২০১৯, ৭:২২ অপরাহ্ণ

যুক্তরাজ্যে বর্তমানে বছরে দুর্ঘটনা ও জরুরী বিভাগগুলিতে আসা প্রায় দুই লাখ লোক নিজেকে ক্ষতি করার কারণ চিকিৎসা নিতে আসে। তবে এদের মধ্যে ছোট অংশের তথ্যটি অন্যকেউ জানতে পারে। বেশিরভাগ লোক নিজের ক্ষতি করে দুর্ঘটনা ও জরুরী বিভাগগুলিতে চিকিৎসা নিতে যান না। যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর নিজের ক্ষতি করে এমন লোকের এর চেয়ে অন্তত ২০ গুণ বেশি। যার অর্থ দাড়ায় এর সংখ্যা ৪০ লাখ প্রায়। দেশটির কয়েটি পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে।

সমাজে একটি গৎবাঁধা ধারণা রয়েছে যে কিশোরী মেয়েরা হতাশা থেকে নিজেদের ক্ষতি করতে চায় বেশি। অথচ কয়েক দশক আগে, হাসপাতালগুলোয় দেখা যেতো, একজন পুরুষের অনুপাতে তিনজন নারী নিজেই নিজের ক্ষতি করতে গিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে নিজেদের ক্ষতি করতে চাওয়া পুরুষের অনুপাত, নারীদের অনুপাতের প্রায় সমান। বর্তমানে প্রতি ১.২ জন নারীর অনুপাতে একজন পুরুষ নিজের ক্ষতি করে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা নিজের ক্ষতি করে, তাদের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আছে যাদের হতাশা বা উদ্বেগের মতো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে। তবে বেশিরভাগের কোন মানসিক সমস্যা নেই। যেসব মানুষকে মানসিক ট্রমার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাদের সেলফ হার্মের আশঙ্কা বেশি থাকে। বিশেষত যারা সমাজে বৈষম্যের শিকার হন, যেমন সমকামী সম্প্রদায়ের মানুষ অথবা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্নতায় ভোগা মানুষেরা সেলফ হার্মের ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি থাকে।

কিছু গবেষক মনে করেন, বঞ্চনা, দারিদ্র্য এবং কঠোরতা মানুষের মধ্যে নিজের ক্ষতি করার আশঙ্কা তৈরি করে। সাম্প্রতিক বছরে অর্থনৈতিক মন্দা সেলফ হার্ম বাড়ার অন্যতম কারণ। আবার সোশ্যাল মিডিয়া এই সেলফ হার্ম বাড়ার পেছনে দায়ী এমন তত্ত্বও রয়েছে।

২০০০ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে এই হার প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। ২০১৪ সালে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আশ্চর্যজনক হলেও দেখা গেছে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন নিজেদের ক্ষতি করে থাকে। তবে এটি যে অল্প বয়সী মেয়েরাই করে থাকে, তা নয়। নিজের ক্ষতি করার প্রবণতা নারী পুরুষ নির্বিশেষে সব বয়সীদের মধ্যেই রয়েছে।

কিংসা কলেজ লন্ডনের ইমপ্যাক্ট এবং এনগেজমেন্ট বিষয়ক গবেষক ডা. স্যালি মার্লো বলেন, যখন সেলফ হার্ম প্রসঙ্গটি আসে তখন সমাজ খুব দ্রুত এর জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে দোষারোপ করে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সেলফ হার্মের একটি অংশ মাত্র। মানুষ আরও অনেক কারণে নিজের ক্ষতি করে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

15 − three =