Templates by BIGtheme NET
১৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১ জুন, ২০২০ ইং , ৮ শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিবিধ » প্রিয় ‘ডার্ক চকলেটে’র পেছনের বর্বরতা

প্রিয় ‘ডার্ক চকলেটে’র পেছনের বর্বরতা

প্রকাশের সময়: নভেম্বর ২৬, ২০১৯, ৪:০১ অপরাহ্ণ

মোহাম্মাদ এনামুল হক এনা: আমাদের দেশ তথা বর্হিবিশ্বে ছোট-বড় সকলের কাছেই চকলেটের জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবছর ৭ জুলাই’কে ‘চকলেট দিবস’ হিসেবে পালন করে চকলেট প্রেমিরা। ‘ডার্ক চকলেট’ বিশেষত স্বাস্থ্য সচেতনদের পছন্দের শীর্ষে। এই ‘ডার্ক চকলেট’তৈরীর পেছনে একটি নিদারুন গল্প রয়েছে। চলুন গল্পটি জেনে নেওয়া যাক।

ইংরেজিতে ডার্ক মানে আঁধার বা অন্ধকার। আর চকলেট এর অর্থ হলো চকলেট। সব মিলে অর্থ দাড়াঁয় অন্ধকার বা আঁধারের চকলেট।

আইভরি কোস্ট আর ঘানা। পশ্চিম আফ্রিকার এই দু’টি দেশে পৃথিবীর ৭০ শতাংশ কোকো (ডার্ক চকলেটের মূল উপাদান) চাষ করা হয়। চকলেট ফার্মে কাজ করানোর জন্য প্রতিদিনই প্রতিবেশি দেশগুলো থেকে হাজার হাজার শিশু পাচার করা হয় এসব দেশে।

সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শিশুগুলো অমানুষিক পরিশ্রম করে। খাদ্য হিসেবে পায় সস্তা সেদ্ধ ভুট্টা আর কলা। রাতে শেকল দিয়ে বেঁধে দরজা জানালাহীন কাঠের আস্তাবলে ফেলে রাখা হয় যাতে তারা পালাতে না পারে।

এই অত্যাচার থেকে কেউ পালানোর চেষ্টা করলে তার কপালে জোটে বেধড়ক মার আর যৌন হয়রানি। মার খেয়ে বা ধর্ষণে কেউ মরে গেলে তার শরীরটা ছুঁড়ে দেয়া হয় নদীতে বা কুকুরের মুখে। মায়া ভালোবাসার ছিটেফোঁটাও নেই সেখানে। ইন্টারন্যাশনাল লেবার ল’ এখানে উপহাস মাত্র।

কোকো ফার্মের ৪০ শতাংশ মেয়ে শিশু। তাদের বয়ঃসন্ধি আসে ফার্মেই। সেখানকার মালিক, শ্রমিক, ঠিকাদার এমনকি পুলিশের যৌন চাহিদা মেটাতে হয় ওদের। যৌন রোগ আষ্টেপৃষ্টে ধরে কোমল শরীরে। পঁচে গলে যায় শৈশব। রয়েছে শুধু নৃশংসতা। সেই রক্ত যেন শুকিয়ে কালো হয়ে আছে পৃথিবী জোড়া ফ্রীজে রাখা ডার্ক চকোলেটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

seventeen − 2 =