Templates by BIGtheme NET
৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ১৬ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী
Home » জাতীয় » সিঙ্গাপুরের জুরং বার্ড পার্কের আদলে সাজছে মিরপুর চিড়িয়াখানা

সিঙ্গাপুরের জুরং বার্ড পার্কের আদলে সাজছে মিরপুর চিড়িয়াখানা

প্রকাশের সময়: নভেম্বর ১৮, ২০১৯, ৬:৩২ অপরাহ্ণ

এবার বিশ্বমানের রূপ পাচ্ছে জাতীয় চিড়িয়াখানা। সম্প্রতি এমন একটি মহাপরিকল্পনা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেকে পাস হয়েছে। জানা যায়, সিঙ্গাপুরের ‘জুরং বার্ড’ পার্কের আদলে ঢেলে সাজানো হবে সরকারি এই চিড়িয়াখানাটিকে। দর্শণার্থীদের কথা বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, জাতীয় এ চিড়িয়াখানার অবস্থান ঢাকার মিরপুরে। বর্তমানে এখানে ১৯১ প্রজাতির ২১৫০টি প্রাণী রয়েছে। বছরে প্রায় ৩০ লক্ষ দর্শনার্থী এই চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করে থাকেন। তবে জাতীয় এই চিড়িয়াখানাটির যেমন ভালো দিক রয়েছে, তেমনি রয়েছে এর মন্দ দিকও। বিশেষ করে দর্শণার্থীদের বেশি সমস্যায় পড়তে হয় এতে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দেশ ও বিদেশের দর্শণার্থীরা প্রাণীদের দেখতে ভীড় জমান এই চিড়িয়াখানাতে। তবে সেখানে বিশ্রামের জন্য নেই কোনো বিশ্রামাগার। শুধু তাই নয়, খাবারের জন্য নেই কোনো ভালো হোটেল কিংবা ক্যাফে। যা আছে সেখানেও মূল্য মাত্রারিক্ত। এছাড়া চিড়িয়াখানার বেশির ভাগ প্রাণীই থাকে খাঁচাবন্দী। সে ক্ষেত্রে দুরত্ব বেশি হওয়ায় দর্শণার্থীরা ভালো করে উপভোগ করতে পারেন না। আর এসব দিক বিবেচনা করেই সিঙ্গাপুরের ‘জুরং বার্ড’ পার্কের আদলে বিশ্বমানের চিড়িয়াখানা করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

জানতে চাইলে চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, মহাপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ক্যাবল কার, লেজার শো, পানির নিচে ফিশ অ্যাকোরিয়াম, ডলফিন শো, নাইট সাফারি ট্যুর, লেক সাফারি, ফরেস্ট লজ, ওয়াচ টাওয়ার, সুসজ্জিত ফুলের বাগান ও প্রজাপতি পার্ক। পাশাপাশি আগত দর্শকদের জন্য রেস্ট হাউস ও উন্নতমানের রেস্টুরেন্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া দরপত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজার থেকে দেড় শতাধিক প্রাণী ও পাখি সংগ্রহ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এখানে বিশ্বের অন্যান্য চিড়িয়াখানার চেয়ে প্রাণীর সংখ্যাও অনেক বেশি। কিন্তু ওয়ার্ল্ড জু অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য না হওয়ায় নতুন প্রাণীর সংযোজন, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ নিয়োগ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় চিড়িয়াখানাকে বিশ্বের এক নম্বর আকর্ষণীয় চিড়িয়াখানা হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

পাশাপাশি চিড়িয়াখানার পশু-পাখির খাঁচা সম্পূর্ণভাবে বন্য আবহে তৈরি করতে একজন জাপানি জু-আর্কিটেকচার ও জু-কনসালটেন্টের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে। চলিত পদ্ধতির প্রাণী খাঁচাকে বদলে আধা প্রাকৃতিক, প্রাণীবান্ধব ও তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়বিশিষ্ট খাঁচা তৈরি করা হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

1 × four =