Templates by BIGtheme NET
২৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ১২ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিশেষ সংবাদ » নিপুণ হাতে বন্দীরা তৈরি করছেন জামদানি

নিপুণ হাতে বন্দীরা তৈরি করছেন জামদানি

প্রকাশের সময়: নভেম্বর ১৬, ২০১৯, ৩:০৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদ: পৃথিবীতে বাংলাদেশ যেসকল শিল্পের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছে তার মধ্যে অন্যতম জামদানি শাড়ি। জামদানির নকশায় রয়েছে বাংলাদেশের পরিবেশ, প্রকৃতি, জীবজগৎ ও বৃক্ষলতাযুক্ত নকশার প্রাধান্য।

ইতিহাসবেত্তাদের মতে, জামদানির নকশা একান্তভাবে বাংলার তাঁতিদের সৃজনশীলতার পরিচয় বহন করে। তাঁদের ভাষ্য, একজন জামদানি-তাঁতি বস্ত্র বয়ন করতে গিয়ে চারপাশে যে দৃশ্য দেখেছেন, তা-ই উঠে এসেছে নকশায়।

শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ জামদানির জন্য প্রসিদ্ধ। রূপগঞ্জের সেই জামদানি এখন তৈরি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে। বন্দীরা নিপুণ হাতে জামদানি বুনছেন। নানা রং ও বাহারি নকশা তাঁরা ফুটিয়ে তুলছেন জামদানির জমিনে। বন্দীদের তৈরি জামদানির চাহিদাও ব্যাপক। ইতিমধ্যে এই জামদানি নেওয়ার জন্য কারাগারের সঙ্গে চুক্তি করেছে রাজধানীর প্রসিদ্ধ একাধিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড।

জামদানির নকশার কথা বললেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে শাড়ির পাড়ভর্তি রঙিন ফুল আর জ্যামিতিক ছাঁচ; জমিনের টানা ও পোড়েনের সুতায় রঙিন বুটি আর ছিডার জাল বা তেরছি। নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের বন্দীদের বোনা জামদানিতে এসব বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

কারাগারের ভেতরে একটি শান্ত নিরিবিলি জায়গায় প্রশিক্ষিত বন্দীরা বুনছেন জামদানি। আর কারাগারের বাইরেই বিক্রয়কেন্দ্রে বিক্রি হচ্ছে সেসব। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বন্দীদের তৈরি জামদানি কিনতে আসেন ক্রেতারা।

জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে ১০টি জামদানি তাঁত রয়েছে। আর তৈরির সঙ্গে যুক্ত ৩০ জন কয়েদি ও হাজতি। তাঁরা আড়াই হাজার থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের জামদানি শাড়ি তৈরি করছেন। আঙুল তেরছি, চালতা, শাপলা ফুল, গুটি ফুল, মদন, ফুল তেরছি, পাখি, আনারসসহ বিভিন্ন নকশার জামদানি তৈরি করছেন তাঁরা। এসব জামদানি কারাগারের সামনে বিক্রয়কেন্দ্রেই বিক্রি হচ্ছে।

কারাগারের জামদানির প্রশিক্ষক সুমন মিয়া বলেন, তিনি রূপগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্বপুর এলাকায় জামদানি তৈরির কাজ করতেন। জোড়া খুনের মামলায় ১১ বছর ধরে তিনি কারাগারে। কারাগারে আসার পর থেকে জামদানি শাড়ি তৈরিতে সম্পৃক্ত হন। এখন বন্দীদের জামদানি শাড়ি তৈরির প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তিনি। তিনি বলেন, জামদানিতে প্রচুর ধৈর্য লাগে। একটানা এক জায়গায় বসে থাকতে হয়।

সুমন জানান, প্রতি মাসে তিনি জামদানি তৈরি করে ৫-৬ হাজার টাকা আয় করছেন। জামদানি তৈরির আয় থেকে প্রতি মাসে বাড়িতে ৩-৪ হাজার টাকা পাঠাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘কাজে থাকলে মনটা ভালো থাকে। কোনো দুশ্চিন্তা ও হতাশা কাজ করে না। বন্দীদের জামদানি তৈরির কাজ শেখাচ্ছি। দিনগুলো ভালোভাবে কেটে যাচ্ছে।’

কারাগারের সামনে বিক্রয়কেন্দ্রে জামদানি কিনতে এসেছেন শারমীন আক্তার। তিনি বলেন, ‘বন্দীদের জামদানির কাজ খুব সুন্দর। পাড় আর জমিনে সুতার কারুকাজগুলো চোখজুড়ানো। শাড়ির মান খুব ভালো। এ ছাড়া শহরের কাছে হওয়ায় আমাদের রূপগঞ্জে যেতে হয় না। আমি ও আমার আত্মীয়স্বজন এখান থেকেই শাড়ি কিনি। এ ছাড়া এখান থেকে শাড়ি কিনলে বন্দীদের সহায়তা করাও হয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

thirteen − eleven =