Templates by BIGtheme NET
২৯ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ১৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » ব্রেকিং নিউজ » পটুয়াখালী পৌর শহরে অনুমোদনবিহীন বহুতল ভবন নির্মাণ

পটুয়াখালী পৌর শহরে অনুমোদনবিহীন বহুতল ভবন নির্মাণ

প্রকাশের সময়: নভেম্বর ৭, ২০১৯, ১:৪৫ অপরাহ্ণ

পটুয়াখালী (দক্ষিণ): পটুয়াখালীতে একের পর এক গড়ে উঠছে অনুমোদনবিহীন বহুতল ভবন। আবাসিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিকসহ নানা প্রতিষ্ঠানের নামে ওই সব ভবন নির্মাণে জননিরাপত্তাসহ কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না।

বরং ভবন নির্মাণে ক্ষতিগ্রস্তরা বাধা দিতে গিয়ে অনেকেই সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভবনের মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় কারণে ব্যবস্থা নিচ্ছে না পৌর কর্তৃপক্ষ অথবা স্থানীয় প্রশাসন। আবার ব্যবস্থা নিলেও রাতের আঁধারে অর্থের বিনিময়ে আইন-কানুনকে তাদের অনুকূলে নিয়ে যায়। যে যার মতো করে ভবন নির্মাণ করার ফলে নষ্ট হচ্ছে শহরের সৌন্দর্য।

সরেজমিন দেখা যায়, শহরের বনানী এলাকায় প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ১৩ শতাংশ জমিতে নির্মাণ হচ্ছে ১২ তলা ভবন। নির্মাণাধীন ভবনের শুরু থেকে জননিরাপত্তার জন্য কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে প্রতিবেশীরা দুর্ঘটনার পাশাপাশি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এছাড়াও পৌরসভার থেকে বিধিবহির্ভূত ৯ তলার অনুমোদন নিয়ে নির্মান হচ্ছে ১২ তলা। ওই ভবনের বিপরীতে একাধিক অনিয়ম উল্লেখ করে পটুয়াখালী পৌর কর্তৃপক্ষ গত ২৮ অক্টোবর

নির্মাণ কাজ বন্ধের নোটিশ দেয়া হলেও ভবন মালিকরা তা মানছে না।

এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী পৌরসভার নগর উন্নয়ন পরিকল্পনাবিদ ফারজানা ইয়াসমিন জানান, পটুয়াখালী পৌরসভা ৭তলা পর্যন্ত অনুমোদন দেয়া ক্ষমতা রয়েছে। কি কারণে তৎকালীন সময়ে ৯তলা অনুমোদন পেয়েছে তা তার জানা নেই। তবে ওই কাজ বন্ধের নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তাদের আইনের মধ্য নিয়ে আসতে প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে সরেজমিন জানা যায়, ওই ভবন নির্মাণ কাজ পরিচালনা করছেন সোলেমান হোসেন নামে এক কলেজ শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে, ১২ তলা ওই ভবনে ৪টি ইউনিট করে অন্তত ৪৮ ইউনিট নির্মাণে ব্যয় হবে অন্তত ১৫ কোটি টাকা। ব্যয়কৃত ওই অর্থের উৎস অদৃশ্যমান। কয়েকজন শিক্ষক সমন্বয় করে বহুতলা ভবনটি নির্মাণ করছে।

এ প্রসঙ্গে ওই শিক্ষক সোলেমানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি নন। ভবন নির্মাণে ব্যয়কৃত অর্থের উৎসের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

অপরদিকে কাজীপাড়া এলাকায় ১৫ ফুট প্রস্থ নিয়ে আরও একটি ১১ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। মূলত ওই ভবনটি নিয়ে প্রতিবেশীরা বেশি আতঙ্কিত। ভবনটি প্রস্থ কম হওয়ায় যে কোনো সময়ে দুর্ঘটনা ঘটবে এমন সংশয় রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ভবনের মালিক দৃশ্যমান আয়ের মধ্য ছোট্ট একটি মিষ্টির দোকান। কিন্তু পৌরসভা থেকে ৭ তলার অনুমোদন নিয়ে ১১ তলা নির্মাণ করছেন।

এ প্রসঙ্গে পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, তৎকালীন সময়ে একটি মহল নিয়মবহির্ভূত অনুমোদন নিয়ে ভবন নির্মাণ করছে এবং অনুমোদন ছাড়াও বেশি তলা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

5 × three =