Templates by BIGtheme NET
২৯ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ১৫ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিজ্ঞান- প্রযুক্তি » যেভাবে আড়ি পাতা হয় হোয়াটস অ্যাপে

যেভাবে আড়ি পাতা হয় হোয়াটস অ্যাপে

প্রকাশের সময়: নভেম্বর ৪, ২০১৯, ৫:১২ অপরাহ্ণ

একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনলাইনে যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েল-ভিত্তিক এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে আদালতে অভিযোগও দাখিল করেছে হোয়াটস অ্যাপের মালিক প্রতিষ্ঠান ফেসবুক।

যদিও এনএসও গ্রুপ বলছে, তারা কোনো অন্যায় করেনি। মূলত, এনএসও গ্রুপের বানানো ‘প্যাগাসাস’ নামের হ্যাকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে হোয়াটস অ্যাপ হ্যাক করা হয়। কিন্তু কীভাবে কাজ করে এই ‘প্যাগাসাস’?

গবেষকরা জানান, পৃথিবীর ১৮০টি দেশের দেড় বিলিয়ন মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে। ব্যবহারকারীদের তথ্যের গোপনীয়তার জন্য এই অ্যাপটি দ্রুতই জনপ্রিয় হয়। কিন্তু এনএসও গ্রুপের তৈরি সফটওয়্যারের মাধ্যমে মোবাইল ফোন থেকে দূর হতে গোপনে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া যায়। এর মাধ্যমে হ্যাকাররা ফোন সেটের সকল কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে। এনএসও গ্রুপ বিশ্বের ২০টি দেশের সরকারের কাছে এটি বিক্রিও করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের মে মাস পর্যন্ত এনএসও গ্রুপ বিভিন্ন দেশে রেজিস্ট্রিকৃত ফোন নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটস্ অ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলেছে। যেসব দেশের ফোন নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে সাইপ্রাস, ইসরায়েল, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডস। এরপর এপ্রিল ও মে মাসে সে গ্রুপটি তাদের টার্গেট করা ব্যক্তিদের হোয়াটস্ অ্যাপে ফোন করার মাধ্যমে সেগুলোকে হ্যাক করে।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আদালতে যে অভিযোগ দাখিল করেছে সেখানে বলা হয়েছে, হোয়াটস্ অ্যাপের ভেতরে থাকা কারিগরি বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার জন্য এনএসও গ্রুপ এমন এক ধরনের কোড উদ্ভাবন করেছে যেটি ব্যবহার করে হোয়াটঅ্যাপে ফোন করলে মনে হবে যেন এটি সত্যিই অন্য আরেকটি হোয়াটস্ অ্যাপ নম্বর থেকে আসছে। এই কলের মাধ্যমে হ্যাকাররা তাদের টার্গেট করা ফোন সেটটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। যাদের টার্গেট করা হচ্ছে বিষয়টি তাদের কাছে সম্পূর্ণ অজানা থেকে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা শুধু লক্ষ্য করেন যে তাদের হোয়াটস্ অ্যাপ কল লিস্টে কিছু রহস্যজনক মিসডকল জমা হয়েছে।

এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগির ওপর নজরদারির জন্য তার হত্যাকারীদের স্পাইওয়্যার সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে এনএসও গ্রুপ এটি অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এনএসও গ্রুপের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে প্রযুক্তি সহায়তা দেয়া। যাতে তারা সন্ত্রাস এবং গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twenty − 20 =