Templates by BIGtheme NET
২৮ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ১৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » অর্থনীতি » রেমিট্যান্স ছাড়ালো সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলার

রেমিট্যান্স ছাড়ালো সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশের সময়: নভেম্বর ৪, ২০১৯, ১:১৫ অপরাহ্ণ

অর্থ ডেস্ক :

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-১৯ থেকে অক্টোবর-১৯) প্রবাসীরা দেশে ৬১৮ কোটি ৮৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এটি বাংলাদেশি মুদ্রায় (১ ডলার, ৮৫ টাকা ধরে) ৫২ হাজার ৬০২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। বিলিয়নের হিসাবে এর পরিমাণ ৬ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসের মধ্যে গত জুলাইয়ে রেমিট্যান্স আসে ১৫৯ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, আগস্টে ১৪৮ কোটি ২৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ১৪৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলার, অক্টোবরে ১৬৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে। সদ্য বিদায়ী অক্টোবর মাসে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ১৭৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে। যা এখন পর্যন্ত এক মাসে সর্বোচ্চ। এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের অর্থবছরের (২০১৮-১৯) একই সময়ের চেয়ে ২১ দশমিক ৬৯ শতাংশ বা ১১০ কোটি ২৭ লাখ ডলার বেশি।

সোমবার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো: সিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, গত অক্টোবর মাসে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৬৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এর আগে গত মে মাসে প্রবাসীরা রেকর্ড পরিমাণ ১৭৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা ইতিবাচক পদক্ষেপের কারণে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে।

সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে দেশে রেমিট্যান্স আসে ১৩১ কোটি ৭০ লাখ ডলার, আগস্টে ১৪১ কোটি ১০ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ১১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার এবং অক্টোবরে ১২৩ কোটি ৯১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠায়। গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-১৮ থেকে অক্টোবর-১৮) দেশে রেমিট্যান্সে আসার পরিমাণ ছিল ৫০৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১১০ কোটি ২৭ লাখ ডলার বা ২১ দশমিক ৬৯ শতাংশ কম।

গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে (জুলাই-১৮ থেকে জুন-১৯) পর্যন্ত সময়ে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ মার্কিন ডলার। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এর আগে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা ১ হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিল।

২০১৯ সালের প্রথম থেকেই বাড়ছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। এর আগে এ বছরের জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা রেকর্ড পরিমাণ ১৫৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠায়। এরপর ফেব্রুয়ারিতে ১৩১ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, মার্চে ১৪৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার, এপ্রিলে ১৪৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার, মে মাসে ১৭৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং জুনে ১৩৮ কোটি ডলার।

বছর ভিত্তিক রেমিট্যান্স: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্জিকা বছর হিসাবে, ২০১৮ সালে রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ৫৫৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। ২০১৭ সালে ১ হাজার ৩৫৩ কোটি ডলার, ২০১৬ সালে ১ হাজার ৩৬১ কোটি ডলার, ২০১৫ সালে ১ হাজার ৫৩১ কোটি ডলার।

অন্যদিকে, অর্থবছর হিসাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আছে ১ হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ডলার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ৬৩১ কোটি ডলার।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১ কোটির বেশি প্রবাসী বাংলাদেশী রয়েছেন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স জিডিপিতে অবদান রেখেছে ১০ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর শীর্ষ ১০টি দেশ হলো যথাক্রমে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, কুয়েত, ওমান, যুক্তরাজ্য, কাতার, ইতালি ও বাহরাইন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

15 − ten =