Templates by BIGtheme NET
২৯ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ১৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » অর্থনীতি » রফতানিতে বছরে আয় ২৫ কোটি টাকা
পরিত্যক্ত কলাগাছ ও কচুরিপানা থেকে তৈরি হচ্ছে কফিন

রফতানিতে বছরে আয় ২৫ কোটি টাকা
পরিত্যক্ত কলাগাছ ও কচুরিপানা থেকে তৈরি হচ্ছে কফিন

প্রকাশের সময়: নভেম্বর ২, ২০১৯, ১:২৪ অপরাহ্ণ

মোহাম্মাদ এনামুল হক এনা: কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত- খনার সেই বচন এখন বাস্তবতা। এতদিন কলা ফলনের পর কৃষক যে গাছগুলো কেটে ফেলে দিতেন, সেই ফেলে দেয়া গাছই জীবিকার মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এসব মূল্যহীন কলাগাছ ও কচুরিপনা শিল্পের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। যা কফিন তৈরির কাঁচামালে পরিণত হয়েছে।

রফতানিমুখী কফিন আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় সুখবর বয়ে এনেছে। লক্ষ্মীছাড়া পানাই, আর কলা ফলানোর পর কেটে ফেলা কলাগাছ এখন নীলফামারী জেলা সদরের লক্ষ্মীচাপ গ্রামের লক্ষ্মী!

ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে নীলফামারীতে তৈরি কফিন রফতানি হচ্ছে। উদ্ভিদ জাতীয় উপকরণ এই কফিন তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে ডোবার কচুরিপানা ও পরিত্যক্ত কলাগাছ এখন আর ফেলে দেয়ার তালিকায় নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, কফিনগুলো সম্পূর্ণ কৃষি সংশ্লিষ্ট হওয়ায় ৭৫ শতাংশ কাঁচামাল এ অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি কফিনের ওজন সর্বোচ্চ ২০ কেজি। তিন ধরনের কফিন তৈরি হচ্ছে ব্যাম্বু (বাঁশ) কফিন, সি গ্রাস (হোগলা) কফিন ও উইলো কফিন। পরিত্যক্ত কলাগাছ, কচুরিপানা, বাঁশ ও হোগলা স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করে কফিন তৈরি করা হয়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর নীলফামারীর সোনারায় ইউনিয়নে ২১৩ দশমিক ৬৬ একর জায়গায় ‘উত্তরা ইপিজেড’ স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা বেড়ে গিয়ে এখন বড় ইপিজেডে পরিণত হয়েছে উত্তরা ইপিজেড। আর এখানেই যুক্তরাজ্যের ডেভিড হাউ গড়ে তুলেছেন ‘ওয়েসিস কফিনস’ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

জানা যায়, স্থানীয় সহজলভ্য উপাদান দিয়ে কফিন তৈরি করে তা ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে বিক্রি করে ওয়েসিস কফিনস। এটিতে সহায়তা করছে এল জেরি ও ফিয়ানার গড়া প্রতিষ্ঠান টিন্ডার ক্যাপিটাল। সঙ্গে যোগ দিয়েছে পানাপুর নামে যুক্তরাজ্যের আরেকটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের এই সংগ্রামে সঙ্গী হয়েছেন বাংলাদেশের নীলফামারীর দরিদ্র নারী-পুরুষরাও।

কলা গাছের বিকল্প কোন ব্যবহার না থাকার কারণে কলার ছড়া কাটার পরে কলা গাছটিও কেটা ফেলা হতো একসময়। তবে বর্তমান সময়ে পরিত্যক্ত কলার বাকল থেকে উৎপাদিত হচ্ছে ভালমানের ফাইবার বা সুতা। একটি কলা গাছের বাকল থেকে কম করে হলেও ২০০ গ্রাম সুতা উৎপাদন করা যায়। এই সুতা ওই কফিন তৈরির সময় বাঁধার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইপিজেড ওয়েসিস ট্রান্সফরমেশন লিমিটেডের সাপ্লাই চেইন কমার্শিয়াল ম্যানেজার এলেন ফেইত ফুলেল বলেন, আমরা বেকারদের কর্মসংস্থান, প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও সৌন্দর্য রক্ষা,পাশাপাশি বৈদেশিক আয়ের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে যাচ্ছি। এখান থেকে বছরে আমাদের অন্তত ২৫ কোটি টাকা আয় হয়ে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

three × 5 =