Templates by BIGtheme NET
২৮ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ১৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিজ্ঞান- প্রযুক্তি » ভুত আবিস্কার করেছিলেন যেই বিজ্ঞানী !

ভুত আবিস্কার করেছিলেন যেই বিজ্ঞানী !

প্রকাশের সময়: নভেম্বর ১, ২০১৯, ১:৫৪ অপরাহ্ণ

ভুত ও বিজ্ঞানী। বাস্তবতার নিরিখে দুইজন দুই মেরুর বাসিন্দা। তবে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ভিক ট্যান্ডি একবার ভুতের ভয় পেয়ে ভুতের অনুসন্ধানে নেমেছিলেন। এরপর তিনি আবিস্কার করেন ইনফ্রাসাউন্ড নামের একটি নতুন ভুত।

বিজ্ঞানী ভিক একটি ল্যাবে কাজ করতেন। কিন্তু তার সহকর্মীরা সেখানে কাজ করতে অস্বস্তি বোধ করতেন। তাদের ধারণা ছিলো ল্যাবে ভুত আছে। অনেকেই অশরীরীর দেখা পেয়েছেন বলেও দাবি করতেন।

একদিন একাকী কাজ করছিলেন ভিক। হঠাৎ লক্ষ্য করলেন তাঁর খেলার তলোয়ারটা নিজে থেকেই কাঁপছে, কাঁপছে ল্যাবের অনেক হাল্কা বস্তুও। মাথা উঠিয়ে লক্ষ্য করলেন এক অশরীরী তাঁর ডেস্কের কোনায় দাঁড়িয়ে আছে। এরপর সেটি মিলিয়ে গেলেও আবার কিছুক্ষণ পর এসে হাজির হল সেই অশরীরী। একলাফে ল্যাব থেকে বের হয়ে বাসায় চলে আসলেন ভিক কিন্তু বৈজ্ঞানিক হওয়াতে সরাসরি ভূতের বিশ্বাসে যেতে দ্বিধায় ভুগছিলেন।

পরের দিন বাসায় থাকা আরেকটি ফেন্সিং এর তলোয়ার হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করতেই খট করে একটা ব্যাপার মাথায় আসলো ভিকের। দ্রুত ল্যাবে ফিরে গেলেন, এবং পরীক্ষার মাধ্যমে বুঝতে পারলেন, যেই ভূত তলোয়ার নাড়াচ্ছিল, সেই ভূতই তাকে অশরীরী দেখিয়েছে, এবং সেই ভূতটা হচ্ছে ইনফ্রাসাউন্ড (infrasound)।

ইনফ্রাসাউন্ড কি?

মানুষের শ্রবণক্ষমতা ২০ হার্জ থেকে ২০,০০০ হার্জ পর্যন্ত। ২০ হার্জের নিচের অর্থাৎ ইনফ্রাসাউন্ডের কোন শব্দ আমরা শুনতে পাই না। কিন্তু এই শব্দ শুনতে না পেলেও তা আমাদের অন্যান্য ইন্দ্রিয় এবং মস্তিষ্ক ঠিকই অনুভব করে।
যদি কখনো আপনার লো প্রেসার থাকে এবং কোন কারনে ইনফ্রাসাউন্ড ওয়েভ সৃষ্টি হয় তাহলে তার প্রভাবেই অস্বস্তি লাগা, চোখের সামনে ছায়া দেখা কিংবা বমির উদ্রেক হতে পারে। আর ভূতুড়ে পরিবেশে এই অস্বস্তি লাগা বা ছায়া দেখাই হঠাৎ তীব্র আতংকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই ইনফ্রাসাউন্ড প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন হতে পারে ঝড়ো আবহাওয়াতে, বজ্রপাত বা তীব্র বাতাসের মধ্যেও আপনাকে ভুত দেখানে পারে।

ফিরে আসি ভিকের ল্যাবে। ল্যাবের সব যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করে দেখা গেল যে, ল্যাবের একটি ফ্যান ১৯ হার্জের ইনফ্রাসাউন্ড উৎপন্ন করছে এবং ল্যাবের মানুষজনকে ভূত দেখাচ্ছে। ফ্যানটি সরানোর পর ল্যাবের ভূতপ্রেতও সব মিলিয়ে গিয়েছিলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

15 + seven =