Templates by BIGtheme NET
২৯ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ১৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » অন্য পত্রিকার খবর » সাকিবের সঙ্গে যে কথা হয়েছিল ভারতীয় জুয়াড়ির

সাকিবের সঙ্গে যে কথা হয়েছিল ভারতীয় জুয়াড়ির

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ৩০, ২০১৯, ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক: দুই বছর আগে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েছিলেন জুয়াড়িদের কাছ থেকে। কিন্তু তা গোপন রেখেছিলেন আইসিসির অ্যান্টি করাপশন অ্যান্ড সিকিউরিটি ইউনিটের (আকসু) কাছে। এ তথ্য গোপন করার অভিযোগে টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে সব ধরনের ক্রিকেটে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি।

গতকাল মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার এই শাস্তি পেয়েছেন আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালার তিনটি আইন লঙ্ঘন করার অপরাধে। বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সব কটি দায় মেনে নিয়েছেন। যদি নিষেধাজ্ঞার সময় শাস্তির সব বিধিনিষেধ মেনে চলেন, তাহলে ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন সাকিব।

আইসিসি’র ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উঠে এসেছে সাকিবের সঙ্গে সেই জুয়াড়ির বিস্তারিত যোগাযোগের সব তথ্য। সেই তথ্যই আমাদের আজকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রতিদিনের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

১. ২০১৭ সালের ৪ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসর অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে খেলেছিলেন সাকিব।

২. তারই পরিচিত কোনও এক ব্যক্তি দীপক আগারওয়াল নামে এক ভারতীয় জুয়াড়িকে তার ফোন নম্বর দিয়েছেন যাকে সাকিব আল হাসান চিনতেন।

৩. নভেম্বর ২০১৭ এর মাঝামাঝি সময়ে হোয়াটসঅ্যাপে আগারওয়ালের সঙ্গে সাকিব কিছু বার্তা আদান-প্রদান করেন। তখনই আগারওয়াল সাকিবের সঙ্গে দেখা করার প্রস্তাব দেন।

৪. ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা-জিম্বাবুয়েকে নিয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের সময় দলের অনুশীলনে অংশ নেন সাকিব। সিরিজ চলাকালীন দু’জনের মধ্যে আবারও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা আদান-প্রদান হয়।

৫. ১৯ জানুয়ারি সাকিবকে অভিনন্দন জানিয়ে খুদে বার্তা পাঠান আগারওয়াল, যেখানে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচসেরা হন সাকিব। সেদিনই সাকিবকে একটি বার্তা পাঠান আগারওয়াল, যেখানে লেখা ছিল- ‘কাজটা কি এখনই হবে, নাকি আমি আইপিএল পর্যন্ত অপেক্ষা করব?’

৬. এখানে ‘কাজ’ বলতে মূলত দলের ভেতরের খবর ফাঁস করাকে বুঝিয়েছেন আগারওয়াল।

৭. আগারওয়ালের কাছ থেকে পাওয়া এই প্রস্তাবের কথাই আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট (আকসু) বা অন্য কোনো দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাকে জানাননি সাকিব।

৮. ঠিক এর চার দিন পর ২৩ জানুয়ারি আগারওয়ালের কাছ থেকে আরও একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পান সাকিব। যেখানে দলের ভেতরের খবর ফাঁস করার জন্য আবারও সাকিবকে প্রস্তাব দেন তিনি। বার্তায় আগারওয়াল বলেন, ‘এই সিরিজের ব্যাপারে কি কোনও তথ্য পেতে পারি?’

৯. সাকিব তথ্যটি নিশ্চিত করেন যে আগাওয়াল তাকে ত্রিদেশীয় সিরিজের তথ্য দিতে বলেছিলেন।

১০. একই প্রস্তাব আবার পেলেও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাকে এবারও কোনো কিছুই জানাননি সাকিব।

১১. ২৬ এপ্রিল ২০১৮, আইপিএলে সাকিব সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে মাঠে নামেন।

১২. সেদিন হোয়াটসঅ্যাপে পুনরায় সাকিবকে বার্তা পাঠান আগারওয়াল যে, তার (সাকিব) দলের একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড় ওই ম্যাচে খেলবেন কি-না। এছাড়া দলের ভেতরের আরও কিছু তথ্য জানতে চান আগারওয়াল।

১৩. সেদিন আগারওয়ালের সঙ্গে অনেকক্ষণ ধরেই কথা চালিয়ে যান সাকিব। আগারওয়াল সাকিবের কাছে ডলার অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য জানতে চান। সাকিব জবাবে তাকে জানান যে, তিনি আগারওয়ালের সঙ্গে দেখা করতে চান ‘প্রথমে’।

১৪. ২৬ এপ্রিলের সেই ‘চ্যাটিং’য়ের বেশ কিছু অংশ সাকিব ফোন থেকে ডিলিট করে দেন। দলের ভেতরের যে তথ্য জানতে চেয়েছিলেন আগারওয়াল, সেই বার্তাগুলোই ডিলিট করেন সাকিব।দুর্নীতি দমন ইউনিটের কাছে সাকিব এটা স্বীকার করেছেন।

১৫. ওই দিনের কথোপকথনের পরেই আগারওয়ালের বিষয়টা নিয়ে সাকিবের সন্দেহ হয়। আগারওয়াল যে একজন জুয়াড়ি, সেটা বুঝতে পারেন সাকিব।

১৬. এবারও সাকিব আকসুকে ২৬ এপ্রিলের ঘটনার ব্যাপারে কিছুই জানাননি।

আইসিসির কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে সাকিব বলেছেন, ‘আমার পছন্দের খেলা ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হয়ে আমি খুবই কষ্ট পাচ্ছি। তবে আমাকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে তা মেনে নিচ্ছি। আমি অনৈতিক প্রস্তাব পাওয়ার পরও তা আকসুকে জানাইনি। আমি আমার দায়িত্ব পালন করিনি।’

সাকিব আল হাসান আকসুকে জানান, আগারওয়ালের দেওয়া কোনো প্রস্তাবেই তিনি রাজি হননি। আগারওয়ালের দেওয়া প্রস্তাবে দলের অভ্যন্তরীণ কোনো তথ্যই তিনি ফাঁস করেননি। এমনকি আগারওয়ালের কাছ থেকে কোনো ধরনের নগদ অর্থ কিংবা অন্য কোনো উপহারও তিনি নেননি।

আইসিসির প্রতিবেদনে সাকিবের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তরুণ ক্রিকেটাররা আমার এ ভুল থেকে শিক্ষা নেবে। বিশ্বের অধিকাংশ ক্রিকেটার ও সমর্থকের মতো আমিও চাই দুর্নীতিবিরোধী খেলার পরিবেশ। আমি আইসিসির দুর্নীতিবিষয়ক কমিটির সঙ্গে এ ব্যাপারে কাজ করার অপেক্ষায় আছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

19 − 18 =