Templates by BIGtheme NET
৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » জাতীয় » বিনামূল্যে হাঁস মুরগি প্রদান
বদলে যাবে চরাঞ্চলের মানুষের জীবন

বিনামূল্যে হাঁস মুরগি প্রদান
বদলে যাবে চরাঞ্চলের মানুষের জীবন

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ১৯, ২০১৯, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ভৌগলিক অবস্থানের কারণে উপকূলীয় চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান একটু নিম্নমুখী থাকে। সারাদেশের মতো উপকূলীয় অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দৃষ্টি দিয়েছে বর্তমান সরকার। গরীব মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পরিবারে বিনামূল্যে দেয়া হবে হাঁস, মুরগি, ভেড়া। তাদের পালনের জন্য ঘরও করে দেবে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিনামূল্যে উপকূলীয় চরে হাঁস, মুরগি, ভেড়া দেওয়ার ফলে এতে চরের গরীব মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বচ্ছলতার পাশাপাশি হবে কর্মসংস্থান। এছাড়া ক্ষুদ্র খামার স্থাপন করে ডিম ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করবে। পাশাপাশি নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আরও এগিয়ে যাবে দেশ। পাল্টে যাবে উপকূলীয় চরের সংগ্রামী জীবনও। উপকূলের মানুষের জীবনচিত্র একটু ভিন্ন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি এখানে আবহাওয়া কখনও কখনও বৈরী আচরণ করে। এতে উৎপাদনে নানামুখী প্রভাব ফেলে। উপকূলের অনেকেই কাজের অভাবে অলস সময় কাটায়। এতে গরীব পরিবার আরও গরীব হয়। এই পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে সবাইকে কাজের মধ্যে রাখতে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, উপকূলীয় চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি, মৎস্য ও পশুপাখি পালন নির্ভর। কিন্তু প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকা এসব এলাকায় এখনও প্রাণিসম্পদের উৎপাদনশীলতা কাঙ্খিত মাত্রায় হয়নি। চরাঞ্চলের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এসব মানুষের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণ এবং নারীদের স্বনির্ভর করে তুলতে তিন বছর মেয়াদী একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। ’১৯ সালের মে মাসে শুরু এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯৫ কোটি ৩৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের সাত জেলার ১৬ উপজেলার মোট ৬৮ ইউনিয়ন। সুফলভোগীর সংখ্যা ৩৪ হাজার ৪০৮ পরিবার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পিছিয়ে থাকা দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক গরীব পরিবারের মুখে ফুটবে হাসি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দফতরের গণযোগাযোগ কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে উপকূলের দরিদ্র পরিবারগুলোর কর্মসংস্থান হবে। পুষ্টি চাহিদা মিটবে। দরিদ্রতাও কমে আসবে।

এ প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগী ৩৪ হাজার ৪০৮ পরিবারের মধ্যে ১৭ হাজার পরিবারকে বিশটি করে হাঁস, হাঁসের ঘর ও হাঁসের ৬৫ দিনের খাবার, ১০ হাজার ২শ’ পরিবারকে বিশটি করে মুরগি, মুরগির ঘর ও মুরগির ৬৫ দিনের খাবার, ৬ হাজার ৮শ’ পরিবারকে তিনটি করে ভেড়া, ভেড়ার ঘর ও ভেড়ার ৮০ দিনের খাবারের পাশাপাশি এক বছর পর্যন্ত চিকিৎসা, ভ্যাকসিন ও মেডিসিন বিনামূল্যে দেয়া হবে। ৬৮ পরিবারকে কবুতর পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ, কবুতরের ঘর করে দেয়া হবে। এছাড়া ৩৪০ জনকে উন্নতমানের নেপিয়ার ঘাস চাষের জন্য ৭ হাজার করে টাকা দেয়া হবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর সুফলভোগী বাছাই কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বর্তমানে প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

eleven − one =