Templates by BIGtheme NET
৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » জাতীয় » কেন পুরুষের চেয়ে নারীরাই বেশি আত্মহত্যা করে?

কেন পুরুষের চেয়ে নারীরাই বেশি আত্মহত্যা করে?

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ১৯, ২০১৯, ১২:০৫ অপরাহ্ণ

এ জেড ভূঁইয়া আনাস : বিশ্বে মাত্র পাঁচটি দেশে পুরুষদের চেয়ে নারীরা বেশি আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা৷ এর মধ্যে বাংলাদেশও একটি৷ বাকিগুলো হচ্ছে মিয়ানমার, চীন, মরক্কো ও লেসোথা৷ সম্প্রতি বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ নিয়ে ডাব্লিউএইচও’র প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে আসে।

পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর ফাঁসিতে ঝুলে ও বিষ খেয়ে গড়ে ১০ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করে। এর বাইরে ঘুমের ওষুধ খেয়ে, ছাদ থেকে লাফ দিয়ে ও রেললাইনে ঝাঁপ দিয়ে অনেকে আত্মহত্যা করেন। পুলিশের তথ্যমতে, দেশের বড় বড় হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগে যত রোগী ভর্তি হয়, তার সর্বোচ্চ ২০ ভাগ হচ্ছে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়া রোগী।

হঠাৎ করে নারী আত্মহননকারী বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে পুলিশ সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সমস্যাকেই দায়ী করছেন। আর সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, যৌতুকের কারণে নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন, পারিবারিক সহিংসতা, নারী হওয়ার কারণে অবদমিত করে রাখার সামাজিক মানসিকতা এবং অতিরিক্ত চাপ অর্থাৎ সামাজিক, পারিবারিক, জৈবিক এসব কারণে নারীরা আত্মহত্যায় উদ্বুদ্ধ হয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার অ্যাডভোকেট দীপ্তি শিকদার বলেন, ‘যৌতুকের নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা সহ্য করতে না পেরে নারীরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। এসব কারণে একজন নারীর মধ্যে হতাশা বেশি থাকে। অনেক সময় বাবা-মায়ের সঙ্গে কোনও ঝামেলা হলে নিজের প্রতি আস্থাহীনতার কারণে ডিপ্রেসনে ভুগে। এতে ছাত্রছাত্রীরা আত্মহত্যা করছে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)-এর মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সেলিনা ফাতেমা বিনতে শহীদ বলেন, ‘জৈবিকভাবে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে আলাদা, তেমনি মানসিকভাবেও আলাদা। মেয়েরা বেশি আবেগপ্রবণ হয়। দেখা যায়, যখন মেয়েরা আবেগটা দমন করতে পারে না, তখন আত্মহত্যা করে বসে। এখানে ইমোশনটা রিলেটেড। হতাশা ও নিজেকে দোষী ভাবা থেকে রেহাই পেতেই তারা আত্মহত্যা করে। অনেক সময় দেখা যায়, মেয়েরা বিষণ্নতায় বেশি ভোগে। সেই ক্ষেত্রেও মেয়েদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি।’

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে, এমন মানুষকে যদি চিহ্নিত করা যায়, তবে ওই ব্যক্তিকে আত্মহত্যার পথ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তাই পরিবারকে সন্তানের প্রতি মনযোগী হওয়ার পরামর্শ তাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

8 − two =