Templates by BIGtheme NET
৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » জাতীয় » বাংলাদেশের বিজ্ঞানীর সাফল্য
দূষিত তরল শিল্পবর্জ্য শোধন করবে অনুজীব

বাংলাদেশের বিজ্ঞানীর সাফল্য
দূষিত তরল শিল্পবর্জ্য শোধন করবে অনুজীব

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ১৮, ২০১৯, ১০:১৭ অপরাহ্ণ

মোহাম্মাদ এনামুল হক এনা: দেশের নদী-নালাগুলোতে পতিত দূষিত তরল শিল্পবর্জ্য শোধন করবে অনুজীব। এই আবিস্কারকে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের আরেকটি বড় সাফল্য অর্জন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব দূষিত তরল বর্জ্যে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে যা ওই বর্জ্য ভেঙ্গেই অনুজীব পুষ্টি সংগ্রহ করে থাকে। আর এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিল্প বর্জ্য থেকে শুরু করে দূষিত হয়ে পড়া নদী-নালা খাল-বিলের পানি শোধন করা সম্ভব হবে। গবেষণা দ্বারা এটি প্রমাণ করেছেন গাজীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি ও এ্যাকোয়াটিক এনভায়রনমেন্ট বিভাগের বিজ্ঞানীরা।

ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা গাজীপুরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন ডায়িং কারখানা। এসব কারখানার দূষিত বর্জ্য গাজীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে তৈরি নর্দমা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রাকৃতিক উপায়ে কিভাবে এই বর্জ্য পরিশোধন করা সম্ভব এই চিন্তা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি ও এ্যাকোয়াটিক এনভায়রনমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক এসএম রফিকুজ্জামান দূষিত বর্জ্য নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন।

অধ্যাপক এসএম রফিকুজ্জামান জানান, ড্রেন থেকে ডায়িং কারখানার নীল রঙের পানি ল্যাবে নিয়ে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে দূষণমুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। মাটি এবং দূষিত বর্জ্যে বাস করে এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া ডায়িং কারখানা থেকে সংগৃহীত পানির মধ্যে রেখে দেয়া হয়। ২৪ ঘণ্টায় দেখা গেল পানির নীল রং আর নেই। নীলের পরিবর্তে স্বচ্ছ পানির রং ফিরে এসেছে। এরপর তিনি এই ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে অতি দূষিত পানি নিয়ে পরীক্ষা করেন। বিশেষ করে পানির নিচের অংশে যেসব হ্যাভি মেটাল থাকে সেগুলো পরিশোধনের জন্য পরীক্ষা চালান। এক পর্যায়ে দেখতে পান পানির নিচে অংশ জমে থাকা হ্যাভি মেটাল আর নেই। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো হ্যাভি মেটাল ভেঙ্গে সেখান থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করায় পানি সম্পূর্ণ পরিষ্কার রূপ ধারণ করেছে।

অধ্যাপক এসএম রফিকুজ্জামান বলেন, মাটি এবং দূষিত বর্জ্যর মধ্য থেকে সংগৃহীত বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা এই গবেষণা করা হয়েছে।

ফিশারিজ এবং এ্যাকোয়াটিক এনভায়রনমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. এসএম রফিকুজ্জামান বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে একটি অনুজীব বর্জ্যজল শোধনাগার তৈরি দেশের জন্য একান্তই প্রয়োজন। তা যেমন অর্থনৈতিক দিক থেকে সাশ্রয়ী হবে। অপরদিকে পরিশোধিত পানি বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করা যাবে।

গবেষণায় সম্পৃক্ত বিজ্ঞানীরা জানান, পরিকল্পিত অনুজীব বর্জ্যজল শোধনাগারটি শুধু নিরাপদ পানির উৎসই হবে না, সহজ স্থাপনা ও ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বর্তমান পরিশোধন প্লান্টগুলোর তুলনায় খরচ বাঁচবে ৮০ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘অনুজীব বর্জ্য শোধানাগারে পরিশোধিত পানি দ্বারা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে জলজ জীববৈচিত্র্য এবং পাশাপাশি উন্মুক্ত জলাশয়ে যেমন নদ-নদী, খাল-বিল ইত্যাদি পানির উচ্চতাও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

1 × 1 =