Templates by BIGtheme NET
৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » জাতীয় » সড়কে মৃত্যু : নতুন আইনে মালিক শ্রমিকদের আপত্তি

সড়কে মৃত্যু : নতুন আইনে মালিক শ্রমিকদের আপত্তি

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ১৮, ২০১৯, ৮:০৯ অপরাহ্ণ

এ জেড ভূঁইয়া আনাস:

‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’র শিক্ষাগত যোগ্যতা, মৃত্যুদণ্ড ও বয়সের বিষয়টি শিথিলসহ কয়েকটি ধারার পরিবর্তন চান মালিক ও শ্রমিকরা। একইসঙ্গে আইনের এসব ধারার পরিবর্তনসহ সব ধারায় জামিনের বিধান রাখারও দাবি তুলেছেন তারা।

জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করা এই আইনটি জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পর গেজেট আকারে প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু পরিবহন মালিকদের বিরোধীতায় আইনটি কার্যকর করা যাচ্ছে না।

পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সড়ক পরিবহন আইনের সব ধারায় মালিক শ্রমিকদের আপত্তি নাই। শ্রমিকদের দাবি হচ্ছে, সড়ক পরিবহন আইনের সব ধারা জামিনযোগ্য করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিকের কারাদণ্ডের মেয়াদ ৫ বছরের বিধান বাতিল করতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণির বদলে পঞ্চম শ্রেণি করতে হবে। আর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা ইচ্ছাকৃত দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধানেও পরিবর্তন আনতে হবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, এই আইনের সব ধারাকে জামিনযোগ্য করতে হবে। যে কোনও মামলা আমার নামে হতেই পারে। তবে জামিন পাওয়া আমার অধিকার। আদালত মনে করলে আমাকে জামিন দেবেন। কিন্তু আইনে সেই সুযোগ না থাকলে তা হবে অবিচার। তাই এই আইনের সব ধারা জামিনযোগ্য করার কথা বলেছি।

রজনীগন্ধা পরিবহনের হেলপার আকবর হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন হেলপারি করার পর ড্রাইভার হওয়া আমাদের জীবনের একটি স্বপ্ন। কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতা ৮ শ্রেণি পাস হওয়ায় আমরা ড্রাইভার হতে পারবো না। তাই শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্তটি বাতিল করতে হবে।

সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর পরেও অনেক সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে, ফলে মানুষ মারা যায়। এই অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা ড্রাইভারদের প্রতি অবিচার বলে মনে করেন ৬ নম্বর বাসের চালক ইলিয়াস আলী। তাই পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিলের দাবি তার।

সড়ক পরিবহন আইনে শাস্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিকদের অভিযোগটি ঠিক নয় দাবি করে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য সৈয়দ আবুল মাকসুদ বলেন, তাদের দাবীর সঙ্গে সামঞ্জস্য করে আইনটি সংশোধনের কাজ চলছে। পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, নতুন আইনে সাজা কমানো হয়েছে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আগে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৪ (বি)-তে সাজা ছিল ৭ বছর। ১৯৮৫ সালে ৩ বছর করা হয়। এখন সাজা বাড়িয়ে ৫ বছর করা হয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী ১৯৮৫ সালের আগের তুলনায় সাজা কমেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four × three =