Templates by BIGtheme NET
৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » অর্থনীতি » জাপানে রফতানি হচ্ছে ওলকচুর চিপস, অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা (ভিডিও)

জাপানে রফতানি হচ্ছে ওলকচুর চিপস, অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা (ভিডিও)

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ১৭, ২০১৯, ২:৫১ অপরাহ্ণ

দেশে এতদিন ওলকচুর প্রচুর উৎপাদন হলেও রফতানি হতো না। এমনকি দেশেও কৃষিপণ্যটির খুব একটা চাহিদা নেই। জাপানে রফতানির মাধ্যমে এ কৃষি পণ্যটির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জাপানের পাশাপাশি অন্য দেশেও পণ্যটির বাজার ধরতে পারলে দেশের রফতানি খাতে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশে উৎপাদিত এক টন ওলকচুর চিপস প্রথমবারের মতো ২০১৮ সালে জাপানে রফতানি হয়। পণ্যটির মান ভালো হওয়ায় গত ৬ জুন চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো দেশটিতে আরো এক টন এ চিপস রফতানি করা হয়। জাপানের ওসাকায় অবস্থিত এশিয়া পার্টনারশিপ কোম্পানি লিমিটেডের কাছে চিপসগুলো রফতানি করে ঢাকার সিএনএফ এজেন্ট দাই ইচি ইন্টারন্যাশনাল।

জানা যায়, জাপানিদের কাছে এ খাদ্যপণ্যটি বেশ জনপ্রিয়। পরপর দুই বছর জাপানের ওসাকায় ওলকচুর চিপস রফতানি করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে তারা আরো চিপস নিতে আগ্রহী। এছাড়া ওলকচুর চিপসের চাহিদা রয়েছে এশিয়া ও ইউরোপসহ বিশ্বের আরো অনেক দেশে।

দাই ইচি ইন্টারন্যাশনাল পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ওলকচু সংগ্রহের পর ঢাকায় এ চিপস তৈরি করে। পরিপক্ব ওলকচু পরিষ্কার করে খোসা ছড়ানো হয়। এরপর পাতলা করে কেটে গরম বাতাসে শুকিয়ে তৈরি করা হয় চিপস। প্রতি পাঁচ কেজি কাঁচা ওলকচু থেকে চিপস পাওয়া যায় এক কেজির কিছু বেশি।

জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে যে ওলকচুর চিপস রফতানি করা হচ্ছে, তার কেজিপ্রতি দাম পড়ছে ৩ মার্কিন ডলার বা প্রায় ২৫০ টাকা। অথচ জাপানে উৎপাদিত ওলকচু চিপস দেশটিতে বিক্রি হয় ৪-৫ মার্কিন ডলারে। ফলে ভালো মান ও তুলনামূলক কম দামের কারণে জাপানের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি পরিমাণ নিতে চাচ্ছেন।

ওলকচু বানানো খাবার প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, লিপিড, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, কপার, জিংক, ফ্যাটি ও ফলিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন ভিটামিনের উৎস। এছাড়া এটি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ, কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি ও ত্বকের কোমলতা বৃদ্ধিতে কাজ করে।

জানা যায়, জাপানে ওলকচু চাষ হয় সুমদ্রপৃষ্ঠ থেকে এক হাজার ফুট উপরে। সেই জাতটি ওভাল আকৃতির। অন্যদিকে বাংলাদেশে উৎপাদিত ওলকচুতে ৯৭ শতাংশ পানি ও ৩ শতাংশ আঠালো এক জাতীয় পদার্থ থাকে। জাপানিরা ঐতিহ্যগতভাবে ওলকচু খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করছে। প্রায় ৫০০ বছর আগে থেকেই দেশটিতে ওলকচু-জাতীয় খাবার মানুষের শারীরিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পুষ্টিমানের জন্য ব্যবহার হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

5 × 3 =