Templates by BIGtheme NET
৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিজ্ঞান- প্রযুক্তি » সূর্যের তাপ ঠেকাতে কাজ করছেন বিল গেটস!

সূর্যের তাপ ঠেকাতে কাজ করছেন বিল গেটস!

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ১৫, ২০১৯, ৪:০৮ অপরাহ্ণ

উষ্ণায়ন জ্বরে কাঁপছে বিশ্ব। পৃথিবীর তাবৎ বিজ্ঞানীরা উষ্ণতা কমাতে নানান রকম উপদেশ দিচ্ছেন। কিন্তু এই উপদেশগুলো কেউ মানছে, আবার কেউ মানছে না।

গত ১০০ বৎসরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ০.৫ সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা বাড়বে ১.৫-২.০ সেন্টিগ্রেড। এবং ২১০০ সালে ৬.৩ সেন্টিগ্রেডের মতো বৃদ্ধি পেতে পারে।
তাই বিশ্বকে বাঁচাতে হলে ঠেকাতে হবে উষ্ণতা।

কৃত্রিম উপায়ে উষ্ণায়ন কমাবার জন্য কয়েকবছর ধরে চেষ্টা করছিলেন আমেরিকার হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা। এই মহৎ গবেষণায়, ব্ল্যাঙ্ক চেক নিয়ে বিজ্ঞানীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ধনকুবের বিল গেটস। তার টাকায় বিজ্ঞানীরা শুরু করেছিলেন Stratospheric Controlled Perturbation Experiment নামে একটি ঐতিহাসিক প্রজেক্ট। সংক্ষেপে যাকে বলা হচ্ছে SCoPEx।

গ্রীন হাউস প্রভাব , ওজোন স্তরের ক্ষয়ের কারণে পৃথিবীতে অতিরিক্ত সূর্য রশ্মির প্রবেশ করে। বিজ্ঞানিরা চাচ্ছেন এই আলোক রশ্মি বায়ুমণ্ডলের বাইরে থেকেই বিদায় করে দিতে। তাই হার্ভার্ড এর বিজ্ঞানীরা SCoPEx নামের প্রজেক্টের মাধ্যমে অতিরিক্ত সূর্য রশ্মিকে, বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে আবার মহাকাশেই ফিরিয়ে দেবেন।

এই প্রজেক্টে বিজ্ঞানীরা মহাকাশে পাঠাবেন একটি বিশেষ বেলুন। বেলুনটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ২০ কিলোমিটার ওপরের বায়ুমন্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে ক্যালশিয়াম কার্বোনেটের গুঁড়ো স্প্রে করবে। প্রথমে ২ কিলোগ্রাম ক্যালশিয়াম কার্বোনেটের গুঁড়ো স্প্রে করা হবে। এই গুঁড়ো স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় ছড়িয়ে গিয়ে একটা সানশেড তৈরি করবে। যে সানশেডে বাধা পেয়ে বেশ কিছু পরিমাণ সূর্য রশ্মি আবার মহাকাশে ফিরে যাবে।

পৃথিবীর আদর্শ তাপমাত্রা বজায় রাখার জন্য যেটুকু সূর্য রশ্মি প্রবেশের প্রয়োজন ততটুকুই প্রবেশ করবে পৃথিবীতে। এর ফলে বিশ্ব উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পাবে পৃথিবী ও জীবজগৎ।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম SCoPEx পরীক্ষার খরচ হচ্ছে তিন মিলিয়ন ডলার। বিজ্ঞানীরা ১০০% নিশ্চিত পরীক্ষাটি সফল হবে। পরীক্ষাটি সফল হলে, ভবিষ্যতে পৃথিবী জুড়েই এরকমই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইতিমধ্যে কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে উৎক্ষেপণের সময় ও তারিখ জানাবে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

5 × 1 =