Templates by BIGtheme NET
৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিবিধ » যেভাবে যুদ্ধের ময়দান থেকে ফ্যাশনজগতে স্থান পেল হাই হিল !

যেভাবে যুদ্ধের ময়দান থেকে ফ্যাশনজগতে স্থান পেল হাই হিল !

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ১৫, ২০১৯, ১:২১ অপরাহ্ণ

আজকাল নারীদের সাজসজ্জায় অন্যতম অনুসঙ্গের নাম হাই হিল বা উঁচু জুতা। শোবিজে প্রায় সব মডেলদের পায়েই দেখা যায় হাই হিল। আর শারীরিক গঠনে উচ্চতা যাদের একটু কম, তাদের কাছেও বেশ জনপ্রিয় এই উঁচু জুতা। এখনকার সময়ে নারীদের জিনিস মনে হলেও হাই হিলের জন্ম কিন্তু পুরুষদেরই জন্য। তবে ঠিক ফ্যাশনের জন্য নয়, ছিল অন্য কোনো রহস্য।

ধারণা করা হয়, হাই হিল প্রচলনের যুগ দশম শতকের। মূলত হাই হিল যুক্ত জুতা ব্যবহার করত পুরুষ সৈনিকেরা। নারীরা সেটা ব্যবহার শুরু করে অনেক পরে। এর ইতিহাস প্রাচীন পারস্যের সঙ্গে যুক্ত বলে অনেক গবেষকেরা মনে করেন।

জানা যায়, প্রাচীন পারস্যের ঘোড়সওয়ার তিরন্দাজ সৈনিকেরা উঁচু হিল যুক্ত জুতা পরত ঘোড়ার পিঠে চড়ে যুদ্ধ করার সুবিধার জন্য। এতে চলন্ত অবস্থায় ঘোড়ার পিঠ থেকে তির ছোড়ার সুবিধা পাওয়া যায়।

তবে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপের অভিজাত পুরুষদের ফ্যাশন সামগ্রীতে পরিণত হয় এই জুতা। সতের শতকের মাঝামাঝি সময়ে এই ধারণা বদলাতে শুরু করে। তখন উঁচু জুতাকে কিছুটা দুর্বল লোকদের ব্যবহার্য জিনিস বলে মনে করা হতো। এরই একপর্যায়ে হাই হিলের গায়ে লেগে যায় ‘মেয়েদের জুতো’ তকমা।

ওই সময় হাই হিল বেশ ভারী ও পুরু ছিল। কিন্তু, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই এর চেহারা বদলাতে শুরু করে। জুতার ‘হিল’ (উঁচু অংশ) ও শ্যাঙ্ক (জুতার নিম্নাংশ) তৈরিতে ধাতুর ব্যবহার শুরু হয়। এতে বেশ শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে হাই হিল।

এদিকে, প্রস্তুতকারকরা তখনো হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন, কীভাবে জুতাকে একইসঙ্গে উঁচু ও আরামদায়ক করে তোলা যায়। সেসময় এগিয়ে আসেন পা-গোড়ালির সার্জন থেকে জুতার ডিজাইনার বনে যাওয়া জোয়ান ওলোফ। হাই হিল পরে হাঁটার সময় পায়ের ব্যাথা দূর করতে প্রথমবারের মতো এতে ফোম ব্যবহার করে দেখান তিনি।

আন্তোনিয়া সেইন্ট যানবার নামে এক উদ্যোক্তা জুতার ভেতর পা পিছলে যাওয়া ঠেকাতে তৈরি করেন হিল কাপ। তবে, সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় একেকজনের একক ধরনের পায়ের আকার। কিন্তু, আধুনিক যুগে এ সমস্যা থেকে বাঁচার উপায়ও বের হয়ে যায়। যারফলে বিশ্বের সব বয়সী নারীদের পায়ে স্থান করে নেয় হাই হিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

one × three =