Templates by BIGtheme NET
৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ১৯ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » আন্তর্জাতিক » জমি ও কৃষক ছাড়াই যেভাবে কৃষিকাজে বিপ্লব আনছে জাপান

জমি ও কৃষক ছাড়াই যেভাবে কৃষিকাজে বিপ্লব আনছে জাপান

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ৯, ২০১৯, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ

কৃষি জমি ও শ্রমিক সংখ্যা কম থাকায় জাপানের কৃষকদের যন্ত্র ও জৈবপ্রযুক্তির দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। বর্তমানে বিশ ধরণের রোবট তৈরির ব্যাপারে ভর্তুকি দিয়ে সহায়তা করছে জাপানের সরকার, যেগুলো কৃষিকাজে সহায়তা করতে সক্ষম। নানা ধরণের ফসলের বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল সংগ্রহের কাজ করবে রোবটগুলো।

জাপান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে আফ্রিকান দেশগুলোর বার্ষিক ধান উৎপাদনের হার দ্বিগুণ করবে। এজন্য বেশ কিছু প্রকল্পও গ্রহণ করেছে। জাপানের কৃষি বিপ্লবের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ২০৫০ সালের মধ্যে জাপান মোট খাদ্য চাহিদার কমপক্ষে ৫৫ শতাংশ নিজেরা উৎপাদন করতে চায় আর তা বাস্তবায়ন হবে প্রযুক্তির সহায়তায়।

জমি না হলেই যে ফসল উৎপাদন সম্ভব নয়, এটি মানতে নারাজ জাপানের কৃষি বিজ্ঞানী ইয়ুচি মোরি। তারমতে, জমি বলে কিছু নেই। তাই চাষাবাদের জন্য দীর্ঘ গবেষণার পর কৃষিবান্ধব পদ্ধতি আবিষ্কার করে সবার নজর কেড়ে সফলও হন তিনি।

এ সফল বিজ্ঞানী চাষাবাদের জন্য এমন একটি জিনিসের ওপর নির্ভর করেন, যেটি আসলে মানুষের বৃক্ক বা কিডনির চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হতো- আর তা হছে পরিষ্কার এবং সহজভেদ্য পলিমারের ঝিল্লি। ওই ঝিল্লির ওপরে উদ্ভিদ বড় হয়ে ওঠে, যা তরল ও পুষ্টি মজুদ করে রাখে। যেকোনো পরিবেশে ফসলি গাছগুলোকে বড় হওয়ার সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি, এই প্রযুক্তি প্রচলিত কৃষিকাজের তুলনায় ৯০ শতাংশ কম পানি ব্যবহার করে। সেই সঙ্গে কীটনাশকও ব্যবহার করতে হয় না- কারণ পলিমার নিজেই ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এভাবে প্রায় শতগুণ বেশি ফসল পাওয়া যায় বলেও জানান এই বিজ্ঞানী।

চলতি বছর পানিসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক জাতিসংঘের বিশ্ব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে যে হারে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে ও পানির ব্যবহার করা হচ্ছে তাতে ২০৫০ সাল নাগাদ প্রায় ৪০ শতাংশ শস্য উৎপাদন ও ৪৫ শতাংশ বিশ্বের দেশজ পণ্য উৎপাদন ঝুঁকিতে পড়বে।

তবে আশার কথা হলো ইয়ুচি মোরির আবিষ্কৃত কৃষি পদ্ধতি এরই মধ্যেই জাপানের দেড় শতাধিক এলাকায় ব্যবহার করা হচ্ছে। আরব আমিরাতও এই প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে। এছাড়া বড় ভূমিকম্প প্রবণ ও ২০১১ সালের মার্চে পারমাণবিক বিপর্যয়ে পড়া এলাকাগুলোয় নতুন করে কৃষিকাজ শুরু করার জন্য এই পদ্ধতি বিশেষভাবে সহায়তা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

five × three =