Templates by BIGtheme NET
৩০ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ১৫ সফর, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিবিধ » মহাসপ্তমী আজ: দেবীর চরণে ভক্তের অঞ্জলি

মহাসপ্তমী আজ: দেবীর চরণে ভক্তের অঞ্জলি

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ৫, ২০১৯, ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী আজ শনিবার। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন, দেবীর চরণে ভক্তদের অঞ্জলি প্রদান ও মহাপ্রসাদ গ্রহণ আজ শুরু হবে। এদিকে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ শুক্রবার বিকালে রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির ও গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদের বিভিন্ন সদস্য ও সংসদ সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন।

আজ মহাসপ্তমীতে হবে নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন, ষোড়শ উপাচারে অর্থাৎ ষোলটি উপাদানে দেবীর পূজা। উৎসবের দ্বিতীয় দিন সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হবে। সকালে দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দ্বীপ দিয়ে পূজা করবেন ভক্তরা।

সপ্তমী পূজা উপলক্ষে সন্ধ্যায় বিভিন্ন মণ্ডপে ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান, রামায়ণ পালা, আরতিসহ নানান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে আজ দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হবে। শুক্রবার সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে মহাষষ্ঠী পূজা। সকালে ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ এবং সন্ধ্যায় বোধন আমন্ত্রণ ও অধিবাস এবং ষষ্ঠী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সঙ্গে ছিল পুষ্পাঞ্জলি, আরতি ও প্রসাদ বিতরণ।

এদিনে মূল প্রতিমায় দেবীর রূপ কল্পনা করে আট উপাচারে দেবীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠী পূজায় ভক্তরা দেবীর বন্দনা করেছেন। সকাল থেকেই চণ্ডিপাঠে মুখরিত ছিল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব পূজামণ্ডপ। ঢাকের বাদ্য আর শঙ্খের ধ্বনিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়।

সকালেভক্তদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বিকাল থেকে ভিড় বাড়তে থাকে। শুক্রবার সন্ধ্যায়ই রাজধানীর বিভিন্ন মণ্ডপ ঝলমলে আলোকসজ্জায় রঙিন হয়ে ওঠে। আলোকসজ্জাতে আনা হয়েছে ভিন্নতা। এছাড়া মন্দিরে মন্দিরে বাজানো হয় শঙ্খ, কাঁসা ও ঢাকের বাদ্য।

এদিকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাংলাদেশের চিরাচরিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রেখে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে শুক্রবার এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি হিন্দু ধর্মাবলম্বী সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। প্রতি বছরের মতো এ বছরও সারা দেশে যথাযথ উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদির মধ্য দিয়ে সাড়ম্বরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। আবহমানকাল ধরে এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে নানা উপাচার ও অনুষ্ঠানাদির মাধ্যমে দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছে। দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, সামাজিক উৎসবও।

দুর্গোৎসব উপলক্ষে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন, পাড়া-প্রতিবেশী একত্র হন, মিলিত হন আনন্দ-উৎসবে। তাই এ উৎসব সার্বজনীন। এ সার্বজনীনতা প্রমাণ করে, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। তিনি বলেন, ‘দুর্গাপূজার সঙ্গে মিশে আছে চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি।

ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি দুর্গাপূজা দেশের জনগণের মাঝে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ঐক্য সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শারদীয় দুর্গোৎসব সত্য-সুন্দরের আলোকে ভাস্বর হয়ে উঠুক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে বন্ধন আরো সুসংহত হোক।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মানবতাই ধর্মের শাশ্বত বাণী। ধর্ম মানুষকে ন্যায় ও কল্যাণের পথে আহ্বান করে, অন্যায় ও অসত্য থেকে দূরে রাখে, দেখায় মুক্তির পথ। তাই ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পাশাপাশি সবাইকে মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। দুস্থ ও অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four × three =