Templates by BIGtheme NET
২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ১৬ সফর, ১৪৪১ হিজরী
Home » জাতীয় » যে তিন ধাপে বিদেশে পাচার হয় ক্যাসিনোর টাকা

যে তিন ধাপে বিদেশে পাচার হয় ক্যাসিনোর টাকা

প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯, ২:৪০ অপরাহ্ণ

মাফিয়াদের নিয়ন্ত্রণে ঢাকার ক্লাবপাড়া। আর এই মাফিয়াদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা। এই মাফিয়ারাই রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাবে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও নেপালের মতো বসিয়েছেন ক্যাসিনো। আর এই ক্যাসিনো থেকে তারা হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। হয়েছেন বিত্ত-বৈভবের মালিক। এরই মধ্যে তারা মোটা অঙ্কের অর্থ বিভিন্ন কৌশলে বিদেশে পাচার করেছেন। সম্প্রতি আইশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।

অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন যুবলীগের একাধিক নেতা। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। যা অনেকটা থলের বেড়াল বের হওয়ার মতো অবস্থা।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ঢাকার ক্যাসিনোগুলোর আয়ের অর্থ তিনভাবে পাচার হতো বিদেশে। প্রথমত, ক্যাসিনোগুলোয় কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা তাদের বেতন ও অংশীদারি থেকে পাওয়া অর্থ নিজ দেশে পাচার করতেন।

দ্বিতীয়ত, ক্যাসিনোগুলোর একাধিক মালিক নিয়মিত সিঙ্গাপুর, দুবাই, ব্যাংককে গিয়ে জুয়া খেলে ওড়াতেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। তৃতীয়ত, ক্যাসিনোর আয়ের টাকা পাচার করা হতো বিদেশে অবস্থানকারী সরকারের তালিকাভুক্ত একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসীর কাছে।

এদিকে সূত্রে আরও জানা গেছে, ঢাকার ক্যাসিনোগুলোয় অংশীদারির ভিত্তিতে কাজ করেন ৯ জন নেপালি নাগরিক। ক্যাসিনো পরিচালনায় অভিজ্ঞ এসব নেপালি নাগরিকের বিভিন্ন দেশে ক্যাসিনোর ব্যবসা রয়েছে। ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে এসে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়ে ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালনা করতেন তারা। এরা সবাই ঢাকায় ক্যাসিনোর অংশীদার ছিলেন। এ ছাড়া নেপালের আরো প্রায় ২০ জন নাগরিক ঢাকার ক্যাসিনোগুলোতে কাজ করতেন। এদের প্রত্যেকের মাসিক বেতন ছিল এক হাজার ডলার।

বিষয়টি নিয়ে কথা হলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন, যুবলীগ যে পরিমাণ ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছে তাতে শেখ হাসিনা ছাড়া কারো পক্ষেই তাদের সামলানো কঠিন। সম্রাটের অফিসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই প্রমাণ মিলবে কী পরিমাণ নেপালি নাগরিক যাতায়াত করত।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি দলের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, দলে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর দরকার নাই। এরা দলকে, রাজনীতিকে কিছু দেয় না। এরা দলের বোঝা। সংশোধন না হলে জঙ্গিদের মতো তাদেরও দমন করা হবে। এ অভিযান তারই অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twenty + 12 =