Templates by BIGtheme NET
১ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ১৬ সফর, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিবিধ » মানবদেহের ওজনের ৩ শতাংশই জীবানু !

মানবদেহের ওজনের ৩ শতাংশই জীবানু !

প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯, ৪:০৪ অপরাহ্ণ

একজন সুস্থ মানুষের দেহেও বাস করে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকসহ নানা ধরনের জীবানু। কিন্তু, ঠিক কি পরিমান জীবানু থাকে তা হয়তো আমরা জানি না। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় শরীরে জীবানুর উপস্থিতি সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা যে ধারণা দিয়েছেন তা রীতিমত বিস্ময়কর।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবদেহে বাস করে প্রায় কয়েকশ ট্রিলিয়ন অণুজীব। বিজ্ঞানীদের হিসাবে মানবদেহে সর্বমোট মানবকোষের সংখ্যা ৩৭.২ ট্রিলিয়ন আর মানবদেহে বাস করা অণুজীবের সংখ্যা এর চাইতেও ১০ গুন্ বেশি। এদের সম্মিলিত ওজন মানবদেহের শতকরা ১ থেকে ৩ ভাগ।

গত এক যুগ ধরে ডিএনএ সিকুয়েন্সিং প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য অগ্রগতির কারণে অণুজীবরাজ্যের এমন সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উন্মোচিত হচ্ছে, যা আগে কখনো জানা ছিলো না। উন্নত প্রযুক্তির ডিএনএ সিকুয়েন্সিং এর মাধ্যমে এখন যেমন মানুষের জিনোম সিকুয়েন্স জানা একদম সহজ হয়ে গেছে, তেমনি জানা যাচ্ছে মানবদেহে বাস করা হাজারো প্রজাতির অণুজীবের জিনোম সিকুয়েন্স।

অণুজীব মানেই কিন্তু ক্ষতিকর জীবাণু নয়। জীবাণু হলো শুধুই সেসব অণুজীব যেসব মানব দেহে রোগের সূচনা করে। কিন্তু মানবদেহে বাস করা উপকারী অণুজীবের সংখ্যার তুলনায় জীবাণুর সংখ্যা খুবই নগন্য। এসব অণুজীব আমাদের শরীরের স্থায়ী অতিথি এবং এদের সাথে আমাদের সম্পর্কটাও শান্তিপূর্ণ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার।

এরা আমাদের খাবারে ভাগ বসিয়ে শক্তি সংগ্রহ করে ও নিজেদের বংশবৃদ্ধি করে, বিনিময়ে এরা আমাদের জটিল খাদ্য হজমে সাহায্য করে এবং আমাদের জন্য ভিটামিন তৈরী করে সরবরাহ করে, যা মানব দেহ নিজে করতে সক্ষম নয়। এছাড়াও এরা আমাদের অন্য জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং আমাদের শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা কে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়তে শেখায়।

এসব অণুজীব বাস করে আমাদের পরিপাকতন্ত্র, মুখগহ্বর, ত্বক অথবা যোনিতে। এক একটি অঙ্গে, নিদৃস্ট প্রজাতির অণুজীবেরা খাপ খাইয়ে নেয় সে অঙ্গের নির্ধারিত পরিবেশে, এবং গড়ে তোলে সে অঙ্গের একান্তই নিজস্ব অণুজীবরাজ্য। কাজেই বিভিন্ন অঙ্গে বাস করা অণুজীবরাজ্যের গঠনও ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির। মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে অণুজীবের ঘনত্ব ও বৈচিত্রের মাত্রা সবচেয়ে বেশি বৃহদন্ত্রে, তাই এদের নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ ও গবেষণাও অনেক বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

4 × 3 =