Templates by BIGtheme NET
১ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ১৬ সফর, ১৪৪১ হিজরী
Home » জাতীয় » গার্মেন্টস শিল্পে চাকরী হারাবে ষাট শতাংশ শ্রমিক!

গার্মেন্টস শিল্পে চাকরী হারাবে ষাট শতাংশ শ্রমিক!

প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯, ১:৫৫ অপরাহ্ণ

মানুষের কাজকে সহজ করে দেয়ার জন্য রোবটিক প্রযুক্তির কোন জুড়ি নেই। বিশ্বের বহু দেশের কল-কারখানায় এখন ব্যবহার হচ্ছে রোবটিক প্রযুক্তি। রোবট বলতেই আমরা ভেবে নিই মানুষের মতোই চার হাত-পা ওয়ালা একটি রোবট। কিন্তু রোবটিক প্রযুক্তির বাস্তবতা ভিন্ন। তারা দেখতে সবসময় মানুষের মতো নাও হতে পারে।

রোবটের একটি ভার্সনের নাম অটোমেশন। মূলত কল কারখানায় কাজের জন্য তৈরী হয় এই ধরণের রোবট। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের গার্মেন্টস গুলোতে আসতে শুরু করেছে এই প্রযুক্তি।

কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশের বেশিরভাগ কারখানায় প্রতি মেশিনে দুজন করে লোক লাগতো। একজন মেশিনটি চালাতেন, আরেকজন হেল্পার উল্টোদিকে বসে সাহায্য করতেন। গত কয়েক বছরে হেল্পারের পদটি খালি হয়ে গেছে। ঐ জায়গা  নিয়েছে মেশিন ।

গার্মেন্টস নেত্রী নাজমা আক্তার জানিয়েছেন ‘সম্প্রতি নতুন একটি অটোমেশন আসতে শুরু করেছে, যা চারজন শ্রমিকের কাজ করতে পারে। একজন শ্রমিককে ন্যূনতম আট হাজার টাকা মজুরি দিতে হয়। এ হিসেবে চারজন শ্রমিকের মজুরি ৩২ হাজার টাকা। কিন্তু এখন আট হাজার টাকাতেই একটি মেশিন পাওয়া যায়। কাজেই মালিকরা সেই পথেই যাচ্ছেন।”

তিনি বলছেন, নতুন প্রযুক্তি মালিকের মুনাফা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে মালিকরা আটোমেটিক মেশিনের প্রতি আরো বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এমন বহু কারখানা আছে,  যেখানে আগে ১০০০ শ্রমিক কাজ করতো কিন্তু এখন ৩০০ জন শ্রমিক কাজ করে।

অটোমেশনের কারণে আগামী ১০ বছরে ৬০ শতাংশ শ্রমিক ছাঁটাই হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে আরেকটি ভয়ঙ্কর  তথ্য দিচ্ছে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনসি কনসালটেন্সি। তাদের মতে, আশির দশকের মাঝামাঝি শিল্পোন্নত দেশগুলো থেকে এ ধরণের শিল্প উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সরিয়ে নেয়া হচ্ছিল। কারণ, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অনেক কম মূল্যে শ্রমিক পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমান রোবটিক প্রযুক্তি তৃতীয় বিশ্বের স্বল্প মূল্যের শ্রমিকদের চেয়েও কম খরচে পণ্য উৎপাদন করতে পারছে। ফলে উন্নত বিশ্ব এখন তাদের কাজ গুলো রোবট দিয়েই করিয়ে নেয়া শুরু করেছে। এর ফলে আগামী ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে এই শিল্প আবার ইউরোপে ফেরৎ চলে যেতে পারে।

ইতিমধ্যে চীন এমন কারখানা স্থাপন করেছে যেখানে কোন শ্রমিকই প্রয়োজন হয় না। পুরো কাজটিই করে দেয় রোবট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

16 − six =