Templates by BIGtheme NET
২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ১৬ সফর, ১৪৪১ হিজরী
Home » আন্তর্জাতিক » জয়কুমার বৈদ্য
বস্তি থেকে আমেরিকার গবেষক

জয়কুমার বৈদ্য
বস্তি থেকে আমেরিকার গবেষক

প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯, ১:৪৭ অপরাহ্ণ

ফিচার প্রতিবেদক :

ভারতের মুম্বাইয়ে একটি বস্তিতে ছোট ঘরে মায়ের সঙ্গে থাকতেন জয়কুমার বৈদ্য। ঠিকমত দু’বেলা ভাতও জুটতো না তাদের। দিনের শেষে পাউরুটি বা সিঙ্গারা খেয়ে খুদা নিবারণ করতে হত। সেই জয়কুমারই এখন আমেরিকায়। বস্তির বাসিন্দা থেকে আমেরিকার একজন গবেষক।

শ্বশুড় বাড়ির লোকেরা নলিনীকে বের করে দেয়। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মুম্বাইয়ের কুরলা বস্তিতে ঠাঁই নেন তারা। দারিদ্রতার মাঝেও ছেলের পড়া বন্ধ করেনি। ছেলের পড়া বন্ধ না হয়ে যায়, সেজন্য মা নলিনী যখন যে কাজ পেয়েছেন তা করেছেন।

এত কষ্টের মাঝেও হাল ছাড়েননি জয়কুমার, মন শক্ত করে রেখেছিলেন । স্কুলে বেতন দিতে না পারায় স্কুল কর্তৃপক্ষ নলিনীকে বলেছিলো, টাকা না থাকলে ছেলেকে পড়ানো বাদ দিয়ে গাড়ি চালানো শেখান । তখনই একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মেসকো-র সঙ্গে যোগাযোগ হয় নলিনীর। সংগঠনটি জয়ের স্কুলের বকেয়া বেতন পরিশোধ করে দেয়। পরে কলেজে পড়ার সময় সুদ ছাড়া ঋণও দেয় তাকে। কলেজ পড়া অবস্থায় জয় একটি টিভি মেরামতের দোকানে কাজের পাশাপাশি টিউশনি করে।

কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যাবসায়ের জোরে কে জে সোমাইয়া কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ইলেকট্রিক্যালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন জয়। রোবোটিকসে তিনটি জাতীয় এবং চারটি রাজ্যপুরস্কারও পান । এটাই ছিল তার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। কলেজে পড়াকালীন প্রথম চাকরির প্রস্তাব আসে লার্সেন অ্যান্ড টুবরো থেকে। কলেজ পাস করেই তিনি টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ এ কাজ পান। বেতন হিসেবে মাসে পান ত্রিশ হাজার টাকা।

তিন বছর টাটা ইনস্টিটিউটের সঙ্গে কাজ করার পর জয়কুমার পিএইচডি শুরু করেন। ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে তার দু’টো গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। সেই গবেষণা ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়ায় যোগ দেন ২৪ বছরের জয়কুমার। একসময়ে যাদের হাতে মাসের শেষে দশ টাকাও থাকত না, আজ তারই মাসিক বেতন ২০০০ ডলার। যা ভারতীয় মুদ্রায় দেড় লাখ টাকার মত।

এর থেকে মাত্র ৫০০ ডলার জয়কুমার নিজের খরচের জন্য রেখে দেন। বাকিটা মাকে পাঠিয়ে দেন। খুব তাড়াতাড়ি মাকেও আমেরিকায় এনে নিজের কাছে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twenty + 2 =