Templates by BIGtheme NET
২০ আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৪ জুলাই, ২০২০ ইং , ১১ জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী
Home » ব্রেকিং নিউজ » টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে জাবি ভিসি ও রাব্বানীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে জাবি ভিসি ও রাব্বানীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯, ১২:১৯ অপরাহ্ণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে ১৪শ’ কোটি টাকার মেগা প্রজেক্ট থেকে ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।- খবর দেশ রূপান্তর

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে ও গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে গোলাম রাব্বানী বলেছেন, জাবি ভিসি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে শাখা ছাত্রলীগকে এক কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়েছেন এবং তার স্বামী ও ছেলে ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে ‘কমিশন বাণিজ্যে’ জড়িয়েছেন।

তবে জাবি ভিসি ফারজানা ইসলাম রাব্বানীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, রাব্বানী বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নানা দাবি-আবদার করেছেন। সেসব পূরণ না হওয়ায় হতাশ হয়েই এসব কথা বলছেন। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে এসব বিষয় জানিয়েছেন বলেও বলছেন ভিসি ফারজানা।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট জাবি ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম শাখা ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের এক কোটি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে এক কোটি টাকা বণ্টন করে দিয়েছেন। যেখানে ভিসির পরিবারের দুই সদস্যও ছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে অভিযোগের তদন্ত দাবিতে আন্দোলন গড়ে ওঠে জাবিতে, যে আন্দোলন এখনো চলছে।

শুরু থেকেই ছাত্রলীগকে ওই টাকা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসলেও শাখা ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের টাকা দাবির বিষয়টি স্বীকার করেছেন ভিসি। তিনি বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছেও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের টাকা দাবির বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছেন।

এদিকে জাবি থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগের যুক্তি খণ্ডাতে গত বুধবার ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন। চিঠিতে রাব্বানী বলেন, ‘বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। উপাচার্য ম্যাম এর স্বামী ও ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে কাজের ডিলিংস করে মোটা অঙ্কের কমিশন বাণিজ্য করেছেন। যার প্রেক্ষিতে ঈদুল আজহার পূর্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। এ খবর জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি শুরু হয় এবং এরই প্রেক্ষিতে উপাচার্য ম্যাম আমাদের স্মরণ করেন। আমরা দেখা করে আমাদের অজ্ঞাতসারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে টাকা দেওয়ার প্রশ্ন তোলায় তিনি বিব্রতবোধ করেন। নেত্রী, উক্ত পরিস্থিতিতে আমরা কিছু কথা বলি যা সমীচীন হয়নি। এ জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।’

রাব্বানীর এ বক্তব্যের বিষয়ে শুক্রবার ভিসি ফারজানা ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘চাওয়া-পাওয়া পূরণ না হওয়ায় হতাশ হয়ে তারা এসব মানহানিকর কথাবার্তা বলছে। তারা দু’জন ৮ আগস্ট আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে। এ সময় তারা প্রকল্প থেকে ৪-৬% টাকা দাবি করে। তারা বলে, প্রধানমন্ত্রী নাকি তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছেন। তাদেরকে টাকা দিলে তারা নাকি স্থানীয় ছাত্রলীগকে সেখান থেকে ভাগ করে দেবে। তখন আমি বলি, যদি সেরকমই হয়ে থাকে তাহলে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছেই টাকা দিই; তোমরা সেখান থেকে নাও। তারা আমার কথায় হতাশ হয়। এর আগে আমি হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায়ও তারা দেখা করতে যায় আমার সঙ্গে। তখন তারা তিন বা চারটি হলের টেন্ডার তাদেরকে দিতে বলে। আমি তাদের না করে দিই। তখন দেখা করতে গিয়েও তারা ঝামেলা তৈরি করেছে। সেখানে একই ফ্লোরে বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিশাল বহর নিয়ে সেখানে হাজির হয় তারা। এটা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জন্য সমস্যা তৈরি করে। আমিও বিব্রত হই।’

ভিসি আরও বলেন, ‘আমার ছেলে-স্বামী কখনই তাদের ফোন করেনি। বরং তারাই ফোন করে দেখা করতে এসেছিল। তারা বিভিন্ন সময় প্রতিনিধি পাঠিয়ে আমাদের কর্মকর্তাদেরও ডিস্টার্ব করে টাকার জন্য। এখন এসব কথা বলে তারা আমার পরিবারের নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।’

এদিকে ভিসি শাখা ছাত্রলীগকে টাকা দেওয়ার যে অভিযোগ গোলাম রাব্বানী তুলেছেন তা স্বীকার করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা। তবে অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন শাখার সভাপতি জুয়েল রানা। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘ভাই আমাদের সঙ্গে কোন আলোচনা না করেই এসব কথা বলেছেন। তিনি যেখান থেকে তথ্য পেয়েছেন সেটা ভুল তথ্য ছিল। এটা ভাইয়ের তথ্যগত ভুল। টাকা পাওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ten + four =