Templates by BIGtheme NET
৮ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ২২ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিশেষ সংবাদ » শ্রাবণ নাকি হাফিজ কে হচ্ছেন ছাত্রদলের কাণ্ডারী?

শ্রাবণ নাকি হাফিজ কে হচ্ছেন ছাত্রদলের কাণ্ডারী?

প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯, ৮:২২ অপরাহ্ণ

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ও চর্চাকারী দল হিসেবে দাবি করা বিএনপি নিজের দলের মধ্যেই গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে চায়। এলক্ষ্যে দল ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সকল পর্যায়ের নেতৃত্ব নির্বাচন করতে চায় ভোটের মাধ্যমে। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ইতোমধ্যে জাতীয়তাবাদী চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছেন ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে।

এবার বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে খ্যাত ছাত্রদলের নেতৃত্বও নির্ধারিত হবে নির্বাচনের মাধ্যমে। এজন্য আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ষষ্ঠ কাউন্সিল। দীর্ঘ ২৮ বছর পর রাজপথের বিরোধীদলের ছাত্র সংগঠনটির নেতৃত্ব নির্ধারিত হতে যাচ্ছে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে। কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এই দুটি পদে সারাদেশের ৫৩৩জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নির্বাচিত করবেন আগামী দিনের নেতৃত্ব। শীর্ষ এই দুটি পদের মধ্যে সভাপতি পদে ৮ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ১৯ জন বৈধ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যাদের বেশিরভাগই ছাত্র রাজনীতির তীর্থস্থান খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক নেতা। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইতোমধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন।

ছাত্রদলের কাউন্সিলের বৈধ প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থীরা ছুটছেন এক জেলা থেকে আরেক জেলার ভোটারদের কাছে। তাদের কাছে তুলে ধরছেন ছাত্রদলের জন্য নিজের ত্যাগ, রাজপথে ভূমিকা, সংগঠন পরিচালনায় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। প্রতিশ্রতি দিচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার আন্দোলন জোরদার করার। অনুরোধ জানাচ্ছেন প্রত্যেক প্রার্থীর বিষয়ে (ব্যক্তিগত ও পারিবারিক) খোঁজ-খবর নিয়ে, সৎ, যোগ্য, রাজপথে থেকে আন্দোলনকারীকে ভোট দেয়ার জন্য।

এখন পর্যন্ত ৮ সভাপতি প্রার্থীর মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন প্রভাবশালী নেতা সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর আস্থাভাজন কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। যশোরের সন্তান শ্রাবণ বর্তমান ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা রয়েছে।
শ্রাবন বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেন থেকে আন্দোলনে-সংগ্রমে রাজপথে আছি। বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতিত হয়েছি, গ্রেপ্তার হয়েছি। ছাত্রদল করার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। বাবার সাথে যোগাযোগ নেই। বার বার হামলা, মামলা, কারাবরণের শিকার হয়েছি।’ তিনি আশা করছেন দলের কাউন্সিলররা তার ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করে তাকে ভোট দিবেন। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী এই ছাত্রনেতা।

আরেক প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজের আস্থাভাজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাগেরহাটের সন্তান হাফিজুর রহমান ছাত্ররাজনীতির কারণে বারবার হামলার শিকার হয়েছেন। ১/১১’র সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। বিগত সব আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থেকেছেন। সভাপতি পদে প্রার্থী হয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন ভোটারদের কাছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কাউন্সিলদের প্রত্যক্ষ ভোটে, সুন্দর প্রতিযোগিতা, উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে যে নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে সেই নেতারা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার আন্দোলন আরো বেগবান করবে।

শুরুতে তার প্রার্থিতা বাতিল হলেও আপিলের মাধ্যমে তা ফিরে পেয়েছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সহ তথ্য সম্পাদক মামুন খান। জানা যায়, প্রার্থীদের মধ্যে বিগত আন্দোলন সংগ্রামে মামুন খান সবচেয়ে বেশি কারা নির্যাতনের স্বীকার হয়েছিলেন। তাই সাধারণ কর্মীদের মাঝে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। মামুন প্রার্থীতা ফেরত পাওয়ায় কাউন্সিলের হিসাব-নিকাশ অনেকটাই পাল্টে গেছে বলে মনে করেন তৃণমূলের কাউন্সিলররা। উত্তরাঞ্চলের বিএনপির নেতাদের আস্থাভাজন বগুড়ার ফজলুর রহমান খোকন- সিন্ডিকেট ও আঞ্চলিক দুই হিসেবেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। জয়ের ব্যাপারে তিনি ও আশাবাদী। এছাড়াও সভাপতি পদে লড়ছেন জামালপুরের সাজিদ হাসান বাবুও।

তবে সার্বিক বিবেচনায় এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছেন কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, হাফিজুর রহমান। কাউন্সিলররা বলছেন, এই দুইজনের মধ্যেই কেউ একজন ছাত্রদলের আগামী সভাপতি নির্বাচিত হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

five × one =