Templates by BIGtheme NET
১ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ১৬ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
Home » আন্তর্জাতিক » ভারতে চন্দ্রাভিযান রাজনীতি

ভারতে চন্দ্রাভিযান রাজনীতি

প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯, ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ

চাঁদের মাটিতে নামার কয়েক সেকেন্ড আগেই নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে ভারতের পাঠানো মহাকাশ যান ‘চন্দ্রযান-২’ এর। ৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। দেশটির মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, এই মিশনটিকে এখনই ব্যর্থ বলা যাচ্ছে না। ল্যান্ডারটি আবার সংযুক্ত করা যেতে পারে।

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন-ইসরো জানিয়েছে, একেবারে শেষ মুহূর্তে অবতরণকারী যান ‘বিক্রম’ এর সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রথমবারের মতো চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে এই রোবোটিক গবেষণা যানটির নামার কথা ছিলো। চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকা পর্যন্ত বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ ছিলো। তারপরে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

৭ সেপ্টেম্বর সকাল আটটায় ইসরোর কার্যালয় থেকে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বিজ্ঞানীদের উৎসাহিত করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ ঘটনায় নিজের হতাশা এবং আবেগকে চেপে রাখতে পারলেন না কে সিভন। মোদির কাঁধে মাথা রেখে ডুকরে কেঁদেছেন তিনি। ভেঙে পড়া সিভনকে সামলে নেন মোদি। তাকে জড়িয়ে ধরে পিঠ চাপড়ে সান্ত্বনা দিয়ে মোদি বলেন, ‘বি কারেজিয়াস। (সাহসী হোন)। জীবনে ওঠা পড়া লেগেই থাকে। যে সাফল্য আপনারা অর্জন তাতে ভারত গর্বিত।

এদিকে ভারতের এই ব্যর্থতায় খোঁচা দিতে পিছ পা হচ্ছে না চিরশত্রু প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানিরা নানাভাবে বিষয়টি নিয়ে কটু কথা বলছেন ভারতকে নিয়ে। হাসি-ঠাট্টা ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে ভারতের এই ব্যর্থতাকে নিয়ে উপহাস করছে তারা। চন্দ্রযান ২ প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় এ নিয়ে টুইট করে উচ্ছ্বাস ব্যক্ত করলেন পাকিস্তানের বিজ্ঞান মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরিও।

ভারতীয় বিজ্ঞানীদের সমালোচনা করে টুইটে তিনি লেখেন , ‘‘অঅঅ… যে কাজটা পারো না, সেটা করারই দরকার নেই। প্রিয় ‘এন্ডিয়া।’’ ইন্ডিয়ার বানান বদলে ‘এন্ডিয়া’ লিখে মন্ত্রী বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন, ভারতের মিশন শেষ হয়ে গেছে।

এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘যেনো দেশে এই প্রথম চন্দ্রযান উৎক্ষেপণ করা হলো। যেনো ওরা ক্ষমতায় আসার আগে এমন কোনো মিশন হয়নি। এটা অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের থেকে সবার নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার রাজনীতি। আসামের নাগরিকপঞ্জিকে (এনআরসি) প্রতিহিংসার নামান্তর এবং দেশের নাজুক অর্থনীতি থেকে সকলের মন অন্য দিকে ঘুরিয়ে রাখার প্রয়াস চলছে। এই প্রতিহিংসার দ্বারা দেশের গণতন্ত্রের ভিত নড়িয়ে দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।”

মমতাকে পাল্টা আক্রমণ করে বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেছেন, “মমতা হয়তো অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কথা বলছেন, তবে আসল ব্যাপারটি হলো ওর চিন্তা প্রক্রিয়াতেই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মমতার এই বক্তব্যটি আসলে তার হতাশাকেই ফুটিয়ে তুলছে। সমগ্র ভারত যখন উদযাপন করছে, মমতা তখন গুমরে মরছেন! চন্দ্রাভিযানে কেনো রাজনীতিকে টেনে আনা হবে! কোনো কারণ তো নেই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

4 × one =