Templates by BIGtheme NET
১ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ১৬ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
Home » ধর্ম ও জীবন » হযরত আলী রা. এর শাসনকালে কেমন ছিলো বিচার বিভাগ?

হযরত আলী রা. এর শাসনকালে কেমন ছিলো বিচার বিভাগ?

প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯, ১০:০১ অপরাহ্ণ

হযরত আলী (রা.) একবার তার প্রিয় বর্মটি হারিয়ে ফেললেন। কিছুদিন পর জনৈক ইহুদির হাতে সেটি দেখেই চিনে ফেললেন। লোকটি কুফার বাজারে বর্মটি বিক্রয় করতে এনেছিলেন। হযরত আলী তাকে বললেন, ‘এ তো আমার বর্ম! আমার একটি উটের পিঠ থেকে এটি পড়ে গিয়েছিল।’

ইহুদি বললেন, ‘আমিরুল মোমেনিন, ওটা আমার বর্ম এবং আমার দখলেই রয়েছে।’ হযরত আলী এবার বললেন, ‘এটি আমারই বর্ম। আমি এটাকে কাউকে দান করিনি, বিক্রয়ও করিনি। এটি তোমার হাতে কীভাবে গেল?’

ইহুদি বললেন, ‘চলুন, কাজির দরবারে যাওয়া যাক।’ হযরত আলী (রা.) বললেন, ‘বেশ, তাই হোক।’

তারা উভয়ে গেলেন কাজী শুরাইহের দরবারে। কাজী শুরাইহ তাদের বক্তব্য জানতে চাইলে উভয়ে বর্মটি নিজের বলে যথারীতি দাবি করেন।

কাজী খলিফাকে সম্বোধন করে বললেন, ‘আমিরুল মোমেনিন! আপনাকে দুজন সাক্ষী উপস্থিত করতে হবে।’

হযরত আলী বললেন, ‘আমার ভৃত্য কিম্বার এবং ছেলে হাসান সাক্ষী আছে।’

শুরাইহ বললেন, ‘আপনার ভৃত্যের সাক্ষ্য নিতে পারি। কিন্তু ছেলের সাক্ষ্য নিতে পারব না। কেননা বাবার জন্য ছেলের সাক্ষ্য শরিয়তের আইনে অচল।’

হযরত আলী বললেন, ‘বলেন কি আপনি? একজন বেহেশতবাসীর সাক্ষ্য চলবে না? আপনি কি শোনেননি, রাসুল (সা.) বলেছেন, হাসান ও হোসেন বেহেশতের যুবকদের নেতা?’

শুরাইহ বললেন, ‘শুনেছি। তবু আমি বাবার জন্য ছেলের সাক্ষ্য গ্রহণ করব না।’

হযরত আলী ইহুদিকে বললেন, ‘ঠিক আছে। বর্মটা তুমিই নিয়ে নাও। আমার কাছে এই দুজন ছাড়া আর কোনো সাক্ষী নেই।’

ইহুদি তৎক্ষণাৎ বললেন, ‘আমি স্বয়ং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ওটা আপনারই বর্ম। কী আশ্চর্য! মুসলমানদের খলিফা আমাকে কাজির দরবারে হাজির করে আর সেই কাজি খলিফার বিরুদ্ধেই রায় দেন। এমন সত্য ও ন্যায়ের ব্যবস্থা যে ধর্মে রয়েছে আমি সেই ইসলামকে গ্রহণ করেছি। আর সিফফিন যুদ্ধে যাওয়ার সময় আমি খলিফার পিছু পিছু যাচ্ছিলাম। হঠাৎ তার উটের পিঠ থেকে এই বর্মটি পড়ে গেলে আমি তা তুলে নিই।’ এবার আলী (রা.) বললেন, ‘বেশ! তুমি যখন ইসলাম গ্রহণ করেছ, তখন আমি ওটা তোমাকে উপহার দিলাম।’

এই ঘটনার কিছুকাল পর ইহুদি লোকটি হযরত আলীর নেতৃত্বে খারেজিদের সঙ্গে যুদ্ধে শহীদ হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

two × 5 =