Templates by BIGtheme NET
১ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ১৬ সফর, ১৪৪১ হিজরী
Home » আন্তর্জাতিক » মাদক ব্যবসায়ী ও সরকারের সমঝোতার ফল
লাস ভেগাসের মতো বিলাসবহুল কারাগার

মাদক ব্যবসায়ী ও সরকারের সমঝোতার ফল
লাস ভেগাসের মতো বিলাসবহুল কারাগার

প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯, ৩:৫০ অপরাহ্ণ

কারাগার মানেই ভয়াবহ বিভিষিকাময় একটি জীবন। উন্নত দেশের কারাগারগুলোর জীবনমান একটু ভালো। আর গরীব দেশগুলোর কারাগার তো যাচ্ছেচাই।  এই হলো কারাগার নিয়ে মানুষের ধারণা। তবে এই ধারণাকে একেবারে পাল্টে দিয়েছে ভেনেজুয়েলা।

ভেনেজুয়েলার মার্গারিটা দ্বীপে অবস্থিত সান আন্তোনিও কারাগারকে দেখলে আর দশটা কারাগারের মতোই মনে হবে। কিন্তু ভেতরের দৃশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। মদের বার, প্লে-বয় ক্লাব, নারী-পুরুষের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত- এসব দেখে মনে হবে, যেন এটি মার্গারিটা দ্বীপ নয়, লাস ভেগাসের কোনো অভিজাত রেড লাইট এলাকা।

এই কারাগারে দেশি-বিদেশি প্রায় দুই হাজার কারাবন্দী রয়েছে। তারা সকলেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী। মাদক পাচারের অভিযোগে যদি কাউকে গ্রেফতার করা হয়, তবে তাকে এই কারাগারে বন্দী রাখা হয়।

কারাগারের ভেতরে নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা সেল বা কারাকক্ষ থাকলেও কারাগার প্রাঙ্গণে তারা অবাধে মেলামেশা করতে পারেন। বন্দীরা এখানে অবাধে মাদক সেবন ও ধূমপান করেন। বিনোদনের অংশ হিসেবে কারা অভ্যন্তরে মোরগ লড়াই উপভোগের ব্যবস্থা আছে। সেখানে বসে জুয়ার আসর। পাশাপাশি কয়েদিরা নিজেদের খরচেই উপরি-বিনোদনের জন্য গড়ে তুলেছেন মদের বার ও প্লে-বয় কেন্দ্র। চারটি সুইমিং পুলও আছে সেখানে। সেখানে বিকিনি গার্লের সাহচর্য নেন পুরুষ বন্দীরা।

সান আন্তোনিও কারাগারে অর্থের বিনিময়ে সবকিছু পাওয়া যায়। অনেকের সেলে স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও  এয়ার কন্ডিশনারের মতো অভিজাত ব্যবস্থা আছে। চিত্ত বিনোদনের জন্য আছে আরও নানা আয়োজন। কারাগারের ভেতরে বন্দুক ও অন্যান্য ভারী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার এখানে সাধারণ ঘটনা।

দর্শনার্থীরা যখন কারাগারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন, তখন তাদের দেহ তল্লাশি করা হয়। কিন্তু যখন বের হন তখন কোনো তল্লাশি করা হয় না। ফলে তারা কয়েদিদের কাছ থেকে নির্বিঘ্নে মাদক নিয়ে যেতে পারেন। এভাবে কারাগারের অভ্যন্তরেই মাদকের একটি বিশাল চক্র গড়ে উঠেছে।

তবে ভেনেজুয়েলার সরকার স্বেচ্ছায় এমন কারাগার গড়ে তুলেনি। মূলত মাদক পাচারকারী চক্রের চাপের মুখেই অনেকটা বাধ্য হয়ে এমন পরিস্থিতি মেনে নিয়েছে। তবে শর্ত একটা- সকল সুযোগ সুবিধা থাকলেও পালানোর সুযোগ নেই তাদের!

এটি মাদক ব্যবসায়ী ও সরকারের মধ্যকার একটি পারস্পারিক বোঝাপড়ার মধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীরা কারাগারে এসব সুযোগ সুবিধার বিনিময়ে দেশের অন্যান্য স্থানে জটিলতা তৈরি থেকে বিরত থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

20 − 16 =