Templates by BIGtheme NET
৮ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ২২ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
Home » মতামত » ধর্ষক নয়, পুরুষ এক মহান জাতি

ধর্ষক নয়, পুরুষ এক মহান জাতি

প্রকাশের সময়: আগস্ট ৩১, ২০১৯, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ

ধারা খান :

ধর্ষনের খারাপ সংবাদের মোকাবেলা করতে করতে সমাজে আজ পুরুষ জাতি লজ্জিত ও লাঞ্চিতই বলা যায়। ঘরে,বাইরে,বাজারে যে কোনো পুরুষ সামনে পড়লেই আমরা মনে মনে তাকে ধর্ষকের নজরে দেখছি, খারাপ ব্যবহার করছি, ঘৃনার প্রকাশ করছি। অনেকে আবার গণমাধ্যমেও বলে থাকেন-পুরুষের মাঘ মাস কার্তিক মাস নেই।

সম্প্রতি পুরুষ জাতিকে কুকুরের সাথে তুলনা করে একটা সংবাদ মাধ্যমে একটা লিখা পড়েছিলাম। আমার খুব খারাপ লেগে ছিলো। একজন ব্যক্তি যখন অপরাধ করে,তখন তার সামাজিক পরিচয় টা আর থাকে না,তার একমাত্র পরিচয় হয় সে অপরাধী। ঠিক তেমন ভাবেই আমি বলবো, একজন পুরুষ যখন ধর্ষনের মতো জঘন্য কাজ করে,তখন তার সামাজিক পরিচয় হবে ধর্ষক। একজন ধর্ষক কে আমরা কোনো ভাবেই পুরুষ বলতে পারি না।

পুরুষ হলো এক মহান জাতি। নারী জাতির চেয়ে পুরুষ জাতির মধ্যে মহান গুনাবলী অনেক বেশি থাকে বলেই আমি মনে করি। আমার জীবনের বেশি অংশ আমি পুরুষদের (বাবা,চাচা,মামা,ভাই) সাথে কাটিয়েছি। পুরুষ মানে ই ধর্ষক নয়,পুরুষ হতে পারে আমাদের বাবা,পুরুষ আমাদের আশ্রয়,পুরুষ আমাদের প্রশ্রয়,এই বিশাল পৃথিবী তে আমরা একমাত্র কোনো পুরুষের কাছেই নিরাপদ। মৃত্যুর পর কোনো পুরুষ আমাদের নিয়ে যাবেন কবরস্থানে। যুগে যুগে যতো নবী রাসুল,অলী আউলিয়াগন পৃথিবী তে এসেছেন তারা পুরুষ রুপে ই এসেছেন। ধর্ষকের কথা চিন্তা করতে করতে আমরা আজকাল এসব ভুলেই গিয়েছি। পুরুষ হলো দেবতার নিদর্শন। আমি দেখেছি নারীদের চাইতে পুরুষদের দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা অনেক বেশী। তাছাড়া ভারী জ্ঞান বুদ্ধি,কঠিন দায়িত্ত পালনে,শাসক হিসাবে পুরুষ রাই সেরা, এমনকি এবাদতের ক্ষেত্রেও পুরুষরাই সেরা। পুরুষ জাতি হলো সৃষ্টির শুরু। সুতরাং সেই মহান পুরুষ জাতির সাথে আমরা যদি ধর্ষক দের মিলিয়ে ফেলি সেটা আমাদের বেকামী ছাড়া অন্য কিছু নয়।

ধর্ষকদের কোনো জাত নেই,ধর্ষক রা শুধু সৃষ্টি কে ধংস করতে পারে,আর সত্যি কারের পুরুষ রা সৃষ্টি রক্ষা করে। আজ ধর্ষকদের আলোচনার ভিড়ে সত্যি কারের পুরুষ রা লজ্জিত সব জায়গায়।আমরা ধর্ষনের সংবাদ পড়ে পড়ে সব পুরুষ দের এক ভাবতে শুরু করেছি। এটি বন্ধ করতে না পারলে সমাজে নারী পুরুষের মধ্যে ঘৃনা বৃদ্ধি পাবে। এই ভাবনা বন্ধ করতে পারলে পারস্পরিক অশ্রদ্ধা কমে যাবে আর সম্মান বেড়ে যাবে। একটা সুস্থ সমাজের জন্য এটা অত্যন্ত জরুরী,নইলেএই ঘৃনা নিয়ে আমরা বেশি দূর এগিয়ে যেতে পারবো না,বিশৃঙ্খলা থেকেই যাবে। আজকাল যেমন নারীরা সব পুরুষ দেরকে ধর্ষক ভাবছে, তেমন ভাবে পুরুষরাও যেন নারীদের এই আচরনে আরো লজ্জাহীন হয়ে আরো হিংস্র হয়ে উঠেছে।

আমি খেয়াল করে দেখেছি,এক রকম ঘৃনা সবার মাঝে ঘুরে বেড়াচ্ছে।বাঙালী সমাজের নারী পুরুষের মাঝে সেই ভদ্রতা,সভ্যতা,নম্রতা,মার্জিত ব্যবহার,একে অপরের প্রতি ভালোবাসা সম্মান যেনএকদম ই নেই। এই ডিজিটাল যুগে এসে আমরা যেন এসব একদম হারিয়ে ফেলেছি। নারীপুরুষের মাঝে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকলে ধর্ষনের মতো ঘটনা সমাজ থেকে চির বিদায় নিত বলেই আমি মনে করি। কাজেই ঘৃনা নয়,কোন জাতিকে ছোট করা নয় বরং পারস্পরিক সম্মানবোধ জাগ্রত করুন,ভালো থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

five + twelve =