Templates by BIGtheme NET
২ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ১৭ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
Home » আন্তর্জাতিক » ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী জেটলির মৃত্যু, এক বর্ণময় ও দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ইতি

ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী জেটলির মৃত্যু, এক বর্ণময় ও দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ইতি

প্রকাশের সময়: আগস্ট ২৪, ২০১৯, ৯:২৪ অপরাহ্ণ

ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি আর নেই। ভারতীয় রাজনীতিতে আরও এক নক্ষত্রপতন। সুষমা স্বরাজের পর বিজেপির আরও এক শীর্ষ নেতার জীবনাবসান। শুধু একজন নেতা বা মন্ত্রীই নন, বিজেপির অন্যতম ভরসার জায়গা ছিলেন তিনি।

দিল্লির এইমস হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ৷ ২৪ আগস্ট বেলা ১২.০৭ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি ৷ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর ৷ গত ৯ আগস্ট শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি ৷

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসাবে একাধিক দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি ৷ কখনও, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী কখনও কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় সামলিয়েছেন তিনি ৷ এমনকি ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রথম মন্ত্রিসভার অর্থ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি ৷ পরে বিজেপি নেতা মনোহর পারিকরকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন মোদি ৷

তিনি এক বিরলতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন সংসদে বিরোধীদের সঙ্গে যতই মত পার্থক্য থাকুক না কেন ৷ তিনি অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ছিলেন সবার সঙ্গেই ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে বিরোধীদলের বহু নেতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত নিবিড় ৷ রাজনৈতিক মতাদর্শের উপরে উঠে এক আলাদা সৌজন্যের নজির সৃষ্টি করেছিলেন ৷

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই স্নাতকোত্তর পাশ করেছিলেন আইন সংক্রান্ত বিষয়ে ৷ অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবাই শোকপ্রকাশ করেছেন ৷ তিনিই বিজেপির প্রথম কর্পোরেট মুখ ৷ একদিকে মিষ্টভাষী, সুবক্তা, সুদর্শন, উচ্চশিক্ষিত-সহ বহু গুণের অধিকারী ছিলেন তিনি ৷

১৯৭৭ সালে অরুণ জেটলি এবিভিপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মনোনীত হয়েছিলেন ৷ ১৯৮০ সাল পর্যন্ত সেই পদেই আসীন ছিলেন তিনি ৷ ১৯৮০ সালে দিল্লি বিজেপির সম্পাদক হয়েছিলেন তিনি ৷ ১৯৯১ সালে জাতীয় এক্সজিকিউটিভ হয়েছিলেন তিনি ৷ ১৯৯৯ সালে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র হয়েছিলেন তিনি ৷

১৯৯৯ সালেই তিনি তথ্য সম্প্রচারমন্ত্রী হয়েছিলেন, একই সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি ৷ ২০০০ সালে প্রথমবার গুজরাট থেকে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন তিনি ৷ রাম জেটমালানি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী সভায় আইনমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি ৷

২০০৬ ও ২০১২ পরপর ২ বার গুজরাট থেকে রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি ৷ ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি বিরোধী দলনেতা ছিলেন ৷ মহিলা সংরক্ষণ বিলের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা ছিল অরুণ জেটলির ৷ এছাড়াও আন্না হাজারের লোকপাল বিলের সমর্থন করেছিলেন তিনি ৷

শুধুই রাজনীতি নয় ক্রিকেটের সঙ্গেও জেটলির মধুর সম্পর্ক ছিল, দীর্ঘদিন ধরে দিল্লি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়শনের সভাপতি ছিলেন তিনি ৷

শুধুই বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা ছিলেন না তিনি একাধারে বর্ষীয়ান আইনজীবীও ছিলেন ৷ ১৯৭৭ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্ট ও অনেক হাইকোর্টে ওকালতি প্র্যাকটিস করেছিলেন ৷ ছত্তীসগড়, ঝাড়খণ্ড, উত্তরাখণ্ডের হাইকোর্টের প্রতিষ্ঠা তাঁর অনুপ্রেরণাতেই হয়েছিল ৷

অরুণ জেটলি, অটলবিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আদবানির সান্নিধ্যে রাজনৈতিক জীবন সমৃদ্ধ করেছিলেন তিনি ৷ সব মিলিয়ে এক বর্ণময় অরুণ জেটলির প্রয়াণে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে  বলে মনে করছেন সংশিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

eleven + 17 =