Templates by BIGtheme NET
২ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ১৭ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিবিধ » পর্যটন শিল্পের কারণে ধ্বংস হচ্ছে যে পাঁচ শহর

পর্যটন শিল্পের কারণে ধ্বংস হচ্ছে যে পাঁচ শহর

প্রকাশের সময়: আগস্ট ২৪, ২০১৯, ২:৪৪ অপরাহ্ণ

মোহাম্মাদ এনামুল হক এনা: বিশ্বব্যাপী পর্যটন একটি অন্যতম বৃহত্তম শিল্প, যা বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে খুলে দিচ্ছে অসীম সম্ভাবনার দুয়ার। পর্যটন শিল্পের প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রতি বছর এর গড় অবদান ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

সব দেশের জন্যই কিন্তু পর্যটন শিল্প আশীর্বাদের নাম নয়। বরং হিতে বিপরীত হওয়ারও রয়েছে অজস্র দৃষ্টান্ত। পর্যটন শিল্পের কারণে পৃথিবীর বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শহরের উপরই পড়ছে নিদারুণ প্রভাব। প্রতিবছর ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি পর্যটক এসে ভিড় জমানোর ফলে ধ্বংস হতে বসেছে সেসব শহরের প্রাকৃতিক পরিবেশ, ব্যহত হচ্ছে স্থানীয় মানুষদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও।

এখন আপনাদের সামনে তুলে ধরব তেমনই পাঁচ শহরের বৃত্তান্ত, পর্যটন শিল্প যাদের জন্য আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে উঠেছে।

আমস্টারডাম: নেদারল্যান্ডসের এই শহরে স্থানীয় অধিবাসীর সংখ্যা ১ মিলিয়নেরও কম। অথচ ২০১৮ সালে এই শহরে বিদেশ থেকে পর্যটক এসেছে ১৮ মিলিয়ন। ফলে শহরটি এখন যতটা না এর মূল অধিবাসীদের, তার থেকে বেশি পর্যটকদের। এভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে স্থানীয় অধিবাসীদের স্বকীয়তা। তাই সব ধরনের প্রচেষ্টা চলছে পর্যটকদেরকে এই শহরের প্রতি অনাগ্রহী করে তুলতে।

স্যান ফ্রান্সিসকো: ক্যালিফোর্নিয়ার এই সমুদ্র তীরবর্তী শহরটি সবসময়ই যুক্তরাষ্ট্রে আগত পর্যটকদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রস্থল ছিল। তার কারণ এখানকার গোল্ডেন গেট ব্রিজ এবং ফিশারম্যান হোয়ারফ। কিন্তু সম্প্রতি সিলিকন ভ্যালির কল্যাণে এই শহরের প্রতি পর্যটকদের ভালোবাসা যেন এক ধাক্কায় কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। সেই আকর্ষণ এতটাই বেশি হয়ে গেছে যে, যানজট এই শহরের নিত্য অনুষঙ্গে রূপ নিয়েছে। তাই তো স্যান ফ্রান্সিসকো এখন বিশ্বের পঞ্চম যানজট বহুল শহর।

সান্তোরিনি: গ্রিসের সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত এক অনন্য সুন্দর দ্বীপ সান্তোরিনি। সাদা সাদা বাড়ি, সেগুলোর নীলরঙা ছাদ, এবং যত দূর চোখ যায় শুধু ফিরোজা রঙের জলরাশি, সব মিলিয়ে একজন পর্যটকের হৃদয়কে অপার্থিব ভালো লাগায় দ্রবীভূত করবার সকল উপাদানই বিদ্যমান এই দ্বীপে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, যে শহরের মূল অধিবাসীর সংখ্যা মেরেকেটে হাজার পনেরোর মতো, সেখানেই কি না ২০১৫ সালে ৬৩৬টি ক্রুইজ শিপে চেপে পর্যটক এসেছিল ৭ লক্ষ ৯০ হাজার। এই বিপুল পরিমাণ পর্যটকের চাপ ঠেকাতে তাই গ্রিক পর্যটন অধিদপ্তর থেকে জারি করা হয়েছে দৈনিক ৮ হাজারের বেশি পর্যটক কিছুতেই পা রাখতে পারবে না এই দ্বীপে।

প্রাগ: কী কারণে পার্টিপ্রিয় পর্যটকদের কাছে অতি পছন্দের গন্তব্য চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগ? উত্তরটি খুব সহজ। এখানকার খোলামেলা বার, আর সেখানকার সস্তা বিয়ার। একই সাথে এত আনন্দের ফোয়ারা ছোটে যেখানে, জনসমাগম সেখানে না হয়ে কি আর পারে! কিন্তু মদ্যপরা তো আর শুধু মদ পান করেই সন্তুষ্ট থাকে না। তারা যে মাতাল হয়েছে সেটি মানুষকে চিৎকার করে জানাতেও পছন্দ করে। এভাবে বিদেশী মদ্যপরা দূষিত করে ফেলছিল প্রাগ শহরের রাতের পরিবেশ।

ভেনিস: ইতালির ভাসমান শহর ভেনিস। এই শহর যে ডুবে যাচ্ছে, তা মোটামুটি সকলেরই জানা। প্রতি বছর অন্তত একশোবার বন্যা হয় এখানে। তবে সেই বন্যা তো প্রাকৃতিক। এছাড়া আরেকটি কৃত্রিম বন্যাতেও প্রতিনিয়ত ডুবতে ডুবতে ভাসতে থাকে এই শহর, এবং একদিন হয়তো পুরোপুরি ডুবে যাবে। সেটি হলো পর্যটকদের বন্যা। অতি উৎসাহী পর্যটকরা এই শহরে এসে ওয়াটার ট্যাক্সি ও ক্রুজ শিপে করে ঘুরে বেড়াতে থাকে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানে। অথচ তারা বুঝেও বুঝতে চায় না যে, তাদের কারণেই এসব স্থানের অবকাঠামো দিন দিন আরো বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। বিশেষত ক্রুইজ শিপের কারণে ভয়াবহ দূষণের শিকার হচ্ছে শহরটির জলীয় ও বায়বীয় পরিবেশ। ইদানিং এসব নিয়ন্ত্রণে বেশ কঠোর ভূমিকা পালন করছে শহরের প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

10 − four =