Templates by BIGtheme NET
২ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ১৭ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিবিধ » যেসব প্রাণী নিজ প্রজাতির মাংস খায়- পর্ব ১ (ভিডিওসহ)

যেসব প্রাণী নিজ প্রজাতির মাংস খায়- পর্ব ১ (ভিডিওসহ)

প্রকাশের সময়: আগস্ট ২৪, ২০১৯, ১২:৫২ অপরাহ্ণ

মোহাম্মাদ এনামুল হক এনা: মানুষ মানুষকে মেরে উৎসব করছে, উল্লাস করে তার মাংস খাচ্ছে। কখনো আগুনে পুড়িয়ে আবার কখনো কাঁচাই। সিনেমায় প্রায়শই দেখা যায় এসব দৃশ্য। এসব হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য দেখার পর সবার মনেই হয়তো প্রশ্ন উকি দেয়- বাস্তবেও কি মানুষ মানুষের মাংস খেতে পারে? আশ্চর্য হলেও সত্য এটাই যে- মানুষ মানুষের মাংস খায়।

কোনো প্রাণী যখন তারই প্রজাতির অন্য প্রাণীর মাংস বা শরীরের কোনো অংশ খায় সেটিকে ক্যানিবালিজম বলে। এটি একটি সাধারণ পরিবেশগত বিষয়। এ পর্যন্ত ১৫’শ এরও অধিক প্রজাতির মধ্যে ক্যানিবালিজমের প্রমাণ মিলেছে।

নিজ প্রজাতির প্রাণীদের খেয়ে ফেলা প্রাণীজগতে নতুন কিছু নয়। রাক্ষুসে মাংসখেকো প্রাণীটিকে বলা হয় ক্যানিবাল প্রাণী। এ লেখায় আমরা প্রাণীজগতের সেই সব রাক্ষুসে ক্যানিবাল প্রাণীদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবো ধারাবাহিকভাবে পর্ব আকারে। আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

মাকড়শা: মাকড়শার বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে স্ত্রী মাকড়শা যৌন সঙ্গম চলাকালীন কিংবা সঙ্গমের পর তার পুরুষ সঙ্গীকে খেয়ে ফেলে। সাধারণত পুরুষ মাকড়শার তুলনায় স্ত্রী মাকড়শা অনেক গুণ বড় হয়ে থাকে। এ সুবিধা নিয়েই স্ত্রী মাকড়শা তার সঙ্গীকে খেয়ে ফেলতে পারে।

ক্যানিবাল মাকড়শা; ওহিও’র মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক শন উইল্ডার এবং অ্যান রিপস্ট্রা বলেন, যদি পুরুষ মাকড়শার তুলনায় স্ত্রী মাকড়শা আকারে বড় হয় তাহলে স্ত্রী মাকড়শা সহজেই সেটিকে শিকার করতে পারে এবং খেতে পারে। পুরুষ মাকড়শা খেয়ে ফেলার পেছনে তারা দুটি কারণ উল্লেখ করেন।১. স্ত্রী মাকড়শা ক্ষুধার্ত থাকে এবং ২. পুরুষ মাকড়শার ছোট আকারের কারণে স্ত্রী মাকড়শা তাদের খাওয়ার সুযোগ পায়।

তারা আরো দেখেছেন যে, পুরুষ মাকড়শার আকার যদি বড় হয় তাহলে তাদেরকে খেতে পারে না স্ত্রী মাকড়শা। তবে যেসব পুরুষ মাকড়শার আকার স্ত্রী মাকড়শার চেয়ে ছোট তাদের প্রায় ৮০ শতাংশই স্ত্রী মাকড়শার পেটে চলে যায়। যৌন সঙ্গমের পর বা চলকালীন এ ধরনের খেয়ে ফেলার ঘটনার কারণে তারা একে সেক্সুয়াল ক্যানিবালিজম হিসেবে উল্লেখ করেন।

সেক্সুয়াল ক্যানিবালিজমের কারণে পুরষ মাকড়শার কাছে যৌন সঙ্গম করা একটি ভয়ের ব্যাপার। পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক অ্যানিমেল বিহ্যাভিয়ার জার্নালে তাদের একটি গবেষণাপত্র জমা দেন। সেখানে তারা উল্লেখ করেছেন, স্ত্রী মাকড়শা সঙ্গমের আগে, সময় বা পরে পুরুষ মাকড়শাকে খেয়ে ফেলে। এর কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, বেশি ডিম পাড়া এবং তা থেকে বেশি বাচ্চা উৎপাদনের জন্যই মূলত স্ত্রী মাকড়শা পুরুষ মাকড়শাকে খেয়ে থাকে। তবে এ ধরনের ক্যানিবালিজমের ঘটনা মাকড়শার সব প্রজাতির মধ্যে ঘটে না।

স্যান্ড টাইগার শার্ক: স্যান্ড টাইগার শার্ক ‘গ্রে নার্স শার্ক’ নামেও পরিচিত। স্যান্ড টাইগার শার্কই পৃথিবীর একমাত্র শার্ক যারা গর্ভে থাকা অবস্থাতেই তাদের সহোদরদের গিলে খায়। শার্ক গবেষক ডেমিয়ান চাম্পান জানান, একবার এক শার্কের গলায় আরেকটি সহোদর শার্কের ভ্রুণ পাওয়া যায়। আসলে ঐ শার্কটি ভ্রুণটিকে গিলে খাচ্ছিলো। অপেক্ষাকৃত বড় ভাই/বোনটিই ছোট ভাই/বোনকে খেয়ে থাকে।

কিন্তু কেন ভ্রুণ অবস্থাতেই নিজের সহোদরকে গিলে খায় শার্ক? আসল ব্যাপার হচ্ছে ভ্রুণ অবস্থায় শার্ক তার আপন ভাই-বোনদের খায় না। স্ত্রী শার্ক একই সাথে একাধিক পুরুষ শার্কের সাথে মিলিত হয়। ফলে শার্কের গর্ভে একাধিক পুরুষ শার্কের সন্তান থাকে। অন্য পিতার সন্তানকেই সাধারণত খেয়ে থাকে অপেক্ষাকৃত বড় সন্তান। এটি বিজ্ঞানীদের অনেক বড় একটা সাফল্য ছিলো যে, তারা জানতে সক্ষম হয়েছেন একটি স্ত্রী শার্ক একইসাথে একাধিক পুরুষ শার্কের সন্তান ধারণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

fifteen + three =