Templates by BIGtheme NET
২ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ১৭ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিবিধ » ৫২ বিলিয়ন মানুষ নিহত! যুদ্ধের চেয়েও বেশি ধ্বংসাত্মক মশা

৫২ বিলিয়ন মানুষ নিহত! যুদ্ধের চেয়েও বেশি ধ্বংসাত্মক মশা

প্রকাশের সময়: আগস্ট ২৪, ২০১৯, ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ

মোহাম্মাদ এনামুল হক এনা: আজ থেকে ১৯ কোটি বছর আগে মশার উদ্ভব ঘটে। এখনকার মত সেকালেও মশা গণবিধ্বংসী অস্ত্র বহন করত। তারা ডায়নোসরদের নির্মূল করে। মশা ম্যালেরিয়া ও কৃমিসহ মারাত্মক রোগ সূচিত করে, এমনকি অত্যন্ত পরাক্রমশালী জন্তুও মশার আক্রমণ থেকে বাঁচতে পারে না। ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু মুহূর্তে অদৃশ্য খেলোয়াড়ের মত হানা দিয়েছে মশা।

ম্যালেরিয়া রোগ আনার মাধ্যমে মশা মানব ইতিহাসের গতিপথ পাল্টে দিয়েছে। মশার হাত থেকে শুধু সাধারণ মানুষ নয়- সৈন্যবাহিনীও রক্ষা পায়নি। যেমন এই ম্যালেরিয়াই থামিয়ে দিয়েছিল চেঙ্গিস খানের পশ্চিমমুখী লুন্ঠন। একটি নতুন বইতে এ কথা বলা হয়েছে।

আমরা যদি যুক্তিবাদী হই, তাহলে সাগর সৈকতে হাঙরের হামলায় মৃত্যুভীতির চেয়েও আমাদের পিছন দিকের হামলা অর্থাৎ মশার হামলাকে বেশি ভয় করতে হবে। যদিও মহাসাগরগুলোতে সাদা হাঙরের মত বাস্তব জীবনের দৈত্য রয়েছে। কিন্তু আমাদের বাড়ির আঙিনা ও পার্কগুলো মানব জীবনের প্রাণঘাতী শত্রু মশককুলের আবাসে পরিণত হয়েছে। ইতিহাসের অধ্যাপক টিমোথি সি.ওয়াইনগার্ড  ৬ আগস্ট প্রকাশিত তার নতুন বই ‘দি মসকুইটো : এ হিউম্যান হিস্টরি অব আওয়ার ডেডলিয়েস্ট প্রিডেটর’-এ এই উড়ন্ত পতঙ্গকে ‘মানব বিনাশকারী,’ ‘ভয়ঙ্কর মৃত্যুদূত’, ‘বিশ্বের মারাত্মক প্রাণ সংহারক’ বলে বর্ণনা করেছেন।

মশার কামড়ে নিহতদের সংখ্যাই তাদের স্বরূপকে প্রকাশ করে। ওয়াইনগার্ড বলেন, মানব ইতিহাসে অন্য যে কোনো ঘটনার চেয়ে মশা সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ হত্যা করেছে। পরিসংখ্যানগত তথ্যে দেখা যায় যে, এ পর্যন্ত বিশ্বে যত লোকের মৃত্যু হয়েছে তার অর্ধেকেরই হয়েছে মশার দ্বারা। অন্য কথায়, বিশ্বের দুই লাখ বছরের ইতিহাসে মশা প্রায় ৫২ বিলিয়ন মানুষকে হত্যা করেছে। গত বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে বিশ্বে সাড়ে ৮ লাখ মানুষ মেরেছে মশা । তবে বার্ষিক গড় মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। পক্ষান্তরে হাঙরের হামলায় নিহতের সংখ্যা মাত্র ১০ জন। এ মুহূর্তে বিশ্বে ১১০ ট্রিলিয়ন মশা ঘুরে ফিরে। এই পতঙ্গগুলো ১৫টি ভয়ঙ্কর রোগ লালন করে। সবচেয়ে ভয়াবহ দুটি রোগ হচ্ছে ম্যালেরিয়ার ‘বিষাক্ত যমজ’ ও হলুদ জ্বর।

মশা আলেকজান্ডার দি গ্রেটের পতন ঘটাতে সাহায্য করেছিল। ওয়াইনগার্ড বলেন, আলেকজান্ডার ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন যা পূর্ব ও পশ্চিমকে একত্রিত করতে সক্ষম হওয়ার আগেই তার প্রাণ কেড়ে নেয়। চেঙ্গিস খান ও তার মঙ্গোল সেনাবাহিনীর অগ্রাভিযান বন্ধে ম্যালেরিয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। ম্যালেরিয়া পাশ্চাত্যকে মঙ্গোল বাহিনীর হাতে সম্পূর্ণ পরাজিত হওয়া থেকে রক্ষা করে। ম্যালেরিয়া তার শক্তির ব্যাপক প্রয়োগ ঘটায় এবং মঙ্গোলদের বিজয় থামিয়ে দিয়ে তাদের ইউরোপ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।

আমেরিকার বিপ্লব ও গৃহযুদ্ধেও মশার ভুমিকা ছিল। ম্যালেরিয়া ওয়াশিংটনের সেনাবাহিনীকে ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে আসে। কারণ, আমেরিকানরা ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক নিলেও বেশির ভাগ ব্রিটিশ সৈন্য ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক গ্রহণের বাইরে ছিল। ফলে তা আমেরিকানদের জন্য বিরাট সুবিধা বয়ে আনে।

ওয়াইনগার্ড আরো বলেন, মশা সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতনও ঘটিয়েছে। বহু স্মরণীয় ও প্রধান যুদ্ধে মশা ভুমিকা পালন করেছে। ম্যালেরিয়ায় অসংখ্য সৈন্য হত্যা করে প্রসিদ্ধ জেনারেল ও সামরিক পরিকল্পকদের ব্যর্থতার গ্লানিতে জর্জরিত করেছে। মশার হাত থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য বিশ্বে প্রতি বছর ব্যয় হচ্ছে ১১ বিলিয়ন ডলার যার অধিকাংশই কাজে আসছে না। তাই মশা আমাদের হত্যা করা অব্যাহত রেখেছে।

বিশ্বে নানা কারণে মানুষের মৃত্যু ঘটে থাকে। এর মধ্যে মশার কারণে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। একটি পরিসংখ্যানে প্রতি বছর বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা দেখানো হয়েছে। এতে বলা হয় : প্রতি বছর মশার কারণে ২০ লাখ, মানুষের হাতে পৌনে পাঁচ লাখ, সাপের কামড়ে ৫০ হাজার, স্যান্ড ফ্লাই-এর কামড়ে ২৫ হাজার, কুমিরের আক্রমণে এক হাজার, জলহস্তির আক্রমণে ৫০০, হাতির আক্রমণে ১০০, সিংহের আক্রমণে ১০০, হাঙরের আক্রমণে ১০ ও নেকড়ের আক্রমণে ১০ জন মারা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

sixteen + eighteen =