Templates by BIGtheme NET
২ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ১৭ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
Home » অর্থনীতি » পেঁয়াজের বাড়তি দরে ভোক্তার নাভিশ্বাস: আদা ও রসুনের দামও নাগালের বাইরে

পেঁয়াজের বাড়তি দরে ভোক্তার নাভিশ্বাস: আদা ও রসুনের দামও নাগালের বাইরে

প্রকাশের সময়: আগস্ট ২৪, ২০১৯, ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ

কোরবানির ঈদের আগে স্থিতিশীল থাকলেও গত সপ্তাহ থেকে বাড়তে শুরু করেছে দেশি ও আমদানি পেঁয়াজের দাম। এ সপ্তাহে খুচরা বাজারে আরেক দফা বেড়ে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

দুই দফায় দাম বাড়ায় পেঁয়াজ কিনতে হিমশিম খাচ্ছে ভোক্তারা। এ ছাড়া আদা ও রসুনের সবজির দামও নাগালের বাইরে। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নয়াবাজার ও রামপুরা বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ সব তথ্য জানা গেছে।

এ সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজ ৫৫-৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা দুই সপ্তাহ আগে ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া আমদানি করা পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। যা গত সপ্তাহে ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়। আর দুই সপ্তাহ আগে ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ সপ্তাহে আদা ও রসুন বাড়তি দরে বিক্রি হয়েছে। শুক্রবার মানভেদে চীনা আদা প্রতি কেজি ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর ইন্দোনেশিয়ার আদা ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আমদানি করা রসুন ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর দেশি রসুন মানভেদে ১৫০-১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. সোনাই আলী বলেন, পাইকারি বাজারের দুই সপ্তাহ আগে আমদানি ও দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়তি। এর কারণে বেশি দাম দিয়ে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

রাজধানীর নয়াবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. শাকিল বলেন, বাজারে সব কিছুর দাম বেশি। সবচেয়ে সবজি ও পেঁয়াজ কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে খাবারের খরচ মেটাতে গিয়ে ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচে টান পড়বে। কারণ বেতন তো আর বাড়ে না। বাড়ে শুধু নিত্যপণ্যের দাম।

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিলিতে লাগামহীনভাবে বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। কয়েকদিনের ব্যবধানে এ বন্দরে কেজি প্রতি পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। আর দাম বাড়ার কারণ হিসেবে পাইকাররা বলছেন, ভারতে বন্যার অজুহাত দেখিয়ে আমদানিকারকরা দাম বাড়িয়েছে। পেঁয়াজ কিনতে এসে বিপাকে পড়েছে পাইকাররা। এর প্রভাব পড়ছে খুচরা পর্যায়েও। হিলিস্থল বন্দরের আড়তগুলোতে ঈদের আগে ভারত থেকে আমদানি প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হতো ২২-২৫ টাকা। আর ১০-১২ দিনের ব্যবধানে সেই আড়তে বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হিলিতে পেঁয়াজ কিনতে আসা রংপুরের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমে আসায় ভারতীয় পেঁয়াজের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। আর এ সুযোগে কয়েকদিনের ব্যবধানে হিলির আড়তগুলোতে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, বেশি দামে কেনার কারণে তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে ভোক্তা পর্যায়ে। তবে হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোর্শেদুর রহমান জানান, মহারাষ্ট্র ও উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন প্রদেশে ব্যাপক বন্যায় পেঁয়াজের আবাদ নষ্ট হয়ে গেছে। এজন্য সেখানে পেঁয়াজের সংকট চলছে। দামও বেড়ে গেছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, শুক্রবার চট্টগ্রামের খুচরা বাজারগুলোতে দেশি বড় পেঁয়াজ ৬০ টাকা ও ছোট পেঁয়াজ ৫৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়, যা ঈদের আগে ছিল ৪০ টাকা। আর ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। ঈদের আগে এ পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শুধু পেঁয়াজ নয়, আদা ও রসুনের দামও চড়া।

ঈদের আগে থেকে চড়া দামে আদা ও রসুন বিক্রি হচ্ছে। এখন বাজারে প্রতি কেজি চীনা আদা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা আর ইন্দোনেশিয়ার আদা ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চট্টগ্রাম খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও সাব্বির ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ ছগির আহমদ যুগান্তরকে বলেন, পেঁয়াজের দাম শুধু চট্টগ্রামে বাড়েনি। ভারতে বন্যার কারণে সে দেশেও পেঁঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এছাড়া ভারতের স্বাধীনতা দিবস ও আমাদের কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পরিবহন চলাচল এক সপ্তাহ বন্ধ ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

9 − 7 =