Templates by BIGtheme NET
২ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ১৭ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
Home » মতামত » বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু আর মুক্তিযুদ্ধ—এই শব্দ তিনটি মূলত সমার্থক?

বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু আর মুক্তিযুদ্ধ—এই শব্দ তিনটি মূলত সমার্থক?

প্রকাশের সময়: আগস্ট ১৫, ২০১৯, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ

মোহাম্মাদ এনামুল হক এনা: ‘আমি হিমালয় দেখিনি, আমি শেখ মুজিবকে দেখেছি।’ কিউবার বিপ্লবী প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রোর বিখ্যাত উক্তি। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্ট (১৯৭২ সালের এক সাক্ষাত্কারে) বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আপনার শক্তি কোথায়?’ বঙ্গবন্ধু সে প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আমি আমার জনগণকে ভালোবাসি।’ ‘আর আপনার দুর্বল দিকটা কী?’ বঙ্গবন্ধুর উত্তর, ‘আমি আমার জনগণকে খুব বেশি ভালোবাসি।’ এই হলেন বঙ্গবন্ধু। জনগণের অন্তর্নিহিত শক্তির ওপর অপার আস্থা-বিশ্বাস, অসাম্প্রদায়িক, মানুষের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা, মমত্ববোধ, ত্যাগ স্বীকার এবং সহমর্মিতার বিরল দৃষ্টান্তসমৃদ্ধ মানুষ ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন লড়েছেন বাংলার স্বাধীনতা ও বাঙালির জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। স্কুলজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ ঘটে। নিজেই নিজেকে রাজনৈতিকভাবে এবং গণমানুষের অধিকার আদায়ের প্রস্তুতের আদর্শে গড়ে তোলেন। জেল-জুলুম, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার—সব কিছু সহ্য করেছেন; কিন্তু বাংলার মানুষের সঙ্গে কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। তাঁর লক্ষ্য ছিল বাংলার মানুষের মুক্তি। বাঙালি উন্নত জীবনের অধিকারী হোক। বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। বাঙালি জাতিসত্তাকে প্রতিষ্ঠা করুক। একজন মহান নেতা হওয়ার সব গুণই আমরা তাঁর মধ্যে খুঁজে পাই।

বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু আর মুক্তিযুদ্ধ—এই শব্দ তিনটি মূলত সমার্থক? এই তিনটির যেকোনো একটিকে আলাদা করে বিশ্লেষণ করার কোনো সুযোগ নেই। দেশ ও মানুষকে তিনি তাঁর হৃদয়ের আধেয় করে একজন আত্মত্যাগী দেশপ্রেমিক নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দুই দশকে নানাভাবে ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। হত্যার পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তারা স্বভাবতই বুঝতে পেরেছিল তীব্র প্রতিবাদ না হলেও স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু শব্দগুলো ঠিকই রয়ে যাবে ইতিহাসের পাতায়। ফলে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে বঙ্গবন্ধু এবং ইতিহাস বিকৃত করা ছাড়া উপায় ছিল না?

জাতির জনকের স্বপ্নের পূর্ণ বাস্তবায়ন করছেন তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজে আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দায়িত্ব। অনেকেই রয়েছে জাতির জনক ও তাঁর রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে তাদের তেমন কোনো ধারণা নেই। বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। তাঁর আদর্শ পুরো ধারণ করতে হবে। সেই আদর্শ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো মজবুত করতে হবে। তাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ পুরো ধারণ ছাড়া আমাদের জন্য বিকল্প কোনো পথ নেই।

জাতির জনকের ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে এগিয়ে চলছে জননেত্রী শেখ হাসিনা। সেই ঝাণ্ডাকে অনেকেই ধ্বংস করতে চায়। এ জন্য তাদের ষড়যন্ত্রও গভীর। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে নেই। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ যখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন তাঁকে হত্যা করা হয়। এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে সেই উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে ষড়যন্ত্র চলছে।

বঙ্গবন্ধু তাঁর সমগ্র রাজনৈতিক জীবনে সম্পদের সুষম বণ্টনের কথা বলেছেন, সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের জনসভায় তিনি বলেছিলেন- ‘কোনো ‘ভুঁড়িওয়ালা’ এ দেশে সম্পদ লুটতে পারবে না। গরিব হবে এই রাষ্ট্র এবং এই সম্পদের মালিক, শোষকরা হবে না।’ বঙ্গবন্ধুর সেই ১৯৭২ সালের বক্তব্যের প্রতিফলন ঘটতে শুরু করেছে বঙ্গতনয়া শেখ হাসিনার ২০০৯ সালে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর থেকে। আজ ২০১৯ সালে এসে আমাদের মাথাপিছু আয় নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তথাপিও এ কথা বলতেই হবে যে, যতদিন সমগ্র বাংলার ছাত্রসমাজ বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বানে জাগরিত হবে না ততদিন নিখাদ অর্থনৈতিক সাম্যের সমাজ বিনির্মাণ করা যাবে না।

১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকা স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে বলেছিলেন- ‘আমাদের অস্ত্রের সংগ্রাম শেষ হয়েছে। এবার স্বাধীনতার সংগ্রামকে দেশ গড়ার সংগ্রামে রূপান্তরিত করতে হবে। মুক্তির সংগ্রামের চেয়েও দেশ গড়ার সংগ্রাম কঠিন’। দেশ গড়ার সংগ্রাম আজো শেষ হয়নি। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও দেশবিরোধী গোষ্ঠী স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার চলমান প্রক্রিয়াকে স্তব্ধ করে দিয়ে শ্মশানাবৃত বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করতে চায়। তারা প্রমাণ করতে চায় বাংলাদেশের জন্ম একটি ঐতিহাসিক ভুল। আজ বাংলাদেশে নব্য রাজাকারদের ক্যাঙ্গারুদৌড় স্পষ্টতই প্রতীয়মান। আর এই সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে যিনি প্রাণান্ত লড়াই করে যাচ্ছেন, তিনি গণতন্ত্রের লৌহকন্যা শেখ হাসিনা। এই বিরাজমান পরিস্থিতিতে তরুণ সমাজের নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়া। এখানে খুব সচেতনভাবে বলে রাখা প্রয়োজন যারা ‘জয় বাংলা’র পরে ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে দ্বিধা বোধ করেন তারা অসম্পূর্ণ বাংলাদেশকে ধারণ করেন।

আজ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের শোকাবহ এই কালো দিবসে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমণ্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে।

পরিচিতি: সাংবাদিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twelve + five =